বংকুরিতে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া

144

নিউজ৩৯.নেট ♦ মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মহাদেবপুর এলাকায় এক মাস ধরে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া ও মাদকের আসর চলছে। একইভাবে জেলা সদরের হাটিপাড়া ইউনিয়নের চর বংখুরী এলাকাতেও প্রতি রাতে চলছে অশ্লীল নৃত্য, বসছে জুয়া ও মাদকের আসর।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে মানিকগঞ্জ সদরের চর বংখুরি এলাকায় খোলা জায়গায় ছোট প্যান্ডেলে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য চালিয়ে আসছেন স্থানীয় আবুল কালাম, মো. সিরাজ ও শাহিন হোসেন নামের তিন ব্যক্তি। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে শুরু হয় এই নৃত্য। এ ছাড়া মঞ্চের পাশে বসানো হয় জুয়ার আসর। রাত আটটার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গুটি ও কোর্টের জুয়া। সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা নিয়ে জুয়াড়িরা সেখানে ভিড় করে। এ সময় অবাধে বিভিন্ন নেশা দ্রব্যও বিক্রি হয়।

হাটিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন বলেন, কিশোর-তরুণেরা ছাড়াও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরাও অশ্লীল নৃত্য দেখতে ভিড় করছেন। জুয়ার আসরে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অবাধে গাঁজা ও ইয়াবা বড়ির বেচাকেনা চলছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে একাধিকবার বলা হলেও আয়োজকেরা তা মানছেন না।

আয়োজক কমিটির প্রধান সদস্য আবুল কালামের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। আয়োজক কমিটির অন্য সদস্য শাহিন হোসেন বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। তবে কোনো অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, যাত্রার জন্য এক সপ্তাহের অনুমতি দেওয়া হলেও সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। অভিযান চালিয়ে এসব বন্ধ করা হবে।

এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মহাদেবপুর এলাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসিয়েছেন স্থানীয় হায়দার আলীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। হায়দার স্থানীয় বরঙ্গাইল বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি। মহাসড়কের পাশে হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে লোকজন জুয়া খেলতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ঝড়-বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন যাত্রা ও জুয়ার আসর বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবার শুরু হয়েছে। অশ্লীল নৃত্যের মঞ্চে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ভোর চারটা পর্যন্ত চলে জুয়ার আসর। পাশাপাশি বেচাকেনা চলছে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা বড়ির। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হায়দার আলীর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম গালিভ খান বলেন, খোঁজখবর নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হবে।

Comments

comments