দোহার- নবাবগঞ্জে বাড়ছে তালাক ভাঙছে ঘর

188

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ ৩৯ ♦ দোহার- নবাবগঞ্জে  পারিবারিক জীবনে সংসার ভাঙার ঘটনা অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এর বেশিরভাগই হচ্ছে মেয়েদের পক্ষ থেকে। স্ত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বামীকে তালাক দিচ্ছেন। দোহার থানার পরিসংখান হিসাব অনুযায়ী মোট তালাকের ৭৫ ভাগই দিচ্ছেন নারীরা। বছরে ২০০/২৫০ এর বেশি বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটনা ঘটছে। দিন দিন এর মাত্রা বাড়ছে বলে তথ্যে জানা গেছে।

সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক মেহতাব খানম বলেন — তিনটি কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। প্রথমত, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বিয়ের পর পর ই স্বামীরা বিদেশে চলে যাওয়ায় শারীরিক ও মানুষিক চাহিদা থেকে তালাক বাড়ছে।

দ্বিতীয়ত, মেয়েরা আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হচ্ছে। তারা এখন অনেক সচেতন। মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য না করে ডিভোর্সের পথ বেছে নিচ্ছেন।

তৃতীয়ত, মোবাইল কোম্পানিগুলোর নানা অফার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ফেসবুক এবং পর্নোগ্রাফির মতো সহজলভ্য উপাদান থেকে আকৃষ্ট হয়ে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হারাচ্ছেন। ফলে বিয়ের মতো সুদৃঢ় সম্পর্ক এবং নৈতিক বিষয়টি ছিন্ন করতে একটুও দ্বিধা করছেন না তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিয়ে বিচ্ছেদের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে। পরকীয়া, পরনারী আসক্তি, যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতন, মাদকাসক্তসহ নানা বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে।

 

অন্য খবর  অবশেষে বিএনপি ছাড়লেন নাজমুল হুদা

সামাজিক সালিশি কার্যক্রম ফলপ্রসূ না হওয়াকেও কারণ হিসেবে মনে করছেন অনেকে। নোটিসের তিন মাসের মধ্যে উভয়পক্ষকে উপস্থিত করে মীমাংসার চেষ্টা করার নিয়ম থাকলেও তা হচ্ছে না। নামমাত্র চিঠি দিয়েই তিন মাস পরে তালাক কার্যকর করেন।

 

এ বিষয়ে মনস্তত্ত্ববিদ, সমাজ বিশ্লেষক, গবেষক, নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের এটা নিয়ে রয়েছে বিচিত্র বিশ্লেষণ। তবে সবাই বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

জানতে চাইলে সরকারি আইন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা প্রতি বছরই বাড়ছে। পুরুষের চেয়ে মেয়েরাই বেশি তালাক দিচ্ছেন। মেয়েদের পক্ষ থেকে ৭৫ ভাগ বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কেসস্টাডি-১
এই বছর দোহারের বটিয়া গ্রামে এমনি এক ঘটনায় ঘর ভেঙ্গে যায় দীর্ঘদিন সৌদি প্রবাসি এক যুবকের। বিয়ের তিন মাসের মাথায় পুনরায় প্রবাসে চলে গেলে পাসের বাড়ির সদ্য যৌবনে পা দেওয়া এক যুবকের সাথে উক্ত প্রবাসির স্ত্রীর প্রণয় হয়। এরপর সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বামীর পাঠান চৌদ্দ লক্ষ টাকা ও গয়না সহ তারা পালিয়ে বিয়ে করে ও স্বামিকে তালাক দেয়।

 

অন্য খবর  বিশেষ সাক্ষাৎকার : ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা

কেস স্টাডি-২

দোহারের জামাল চরের দুবাই প্রবাসি মোঃ জাবেদের সাথে বিয়ে হয় বানাঘাটা গ্রামের ক্লাশ টেনের ছাত্রি সোনিয়া আক্তারের। সোনিয়ার জয়পাড়া কলেজের এক ছাত্রের সাথে প্রেম ছিল। বিষয়টী স্বভাবতইঃ বিয়ের সময় সোনিয়ার পরিবার গোপন করে। কিন্তু বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় স্বামিকে গোপনে তালাক দিয়ে ইদ্দত পালনের আগেই সে বিয়ে করে তার পুরান প্রেমিককে।

Comments

comments