মঙ্গলে নাইট্রোজেনের চিহ্ন

133

নিউজ৩৯♦ মঙ্গলপৃষ্ঠের পাথর খুঁড়ে নাইট্রেটের চিহ্ন পেয়েছে কিউরিওসিটিমার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) রোবটযান কিউরিওসিটি মঙ্গল গ্রহের উপরিতলে নাইট্রোজেনের সন্ধান পেয়েছে। ‘লাল গ্রহটিতে’ কোনো এককালে প্রাণের উপস্থিতি ছিল—এমন ধারণার পক্ষে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বলে দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলপৃষ্ঠের পাথর খুঁড়ে নাইট্রেটের চিহ্ন পেয়েছে কিউরিওসিটি। নাইট্রেট হচ্ছে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ যৌগিক পদার্থ, যা জীবসত্তার ব্যবহারোপযোগী। কিউরিওসিটি প্রকল্পের গবেষকেরা মঙ্গলে প্রাণধারণের উপযোগী আরও কিছু উপাদানের খোঁজ পাওয়ার খবর ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, যেমন: গেল ক্র্যাটার নামে পরিচিত একটি স্থানে একসময় তরল পানি ও জৈব উপাদানের চিহ্ন ছিল। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিশেষজ্ঞ জেনিফার স্টার্ন বলেন, জৈবরাসায়নিক উপায়ে ব্যবহারের উপযোগী নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ উপাদান খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারটি মঙ্গলে সুদূর অতীতে প্রাণধারণের উপযোগী পরিবেশের অস্তিত্বের পক্ষে একটি সহায়ক প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

সব ধরনের প্রাণীর জীবনধারণের জন্যই নাইট্রোজেন একটি অপরিহার্য উপাদান। কারণ এটি ডিএনএ ও আরএনএর একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক উপাদান। তবে নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলে সুনির্দিষ্ট এমন কোনো নাইট্রোজেন অণুর সন্ধান মেলেনি, যা প্রাণীর মাধ্যমে তৈরি। মঙ্গলপৃষ্ঠ প্রচলিত প্রাণের টিকে থাকার অনুপযোগী।

গবেষকেরা বলছেন, মঙ্গলে কিউরিওসিটির খুঁজে পাওয়া নাইট্রেট উপাদানগুলো প্রাচীন এবং সম্ভবত কোনো উল্কা, বজ্রপাত বা অন্য কোনো অজৈব প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহে নাইট্রোজেন পাওয়া যায় নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাসরূপে। এতে দুটি পরমাণু পরস্পর এত শক্ত বন্ধনে যুক্ত থাকে যে সেগুলো অন্য কোনো অণুর সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না। নাইট্রোজেন পরমাণুগুলোকে অবশ্যই পৃথক করে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে নিতে হয়। নাসা জানায়, পৃথিবীতে নির্দিষ্ট কিছু জীবসত্তা বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনকে প্রয়োজনীয় রূপান্তরের মাধ্যমে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগাতে পারে। তবে বজ্রপাতের আঘাতের মতো শক্তিশালী কোনো ঘটনায় তুলনামূলক অল্প পরিমাণের নাইট্রোজেন পৃথক্করণ বা রূপান্তর করা সম্ভব।

কিউরিওসিটি বর্তমানে মঙ্গলের মাউন্ট শার্প নামের পর্বতের পাদদেশে অবস্থান করছে। এটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উঁচু। রোবটযানটি গত ডিসেম্বরে মঙ্গলপৃষ্ঠে মিথেন গ্যাসের নিয়মিত নির্গমনের প্রমাণ পায়। তবে ওই মিথেনের উৎস এখনো অজানা।

 

অন্য খবর  শিম্পাঞ্জির ভাষা বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা

Comments

comments