মিজানুর রহমান শমসেরীর তিনটি ছড়া

132

হতাম যদি

 

হতাম যদি আমি কোনো গাঁও গেরামের চাষা

মাটির সাথে থাকতো আমার নিগূঢ় ভালোবাসা।

নদীর পারে থাকতো আমার ছোট্ট সোনার গাঁও

উজান-ভাটি স্রোতের টানে চলতো আমার নাও।

মাঠের পাশে থাকতো পাতা মাচান-বাঁধা খড়

বাড়ির পাশে থাকতো আমার ছোট্ট গোয়ালঘর।

গোয়াল ভরা থাকতো গরু আথাল ভরা গাই

সারা গাঁয়ের মানুষ আমায় ডাকতো কৃষান ভাই।

লাঙ্গল কাঁধে মাঠে যেতাম সূর্য ওঠার আগে

স্বপ্ন আমার সফল হয়ে ফুটতো নবীন রাগে।

 

দাদুর পায়ে খড়ম

 

দাদুর পায়ে খড়ম

নাকের ডগায় চশমা আঁটা

মেজাজ বড় গরম।

 

মাথায় বড় পাগড়ি আঁটা

লম্বা বেজায় পাতলা গা’টা

দুই হাতেতেই লাঠি-সোটা

বন্ধু যেন পরম।

 

বন্ধু তাহার জুটলো আরেক

বয়স তাহার কুড়ি চারেক

মুচকি হেসে ডাকলো বারেক

মেজাজটা তার নরম।

 

দিন কয়েক হয় মরছে দাদি

তাইতো দাদু করবে সাদি

বন্ধু শুনে খবর আদি

বললো, ছিঃ ছিঃ শরম!

 

বিদ্রোহী

 

পিঁপড়েরা সব জোট করেছে

রাজার কাছে বিচার চাই,

দেখছো না তাই এক মিছিলে

চলছে কেমন চলনটাই!

ওদের রাজা বেজায় পাজি

ওদের প্রতি নজর নেই,

রাজা থাকেন তিনতলাতে

ওদের বাসা গাছতলাতেই।

ওরা ফলায় শস্য-ফসল

রাজা করেন হুকুমজারি,

রাজবাড়িতে থাকবে জমা

দেখছো কেমন অত্যাচারী!

নিত্য রাজা খায় যে পোলাও

মাংস চিনি ঘি লুচি

হাভাতে সব শ্রমিকেরা 

ওদের বুঝি নেই রুচি!

ওদের রাজা অত্যাচারী

তাই করেছে বিদ্রোহ

দেখছো না তাই এক মিছিলে

কেমন চলার আগ্রহ!

Comments

comments