বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের তোড়জোড়

173

নিউজ৩৯.নেট ♦ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরটি স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে মাদারীপুর শিবচরের চর জানাজাত, ঢাকার দোহারের চর বিলাসপুর, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের কেয়াইন ও লতব্দি এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য এ চারটি স্থানকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করে এগুচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে প্রকল্পের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। সমপ্রতি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ১৯শে আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত ওই দরপত্রে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার প্রমাণসহ আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থেকে আগ্রহপত্র চাওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। 

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ছাড়া নিজস্ব ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন এ বিমানবন্দরটি নিয়ে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। চারটি স্থানের মধ্যে যে কোন একটি স্থানকে  চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। এদিকে প্রকল্প প্রস্তাবনা বিবেচনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। 

প্রকল্পের সহকারী প্রধান মো. সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিত কার্যপত্রে প্রকল্পের বিষয়ে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা একান্ত জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দুটি ধাপে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চারটি জায়গা থেকে যে কোন একটি নির্বাচন করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত স্থানের বিস্তারিত সমীক্ষা (ডিএফএস) সম্পাদন হবে। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেসামরিক পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তম যোগাযোগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়। উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য নয়টি স্থান সরজমিন পরিদর্শন করে ঢাকা থেকে দূরত্ব, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সমপ্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে চারটি স্থান নির্বাচন করা হয়। 

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বিমানবন্দরের প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, এটি তৈরি করা হবে প্রায় ছয় হাজার একর জমি নিয়ে। নতুন বিমানবন্দরে নয় হাজার ফুট করে মোট তিনটি রানওয়ে থাকবে। আধুনিক জাম্বো বিমান অর্থাৎ এয়ারবাস ৩৮০ চলাচলে সক্ষম রানওয়ে দুটি এবং অবতরণের জন্য আরেকটি রানওয়ে থাকবে বিমানবন্দরটিতে। এ ছাড়া সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন, তিন লাখ যাত্রী পরিবহনের সুবিধাসম্পন্ন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল কমপ্লেক্স, পর্যাপ্ত স্থানবিশিষ্ট ডিউটি ফ্রি শপ, পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেল ও তিন তারকাবিশিষ্ট ট্রানজিট হোটেল, পর্যাপ্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, আধুনিক এবং সমন্বিত নিরাপত্তা সিস্টেম ও  টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকবে এ বিমানবন্দরে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট সিটি তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে। 

এর আগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে ২০১০ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এটি নির্মাণ করতে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু স্থান জটিলতায় তা বেশি দূর এগোয়নি। এখন নতুন করে প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচনের কাজ চলছে। স্থান নির্বাচন করা হয়ে গেলে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

সূত্রঃ মানবজমিন 

Comments

comments