বিশ্বকাপে বড় কিছুর প্রত্যাশায় ইরান, তারেমিদের ঘিরে উচ্ছ্বাস

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ইরান। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এই দলটির লক্ষ্য এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া। অভিজ্ঞ কোচ আমির গালেনোইর অধীনে ভারসাম্যপূর্ণ ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে ‘টিম মেলি।

গোলবারের দায়িত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ আলিরেজা বেইরানভান্দ। সঙ্গে রয়েছেন হোসেইন হোসেইনি ও পায়াম নিয়াজমান্দ। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন এহসান হাজসাফি, রামিন রেজায়িয়ান, মিলাদ মোহাম্মাদি ও শুজা খলিলজাদেরা।

মিডফিল্ডে সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতার মিশেল হিসেবে থাকছেন আলিরেজা জাহানবাখশ, সাঈদ এজাতোলাহি, সামান ঘোদ্দোস, রৌজবেহ চেশমি ও মোহাম্মদ মোহেবি। আর আক্রমণভাগে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মেহেদি তারেমি। তার সঙ্গে গোলের দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন আলি আলিপুর, শাহরিয়ার মোগানলু ও আমিরহোসেইন হোসেইনজাদে।

গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। অতীতের হতাশা পেছনে ফেলে এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরা সংস্করণ তুলে ধরতে চায় ইরান। তারকাখচিত এই দলটি নকআউট পর্বে পৌঁছে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

তৃতীয় ধাপে ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আরও ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। আগামী ১৫ জুন এই তালিকা প্রকাশ করবে দলটি।

আজ সোমবার বিকেলে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ২৯ মার্চ প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে এনসিপি। পরে গত ১০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

সেদিন প্রার্থী ঘোষণার সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম ছাড়াও কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এস এম সুজা উপস্থিত ছিলেন।

নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলো ব্রাজিল

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামা মিসরের বিপক্ষে খেলতে পারেননি নেইমার। মাংসপেশীর চোট ভুগছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে আসছে, তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছিল। অবশেষে পাওয়া গেল স্বস্তির খবর। কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে তার, এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিল।

গত মাসের স্ক্যানে ধরা পড়েছে, গ্রেড টু মাত্রায় পেশী ছিড়ে গেছে নেইমারের। ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য সাইডলাইনে যেতে হয়েছে।

গতকাল সোমবার আরেকটি স্ক্যান করানো হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে, ‘পরীক্ষায় তার চিকিৎসায় প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরোগ্য ও শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই সময়ের মধ্যে ফিট হওয়ার লড়াই করছেন নেইমার।

দোহারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির দোহার উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন হয়ে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ জানান, সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য সরকারের

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (০৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নূরুল হক নূর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ইয়েমেন থেকে মিসাইল নিক্ষেপ, ইসরায়েলে বাজছে সতর্কতামূলক সাইরেন

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে মিসাইল ছুড়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এ মিসাইলের কারণে তেলআবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া মিসাইল প্রতিহতে কাজ করছে তারা।

গত রবিবার (৭ জুন) যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাব দিতে রাতে ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে। এরপর আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসপাহানসহ তিনটি শহরে পাল্টা মিসাইল হামলা চালায়।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েল থেকে ইয়েমেনের দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও হুতিরা সেখান থেকেই মিসাইল হামলা চালায়।

ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস সফর শেষে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস সফর শেষে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৫ জুন) দেশে ফিরে গতকাল রোববার (৭ জুন) রাজধানীর মিরপুরে নিজ কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি।

গত ২৭ মে প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রফেসর ইউনূস। প্যারিস থেকে আমস্টারডাম পৌঁছান গত ৩১ মে। সেখানে সামাজিক ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যুব উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রফেসর ইউনূস। এরপর নেদারল্যান্ডস সফরেও প্রফেসর ইউনূস একাধিক বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সফরে প্রফেসর ড. ইউনূসের সঙ্গে আরও ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ ও ওয়াই ওয়াই ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা সজীব এম খায়রুল ইসলাম।

সিগারেটে কর নয় বাড়বে দাম, স্বর্ণ বিক্রিতে ‘গেইন ট্যাক্স’

ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর ঝলমলে স্বর্ণালংকার— দুই ভিন্ন খাত থেকে কর আহরণে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। সেক্ষেত্রে সিগারেটে কর না বাড়িয়ে সরাসরি বাড়ানো হতে পারে সিগারেটের দাম। অন্যদিকে, কর কাঠামোয় আসতে পারে স্বর্ণ বিক্রির নতুন হিসাব। প্রথমবারের মতো করদাতার স্বর্ণালংকার বিক্রির ওপর ‘গেইন ট্যাক্স’ বা লাভকর বসতে পারে।

দাম বাড়ানো ছাড়াও তামাক খাত থেকে সঠিকভাবে রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি পৃথক নীতিমালার প্রস্তুতি চলছে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। এই নীতিমালার আওতায় তামাক খাতে কর ফাঁকি, নকল পণ্য ও অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে কিউআর কোডসহ ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নতুন, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা, মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক্স খাতের বিনিয়োগকারী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানি এবং স্থানীয় বিনিয়োগে বড় ধরনের কর ছাড় আসতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সিগারেটের দাম বাড়ানো ও অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আগামী অর্থবছরে এই খাত থেকে বাড়তি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতে পারে। আসন্ন বাজেটে সিগারেটের প্যাকেট প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। অবৈধ ও নকল সিগারেট এবং জাল স্ট্যাম্প রোধে এয়ার ও কিউআর কোড বসবে। এছাড়া, সিগারেট ফ্যাক্টরি ও সরবরাহ ব্যবস্থা ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে অবৈধ ও নকল সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। অন্যদিকে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কর ফাইলে থাকা স্বর্ণ বিক্রির লাভের (গেইন) ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা হতে পারে।

দাম বৃদ্ধিতে সিগারেট থেকে আসতে পারে ১০ হাজার কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর নতুন করে কর না বাড়িয়ে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সিগারেটে প্রায় ৮৩ শতাংশ কর আরোপ রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। ফলে সরকার শুল্ক-কর না বাড়িয়ে আসন্ন বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু দাম বাড়ানোই নয়, সিগারেটের সুরক্ষা ও অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটে বেশকিছু কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এমনকি সিগারেট খাত নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালাও আসতে পারে। সিগারেটের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য নতুন পদক্ষেপের কারণে আগামী বাজেটে সিগারেট খাত থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসবে বলে ধারণা করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ওপর নতুন করে শুল্ক-কর না বাড়লেও প্যাকেট প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। বর্তমানে এই খাতে সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ কর চালু রয়েছে। শুল্ক না বাড়িয়ে শুধু মূল্যবৃদ্ধির এই বিশেষ উদ্যোগ এবং অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে

সিগারেটের স্ট্যাম্পে বসবে কিউআর কোড, কারখানায় ক্যামেরা

এনবিআর সূত্র জানায়, অবৈধ সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণসহ সঠিকভাবে রাজস্ব আদায়ে একটি নতুন কাঠামো বা নীতিমালা করা হচ্ছে, যা আসন্ন বাজেট থেকে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। বর্তমানে বাজারে থাকা দেশি ও বহুজাতিক— সব কোম্পানির বিরুদ্ধে কম-বেশি নকল বা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অনেক অসাধু চক্র রাজস্ব ফাঁকি দিতে নকল ও অবৈধ সিগারেটে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তা বাজারজাত করে।

এই জাল ও নকল স্ট্যাম্পের ব্যবহার বন্ধ করতে সিগারেটের স্ট্যাম্পে এয়ার ও কিউআর কোড ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এছাড়া, সিগারেট খাতকে ডিজিটাল নজরদারির অংশ হিসেবে ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, সিগারেটের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে। এর অংশ হিসেবে সিগারেট ফ্যাক্টরিগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে, যা সরাসরি এনবিআর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। মূলত ভ্যাট আইন সংশোধনের মাধ্যমে সিগারেট খাতকে সুরক্ষা ও সঠিক রাজস্ব আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

সিগারেট পেপার মেশিনারিজ আমদানিতে লাগবে ভ্যাট নিবন্ধন

সিগারেটের বাজারে বহু প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার ভ্যাট নিবন্ধন না নিয়েই বিদেশি এবং দেশি ব্র্যান্ডের নকল ও অবৈধ সিগারেট উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা সিগারেট পেপার ব্যবহার করে। নকল ও অবৈধ এসব সামগ্রীর কারণে বৈধ সিগারেটের বাজার সংকুচিত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তামাক খাতে কর ফাঁকি, জাল স্ট্যাম্পের ব্যবহার এবং অবৈধ বাজার রুখতে বাজেটে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এনবিআর থেকে সরাসরি তদারকির জন্য প্রতিটি সিগারেট ফ্যাক্টরিতে সিসি ক্যামেরা বসানোসহ আধুনিক ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

এই বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট অফিসগুলোর অভিযান অব্যাহত থাকলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তাই আসন্ন বাজেটে সিগারেট পেপার আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত সিগারেট কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ সিগারেট পেপার আমদানি করতে পারবে না। বর্তমানে সিগারেট পেপার আমদানিতে মোট শুল্ককর ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, আসন্ন বাজেটে তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হতে পারে। একই সাথে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত মেশিনারিজ আমদানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে।

স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স

সাধারণত করদাতারা তাদের আয়কর ফাইলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার দেখিয়ে থাকেন। মূলত করফাইল ভারী করার জন্য এই স্বর্ণ দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে করদাতার আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি স্বর্ণও ফাইলে দেখানো হয়। অনেকে এই স্বর্ণ উত্তরাধিকার সূত্রে, উপহার হিসেবে বা ক্রয় সূত্রে পেয়ে থাকেন। তবে, এই স্বর্ণ বিক্রি থেকে সরকার এতদিন কোনো কর পেত না।

আসন্ন বাজেটে করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রি করফাইলে সঠিকভাবে দেখাতে ‘গেইন ট্যাক্স’ চালু করা হতে পারে, যার পরিমাণ হতে পারে ১৫ শতাংশ। উদাহরণস্বরূপ— একজন করদাতা যেদিন থেকে আয়কর ফাইল খুলেছেন, ওই সময় স্বর্ণের যে দাম ছিল, আর বিক্রির সময় যে বাজারমূল্য পাবেন— এই দুইয়ের ব্যবধান বা বাড়তি যে লাভ হবে, করদাতাকে ওই লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে।

বাজেটে প্রথমবারের মতো করদাতাদের ফাইলে থাকা পুরনো স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্জিত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ ‘গেইন ট্যাক্স’ বা লাভকর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসা সহজ করতে ও বিনিয়োগ বাড়াতে বড় সুখবর আসছে। নতুন ও নারী উদ্যোক্তা, স্থানীয় মোবাইল উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্য খাত এবং ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) আমদানি ও এ সংক্রান্ত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় আকারের করছাড় দেওয়া হচ্ছে

বিনিয়োগকারীদের জন্য আসছে করছাড়

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়ের খরচ কমাতে আসন্ন বাজেটে ১৬ ধরনের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে উৎসে করের হার কমতে পারে। এছাড়া নতুন, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ করছাড় আসতে পারে।

মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক্স খাতের বিনিয়োগকারী, রিনিউয়েবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি), ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানি ও স্থানীয় বিনিয়োগে বড় আকারের করছাড় আসতে পারে। স্বাস্থ্য খাতের জন্যও থাকছে বড় ছাড়। অন্যদিকে, রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

পাশাপাশি কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনে ২২ ধরনের উপকরণের এআইটি কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ওয়েলসিড (তৈলবীজ) থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতি (ট্যাক্স হলিডে) আসতে পারে। রিসাইকেল ইন্ডাস্ট্রিকে উৎসাহিত করতে এ খাতের কাঁচামাল সরবরাহের ট্যাক্স ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ও ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ এআইটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে।

বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম

অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল। আজ (জুন) মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে পরিচালক পদে বিপুল ভোটে জেতেন তিনি। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

অবশ্য সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন আপতত একজন। তিনি ফাহিম সিনহা।

ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তামিম। এই ক্যাটাগরি থেকে আরো জিতেছেন মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, সাকেফ আহমেদ সালাম।

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে লড়েছেন মোট ১৬ জন। পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন। হেরে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন বোরহানুল পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, ফায়াজুর রহমান মিতু এবং ইমরোজ আহমেদ।

যেখানে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।