রাত হলেই দোহার আঞ্চলিক মহাসড়ক ডাকাতের দখলে

227

নিউজ৩৯.নেট ♦ রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্কে দিশাহারা ঢাকা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার আঞ্চলিক মহাসড়কের তুলসীখালি,মরিচা,খারশুর টিকরপুর,মাঝিরকান্দা,চালনাই ও নিকড়া-গালিমপুর সড়কে চলাচলকারী মানুষ।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চলাচল কিছুটা কম থাকায় ডাকাতদের রাজত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। যাত্রীদের অভিযোগ,পুলিশ সব জেনেও গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। একমাত্র পুলিশের সীমান্ত জটিলতার অজুহাতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ডাকাতি বন্ধ না হওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ডাকাত সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়,রাতে নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ-ঢাকা-নবাবগঞ্জের চালনাই ও দোহার-নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী নিকড়া-গালিমপুর সড়কে তিন থানার পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দোহার থানা পুলিশের অবস্থান থাকে জয়পাড়া-গালিমপুর সড়কের নিকড়া রশিদ বেপারির বাড়ির এক কিলোমিটার অদূরে দোহারের শেষ অংশে কালভার্টের উপর। ওই কালভার্টের পর থেকে গালিমপুর পর্যন্ত নবাবগঞ্জের অংশ হলেও সেখানে নবাবগঞ্জ থানার কোন টহল পুলিশ না থাকায় পুরো রাস্তাটি থাকে অরক্ষিত। পুলিশের সীমান্ত জটিলতার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকাতরাও বেশ নির্বিঘ্নে লুটে নিচ্ছে যাত্রীদের মালামাল। এ কারণে বিকালের পর থেকে এ রুটে যানচলাচল অনেকটা কমে যায়।

একই চিত্র নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ-ঢাকা সড়কের। এ রুটে নবাবগঞ্জ,সিরাজদিখান ও কেরানীগঞ্জথানা পুলিশের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কোন থানার পুলিশ তাদের স্ব স্ব এলাকা ছাড়া সামনে যায় না। এ কারণে টিকরপুর থেকে খারশুর ব্রিজের পশ্চিম পার পর্যন্ত,ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আওতাধীন,খারশুর বাজার থেকে তুলশীখালী সেতু পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার আওতাধীন,সৈয়দপুর ও রুহিতপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি থাকে একেবারে অরক্ষিত। এখানেও পুলিশের সীমান্ত জটিলতার সুযোগ নিয়ে এসব রাস্তার মাঝে গাছ ফেলে বা ব্যারিকেড দিয়ে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করে পালিয়ে যাচ্ছে ডাকাতরা।

সম্প্রতি ডাকাতির প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে রাতে তুলসীখালী সেতুর টোলঘর থেকে ২০/২৫টি গাড়ি একসঙ্গে সিরাজদিখান থানার পুলিশ প্রহরায় খারশুর বাজার পর্যন্ত পৌঁছে। সেখানেও গাড়ি প্রতি পুলিশকে দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। খারশুরের পর থেকে আবার শুরু হয় ডাকাত আতঙ্ক। খারশুর থেকে টিকরপুর পর্যন্ত মাঝের একটি কালভার্টে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের অবস্থান থাকে। সীমান্ত জটিলতার অজুহাতে ওই অবস্থানে তারা অনড়। এরই ফাঁকে ঘটে যায় ডাকাতির ঘটনা।
দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী সীমানা চালনাই সড়ক। চালনাই সড়কের ডাকাতির ঘটনা এখন আর কারও অজানা নয়। চালনাই সড়কের নাম শুনলে আঁতকে উঠেন সবাই। রাত নামার পরপরই চালনাই সড়ক চলে যায় ডাকাতদের দখলে। এ রুটে দোহার-নবাবগঞ্জের বহু মানুষ ডাকাতির শিকার হয়ে তাদের সর্বস্ব খুইয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশগামী অথবা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় এই চালনাই সড়কে ডাকাতির শিকার হয়ে মালামাল ও এমনকি ভিসা পাসপোর্ট খুইয়েছেন অনেকেই। এ ছাড়া বাসযাত্রীথেকে শুরু করে প্রাইভেটকার,ট্রাক,পিকআপ,রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স,ইজিবাইক,মোটরসাইকেলসহ পথচারীদেরকে মারধর করে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি করে আসছে ডাকাতরা।

এসব রুটে চলাচলকারীর যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন,রাত হলেই ডাকাতের ভয় চেপে বসে মনে। একটাই আতঙ্ক এই বুঝি ডাকাত এলো। জানা যায়,ডাকাতের কবলে পড়ে লাখ লাখ টাকা ও মালামাল খুইয়েছেন অনেকে। রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পায় না বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। বর্তমানে পুলিশের গাড়ি দিয়েযাত্রীবাহী বাসসহ মালবাহী যানবাহন পারাপার করে দিলেও নিরাপদ মনে না করায় বেশির ভাগ পণ্যবাহী যানবাহন সারারাত তুলসীখালী ব্রিজে অবস্থান নিয়ে সকালে যাত্রা শুরু করেন।

এ দুই উপজেলার যাত্রীরা মনে করেন, পুলিশের সীমান্ত জটিলতা নিরসন করা না গেলে ডাকাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে পুলিশ ডাকাতির স্থানটি শনাক্ত করে সেখানে অবস্থান নিলে বা একটি স্থানে দাঁড়িয়ে না থেকে থানাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো রাস্তায় টহল ব্যবস্থা চালু করতে পারলে ডাকাতদের প্রতিহত করা সম্ভব। আর এখানে যারা প্রতিদিন একই কায়দায় ডাকাতি করছে তারা আশপাশের এলাকার নেশাখোর ও বখাটে যুবক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটু নজর দিলেই ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা সম্ভব।

এই ব্যাপারে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হক বলেন, “দোহার অংশে ডাকাতির ঘটনা নাই। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তবে সীমানা জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ থানার সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশি টহল জোরদার করা হচ্ছে যাতে আর ডাকাতি না হয়।”

নবাবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত)খন্দকার এখলাসুর রহমান বলেন, “সড়কে টহল পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও জোরদার করা হয়েছে। আমরা দোহার,সিরাজদিখান,কেরানীগঞ্জ থানার সঙ্গে সমন্বয় করে টহল দিচ্ছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা অনেকাংশ ভাল।”

Comments

comments