মূল বিষয়বস্তুতে যান

আপনি এখানে

Ad:youngjournalist

younjournalist

বিএনপিকে অর্থ দেয়ার কথা স্বীকার করলেন সাবেক আইএসআই প্রধান: ইন্ডিয়া টুডে

শুক্র, 03/16/2012 - 22:45

১৯৯১ সালে নির্বাচনের সময় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বিএনপিকে অর্থ দিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই অভিযোগের কয়েকদিন পরেই ভারতের একটি পত্রিকা এর পক্ষে সংবাদ দিয়েছে।এই নিয়ে আজ শুক্রবার সরকার নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা বাসস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
‘১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা স্বীকার করলেন সাবেক আইএসআই প্রধান’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’র (আইএসআই) সাবেক একজন প্রধান স্বীকার করেছেন যে, ১৯৯১-এর সাধারণ নির্বাচনের সময় সংস্থাটি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তহবিল যোগান দিয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, “পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন বলে আজ জানা গেছে। পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসআই’র সাবেক প্রধান আসাদ দুররানি গত বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টের জারি করা সমনের উত্তরে এ স্বীকারোক্তি দেন।”
বাসস আরো জানায়, “গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে আইএসআই’র এখতিয়ার সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এ সমন জারি করে। ইসলামাবাদভিত্তিক নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানায়, গত বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খানের দায়েরকৃত এক দশকেরও পুরানো এক মামলার শুনানিতে আসাদ দুররানিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।”
এ সম্পর্কে ভারতের ইন্ডিয়া টুডে মন্তব্য উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, “গোয়েন্দা সংস্থার এখতিয়ার সম্পর্কে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে সাবেক আইএসআই প্রধান এ স্বীকারোক্তি দেন। প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সর্বোচ্চ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ আসাদ দুররানিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। তাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং বাইরে রাজনীতিকদের তহবিল যোগানদান সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করেন।”

বাসসের প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, “এ মামলায় আসগর খান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মেহরান ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ের দায়ে দুররানি ও সাবেক সেনাপ্রধান আসলাম বেগকে অভিযুক্ত করেন।
তেহরিক-ই-ইসতিকলাল দলের নেতা প্রবীণ রাজনীতিক আসগর খান ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেহরান ব্যাংক ১৯৯০ সালে অনুদান হিসেবে সেনাপ্রধান আসলাম বেগকে এই অর্থ দেয়। কিন্তু বেগ ইসলামী জামহোরি ইত্তেহাদ (আইজেআই) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবহারের জন্য ঋণ হিসেবে ওই অর্থ আইএসআইকে দেন।”

বাসসের ওই প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, “এ মাসের প্রথম দিকে সংযুক্ত আরব-আমিরাত ভিত্তিক খালিজ টাইমস’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘ভারতপন্থী’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে সহায়তা হিসেবে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে ৫০ কোটি রুপি দেয়।”

বাসস বলছে, “আসাদ দুররানির স্বীকারোক্তি এমন এক সময় পাওয়া গেল, যখন বিএনপি ওই প্রতিবেদনের বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দাবি করেন। দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ সংবাদ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (বিএনপি প্রধান) কখনোই বিদেশ থেকে টাকা নেননি। আইএসআই’র কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। আমরা এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছি। যথাসময়ে আমরা এ সম্পর্কে বক্তব্য জানাব’।”

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিযোগ সম্পর্কে বিএনপি’র ব্যাখ্যা দাবি করে বলেন, ‘যারা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনি (বেগম জিয়া) দেশ (স্বার্থ) বিক্রি করেছেন’।”

এ সপ্তাহের প্রথমদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি (শেখ হাসিনা) বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমা করবে না। কেন আপনি পরাজিত শক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন?”


শ্রেণীবিভাগ: 

Premium Drupal Themes by Adaptivethemes