কুরবানীর গরুর হাট, ফাইল ফটো, দোহার, ঢাকা, Dohar, Dhaka

নিউজ৩৯♦ আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অধিক মুনাফার আশায় ঝিনাইদহের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন।

কথিত খামার মালিক এবং এক শ্রেণীর গরুর দালাল কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে রোগাক্রান্ত বা শীর্ণকায় গরু কিনে ওষুধ প্রয়োগ করে এ কাজটি করছেন। এছাড়াও গ্রামের কথিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শে গরু মোটাতাজা করার জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিষাক্ত হরমন, ইনজেকশন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। আগে যে কাজটি করা হতো অতিগোপনে এখন কথিত পশু চিকিৎসকদের মাধ্যম্যে করা হচ্ছে প্রায় প্রকাশ্যেই।

কয়েক যুগ আগেও গ্রামের কৃষকের কাছ থেকে গরু কিনে কোরবানি দেয়া হত। এখন খামারি ও কৃষকরাও গরু মোটাতাজাকরণের কাজটি করছেন। আর কোরবানির চাহিদার ৮০ ভাগ পশুই দেশের কৃষক এবং খামারিরা যোগান দিচ্ছেন। বাকি অংশ কোরবানির আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। তবে আমদানির সিংহভাগ পশুই ভারত থেকে এসে থাকে। বর্তমানে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ রয়েছে। আর এর প্রভাব আগামী কোরবানির ঈদে পড়তে পারে বলে আশা নিয়ে বসে আছেন গরু পালনকারীরা। যে কারণে এ সুযোগ নিতে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

গত কয়েক বছর ধরে এই চক্রটি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। তবে অনেকেই এই অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেন না বলেও জানিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজকরণে দুই বা তিন মাসের মধ্যে জবাই না করলে মারা যায়। অনেক সময় এসব পশু বিক্রির জন্য বাজারে নেয়ার পরও মারা যায়। কারণ স্টেরয়েড নামে হরমন গরুর দেহের পরতে পরতে মিশে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্টেরয়েড মূলত হাঁপানি রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধ ডেক্সামেথারসন, ডেকাসন, বেটামেথার্সন, পেরিঅ্যাক্টিন পশুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারীতা নষ্ট করে ফেলে। পানি শরীর থেকে বের হতে দেয় না। এই পানি গরুর মাংসে চলে যায়। যার কারণে গরু মোটা দেখা যায়।

সিভিল সার্জন ডা.আব্দুস সালাম বলেন, ‘বর্তমানে স্টেরয়েড নামে ওষুধ ব্যবহার করে কেউ কেউ গরু মোটাতাজা করছে। এতে গরুর যেমন লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি হলে গরু বাড়িতে বা বাজারেও মারা যাচ্ছে। এমন সংবাদ মাঝে মধ্যেই আমরা শুনতে পাই। এমনভাবে গরু মোটাতাজা করা ঠিক নয়। কারণ এই সব গরুর মাংস খেলে আমাদেরও লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র এমনকি মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যা গরু এবং মানুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। এটা সকল পশু পালনকারীদের পরিহার করা উচিত।’

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কানাইলাল স্বর্ণকার বলেন, ‘যেসব খামার মালিক এবং কৃষক গরু মোটাতাজা করে থাকেন। তাদের সঙ্গে আমাদের সব কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখছেন। তারা যেন স্টেরয়েড ব্যবহার না করে, এর ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝানো হচ্ছে। বর্তমানে ঝিনাইদহের খামারিরা এবং কৃষক পর্যায়ে ক্ষতিকর ক্যামিকেল ব্যবহার করা বন্ধ হয়েছে। আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ সদা সতর্ক রয়েছে। কেমিকেল ব্যবহার করে মোটাতাজা করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comments

comments