জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

158

নিউজ৩৯♦ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বিদেশে পড়াশুনা করছে। বৈদেশিক ছাত্রছাত্রীদের প্রায় ৯.৫ শতাংশই জাপানে অধ্যয়নরত। জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের এই ব্যাপক চাহিদার কারণ হচ্ছে জাপানে ছাত্রছাত্রীরা যুগোপযোগী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে মেডিসিন, সাহিত্য থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রশাসন যেকোন বিষয়েই জাপানী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে।

তাই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী জাপানে পড়াশুনা করতে যাচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষা আর গবেষণামূলক কাজে পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমায় জাপানে। জাপানে আগত শিক্ষার্থীদের দুই তৃতীয়াংশই আসে চীন থেকে। চীনারা আসে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনার জন্য। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

জাপানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যুগোপযোগী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি ছাড়াও পছন্দের যে কোনো বিষয়ে এখানে পড়াশোনা করতে পারেন শিক্ষার্থীরা। বাইরের দেশের শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিজ্ঞান, পরিবেশ, চিকিৎসা ও প্রযুক্তির বিষয়গুলো পড়ার জন্য পাড়ি জমায় জাপানে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকা বিষয়গুলো হচ্ছে কম্পিউটার সায়েন্স, আর্কিটেকচার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োকেমেস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ম্যানেজমেন্ট, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মিডিয়া, ইকোনমি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও ডেন্টিস্ট্রি।

জাপানের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাপানি ভাষায় পাঠদান করা হয়। সেসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে হলে জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। কিছু প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষায় পড়ানো করা হয়।

জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত বছরে দুটি সেশনে ভর্তির সুযোগ দিয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সেমিস্টার শুরু হয় যথাক্রমে প্রতি বছরের এপ্রিল ও অক্টোবরে। জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন। তবে ভর্তি নিশ্চিত হলে ভিসা জটিলতা খুব বেশি থাকে না। তাই ভর্তির আবেদনের সময় নির্ভুল ও সঠিক তথ্য দিতে হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস বাংলাদেশে আছে। সেসব প্রতিষ্ঠান ভর্তির ব্যাপারে সহযোগিতা করে থাকে। তাছাড়া শিক্ষার্থী নিজেও ইন্টারনেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন।

জাপানে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। এজন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

ব্যাচেলর ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয়: 

ক. একাডেমিক : কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা (এইচএসসি বা সমমানের)।

খ. ভাষাগত যোগ্যতা : জাপানি ভাষার ওপর পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে। কমপক্ষে ছয় মাসের জাপানি ভাষার কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান টোফেল সিবিটি স্কোর ১৫০-এর ওপর অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৫২-এর ওপর চায়।

গ. অন্যান্য পরীক্ষা : আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একটি পরীক্ষা দিতে হবে। জাপানি ভাষার দক্ষতার ওপর একটি পরীক্ষা দিতে হবে।

ঘ. কোর্সের সময়সীমা : অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য দু-তিন বছর সময় লাগবে। ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর সময় লাগে এবং মেডিকেল সায়েন্সের জন্য ছয় বছর সময় লাগবে।

মাস্টার ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য : 

ক. একাডেমি : কমপক্ষে ১৬ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

খ. ভাষাগত দক্ষতা : জাপানি ভাষার ওপর পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে। কমপক্ষে ছয় মাসের জাপানি ভাষার কোর্স সম্পন্ন হতে হবে।কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান টোফেল সিবিটি স্কোর ১৫০-এর ওপর অথবা টোফেল আইবিটি স্কোর ৫২-এর বেশি চায়।

গ. কোর্সের সময়সীমা : মাস্টার ডিগ্রি সম্পন্ন করতে দুই বছর সময় লাগবে।

ডক্টোরাল ডিগ্রি সম্পন্ন করতে তিন বছর সময় লাগবে এবং মেডিকেল সায়েন্স সম্পন্ন করতে চার-পাঁচ বছর লাগবে।

আবেদন প্রক্রিয়া :

আগ্রহী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করতে হয়, এজন্য তাকে তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়টি বেছে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। সময় মতো ক্লাস শুরু করতে হলে কোর্স শুরু হওয়ার অন্তত ২/৩ মাস আগে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

জাপানি দূতাবাস বিভিন্ন সময় জাপানে উচ্চশিক্ষায় করণীয় শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে থাকে। ভিসার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়।

জাপানে আগত আগ্রহী কেউ চাইলে এখানে বিভিন্ন মেয়াদী কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। স্বল্প মেয়াদী কোর্সে ভর্তির জন্য টুরিস্ট ভিসা যথেষ্ট। তবে ভিসার মেয়াদ কোর্সের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে জাপান যেতে হবে।

ভাষা শিক্ষা:

জাপানি ভাষা শেখার জন্য ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে বিভিন্ন মেয়াদের জাপানী ভাষা শিক্ষা কোর্স রয়েছে।

 

অন্য খবর  দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজকে জাতীয় করণের দাবিতে ছাত্র ছাত্রীদের রাস্তা অবরোধ

জাপান সরকার প্রদত্ত স্কলারশিপ:

মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জাপান সরকার শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। এ বিষয় জানার জন্য জাপানিজ দূতাবাসে যোগাযোগ করা যাবে। বিভিন্ন সময় দূতাবাস জাতীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্কলারশিপের তথ্য প্রকাশ করে থাকে।

জাপানে শিক্ষা ব্যবস্থা : জাপানে পাঁচ ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

   * গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়

   * আন্ডার গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়

   * কলেজ অব টেকনোলজি

   * জাপানীজ ষ্টাডিজ

   * প্রফেশনাল ট্রেইনিং স্কুল

 জাপানের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো:

জাপান বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি। তাই সারা জাপান জুড়ে তারা অসংখ্য প্রথম  শ্রেণীর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে। এখানে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেয়া হলো:

   * ইউনিভার্সিটি অব টোকিও

   * কিয়োটো ইউনিভার্সিটি

   * ওসাকা ইউনিভার্সিটি

   * টোকিও ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি

   * তোহুকু ইউনিভার্সিটি

   * কেইও ইউনিভার্সিটি

   * কিয়ুশু ইউনিভার্সিটি

   * নাগোয়া ইউনিভার্সিটি

   * হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটি

   * সুকুবা ইউনিভার্সিটি

   * কোবে ইউনিভার্সিটি

   * চিবা ইউনিভার্সিটি

   * ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি

   * হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি

   * কানাজাওয়া ইউনিভার্সিটি

   * ওকায়ামা ইউনিভার্সিটি

   * টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স

   * টোকিও মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটি

   * টোকিও মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি

   * ওসাকা সিটি ইউনিভার্সিটি

 

অন্য খবর  পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

 

   * পাসপোর্ট (ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ আছে এমন)

   * দুই কপি ছবি, সাইজ ৩.৫×৪.৫ (ছবি বিগত ৬ মাসের ভেতর তোলা এরকম হতে হবে)

   * ভিসার আবেদনপত্র (যথাযথভাবে পূরণকৃত)

   * শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ (এসএসসি থেকে সর্বশেষ ডিগ্রী পর্যন্ত; সকল পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র ও প্রশংসা পত্র, বাংলা অথবা ইংরেজী)

   * জাপানের যে প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাবেন তার Letter of Acceptance.

   * জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত Certificate of Eligibility.

   * জাপানে অধ্যয়ন করতে যাওয়ার কারন সমূহ বর্ণনা করে একটি কভার লেটার

   * আপনাকে অবশ্যই দূতাবাসে যোগাযোগ করে জেনে নিতে হবে আরো কোন কাগজপত্র লাগবে কিনা। এই কাজটি অবশ্যই যেদিন ডকুমেন্টগুলো জমা দিবেন সেদিনই দুপুর ৩:০০ থেকে ৪:৪৫ এর মধ্যে করতে হবে।

সাক্ষাৎকার পর্ব:

   * দূতাবাস থেকে প্রদানকৃত রশিদে যে তারিখ উল্লেখ থাকবে সেদিন সকাল ৯:৩০ থেকে ১১:৩০ এর মধ্যে আপনার সাক্ষাৎকার নেয়া হবে।

   * যদি নির্দিষ্ট দিনে আপনি কোন কারণে দূতাবাসে পৌঁছাতে অসমর্থ হন তবে পরবর্তী যে কোন কর্মদিবসে আপনি আসতে পারেন।

   * প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সাক্ষাৎকারের সময় জমা দিতে হবে। অন্যাথায় সাক্ষাৎকার নেয়া হবে না।

 ভিসা প্রদান:

   * পরবর্তী কর্মদিবসে সাধারণ ভিসা প্রদান করা হয়।

   * কোন কোন ক্ষেত্রে আপনাকে আরো কিছু কাগজপত্রসহ পুনরায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে।

   * অ্যাম্বেসী বরাবর প্রদানকৃত ডকুমেন্ট ছাড়া অন্য সব ডকুমেন্ট আপনাকে পাসপোর্টের সাথে ফেরত দেয়া হবে।

 টিউশন ফি (বাৎসরিক)

   * জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (সকল বিভাগের জন্য) টিউশন ফি ৭১৩৮০০ ইয়েন

   * স্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়ের জন্য প্রায় ৮৩৩১৩৩ থেকে ৯৯৫৪৬৫ ইয়েন।

   * গ্র্যাজুয়েট স্কুলগুলোতে এই ফি ৮৯১৪৬৯ থেকে ১১৩৬৪৯২ ইয়েন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাসস্থান সুবিধা ও খরচ : জাপানে বিদেশী ছাত্রছাত্রীরা ৪ ধরনের বাসস্থানে বসবাস করতে পারে। এগুলো হচ্ছে-

    * স্টুডেন্ট ডরমিটরী

    * স্থানীয় সরকারী সংস্থা কর্তৃক বরাদ্দকৃত পাবলিক হাউজিং

    * জাপানীজ বিভিন্ন সংস্থার স্টাফ ডরমিটরী

    * ব্যক্তিগত ভাড়া বাসা

এলাকাভেদে বাসস্থানের খরচে পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- টোকিওতে একজন ছাত্রের বাসস্থান খরচ মাসিক প্রায় ১৫৮০০০ ইয়েন আর শিকোকুতে এটা প্রায় ১১৭০০০ ইয়েন।

Comments

comments