মূল বিষয়বস্তুতে যান

G&RLeaderboardAd

LeadLine


আপনি এখানে

Contenttopcol1-1

দেশে প্রতিবছর তামাক সেবনে মারা যাচ্ছে ৫৭ হাজার মানুষ

রবি, 01/29/2012 - 22:55

স্বাস্থ্য♦ প্রতিবছর দেশে তামাক সেবনে মারা যাচ্ছে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ। আর পঙ্গুত্ববরণ করছে তিন লাখ ৮২ হাজার। আর তামাকের কারণে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার পিছনে সরকারের প্রতি বছরে ব্যয় হচ্ছে ১১ হাজার কোটি টাকা। আর এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে সাত হাজার কোটি টাকা। বাড়তি চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় অন্য খাত থেকে এনে। এসব তথ্যই জানিয়েছে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ।

বতর্মানে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীর পরিমাণ চার কোটি ১৩ লাখ। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো না বুঝেই কিশোর বয়স থেকে ধূমপান শুরু করে-যা থেকে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মাদকসেবনের দিকে। শুধু তাই নয়, ধূমপানের কারণে নানা কঠিন রোগে আক্রান্ত হন এসব ধূমপায়ীরা। যেসব রোগের শেষ ফলাফল কেবলই মৃত্যু। প্রতিবছর দরিদ্র মানুষরা তাদের আয়ের বিরাট অংক খরচ করে এই ধূমপানের পেছনে। দরিদ্র ধূমপায়ীরা গড়ে প্রতিদিন ধূমপানের জন্য খরচ করেন সাত কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যা বছরে মোট ব্যয় দাঁড়ায় দুই হাজার ৯১২ কোটি টাকা। অথচ প্রতিবছর দেশের ৭২ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগে। এই অর্থ যদি খাদ্য উৎপাদন ও শিশুখাদ্যের পেছনে ব্যয় করা যেত, তাহলে এই সমস্যা অনেকটা দূর হয়ে যেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যান্য কৃষিদ্রব্যের চাষের বেলায় যেসব সুবিধা পাওয়া না যায়, সেসব সুবিধাসহ সকল প্রকারের সুবিধা পাওয়া যায় তামাক চাষের ক্ষেত্রে। তাই বেড়ে যাচ্ছে তামাক চাষের পরিমাণ। কমে যাচ্ছে দেশের কৃষিজমি। ২০০৮-০৯ সালে পুরো দেশে তামাক চাষ হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ একর জমিতে। যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ এক হাজার ২৭০ একর। ২০১০ সালের উবিনিগ এর এক পরিসংখ্যানে এ হিসাব পাওয়া গেছে। তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরাশক্তি কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ বছর একটি হলে জমিটি চাষের অযোগ্য হয়ে যাবে। এর ফলে মারাত্তকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের কৃষি খাত। তামাক সেবনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের নারী ও শিশুরা। মঙ্গা এলাকায় তামাকের বাণিজ্য বেশি হওয়ায় সেখানকার শিশুদের স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বেশিরভাগ দরিদ্র পরিবার তাদের শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে পাঠাচ্ছেন বিড়ি কারখানায়। সেসব শিশুর না হচ্ছে মানসিক বিকাশ, না শারীরিক উন্নয়ন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহামান্য হাইকোর্ট বিড়ি কারখানায় শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০০৯ এর হিসাব অনুযায়ী এই খাতে নিয়োজিত আছে দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ জন। কিন্তু বিড়ি কারখানার মালিকরা বরাবরই বলে আসছেন এই কারখানাগুলোতে জড়িত আছে ২৫ লাখের অধিক শ্রমিক। এমন ভ্রান্তধারণা দেয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার যাতে এই কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাই এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বিড়ি কারখানার মালিকরা। বিশেষজ্ঞরা আরো মন্তব্য করেছেন, এই বিড়ি কারখানায় যে খরচ হচ্ছে তা দিয়ে দুগ্ধজাত, পোল্ট্রি আরো এমন সব জনকল্যাণমূলক শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব। আর তা করা সম্ভব হলে, বিশ্বের কাছে দেশের ভাব-মর্যাদা বেড়ে যাবে বহুগুণে। দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিড়ির পেছনে ব্যয়কৃত অর্থ দিয়ে ৪৮৫ কোটি ডিম বা ২৯ কোটি কেজি ওজনের মুরগি বা ২৯ লাখ গরু বা ১৪ লাখ ৬০ হাজার টন চাল উৎপাদন করা যাবে বা ২৩ লাখ রিকশা ও ১১ লাখ মুদি দোকানের ব্যবসা করা সম্ভব। ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও গবেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিড়ি কারখানা বন্ধ হলে বেকার সমস্যা বাড়বে এটা ঠিক নয়, কারণ সেই অর্থ উৎপাদনশীল জনকল্যাণমুখী শিল্পে ব্যয় করা হলে বরং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বহুগুণে বেড়ে যাবে।

শ্রেণীবিভাগ: 

HighlightBottom1

Premium Drupal Themes by Adaptivethemes