ধূমপায়ীদের পাশে থাকলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

248

নিউজ৩৯♦ ধূমপানের কোনো উপকারিতা তো নেই-ই, উপরন্তু অপকারিতার শেষ নেই। ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এটা সিগারেটের প্যাকেটেই লেখা থাকে।

প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ ধূমপানে অভ্যস্ত। তবে যিনি ধূমপান করছেন, তার যেমন ক্ষতি হচ্ছে, পাশে বসে থাকা মানুষটিরও সমান ক্ষতি হচ্ছে ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করে। সরাসরি ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর এই প্রক্রিয়া। বাড়ির বড় কোনো ব্যক্তি ধূমপানে অভ্যস্ত হলে তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা না চাইতেও ধূমপানে শামিল হন ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করে। জেনে নিন, অন্যের ধূমপানের দরুন কী ক্ষতি হচ্ছে ‘প্যাসিভ স্মোকার’-দের।

ফুসফুসে ক্যানসার: ধূমপায়ীদের পাশে বসা মানুষদেরও কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে সম্ভাবনা বাড়ে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ। ধূমপানের পর ছাড়া ধোঁয়ায় ৪ হাজার রাসায়নিক থাকে, যার মধ্যে ৬৯টি ক্যানসারের অনুঘটক।

হাঁপানি: গবেষকদের মতে, যেসব মানুষ ধূমপায়ীদের বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন, তারা হাঁপানিতে আক্রান্ত হন বেশি।

হার্টের অসুখ: ধূমপান না করলেও ‘প্যাসিভ স্মোকার’-দের হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

হার্ট অ্যাটাক: ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করলে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ ক্যারোলিনার মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিকস এবং অন্যান্য হার্টের অসুখের সঙ্গে প্যাসিভ স্মোকিংও সাংঘাতিকহারে বাড়িয়ে তুলছে স্ট্রোকের রিস্ক। ২২ হাজার জন স্ট্রোকে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ২৩% আক্রান্ত হয়েছেন প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে।

অসময়ে মৃত্যু: গর্ভবতী অবস্থায় ধূমপান করলে বা ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকি ‘প্যাসিভ স্মোকার’-দের আয়ুও অনেক কমে আসে।

শিশুমৃত্যু: সদ্যোজাত শিশুর সামনে ধূমপান করলে এমনকি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বাচ্চাদের ওজন কম হয়: গর্ভবতী অবস্থায় ধূমপান করলে বা ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করলে সময়ের অনেক আগে বাচ্চার জন্ম হতে পারে। এমনকি জন্ম নেওয়া শিশুর ওজনও মারাত্মক কম হতে পারে।

বাচ্চাদের বধীর হওয়া: শিশুরা ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ করলে অল্প বয়সে কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা: ‘প্যাসিভ স্মোকার’-দের শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। যত দিন যাবে, সমস্যা ততই বাড়বে।

Comments

comments