টেনেহিঁচড়ে উত্ত্যক্তকারীকে পুলিশ দিলেন সাহসী তরুণী

190

নিউজ৩৯♦ অপরাধী নয়, অভিযোগকারী নারীর দিকেই আঙুল ওঠে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। ফলে ভারতের অনেক নারীই উত্ত্যক্তের শিকার হয়েও চুপ থাকেন। আর দীর্ঘসূত্রতার কারণে থানায়ও অভিযোগ করেন না। তবে প্রাদনিয়া মান্ধারি নামের মুম্বাইয়ের এক তরুণী উত্ত্যক্তকারীকে চুলে ধরে টেনে নিয়ে থানায় সোপর্দ করে উদাহরণই তৈরি করলেন। অবাক করা মতো ব্যাপার হলো, প্রাদনিয়া একাই কাজটি করেছেন। ঠিক ওই সময়ে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ তা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন।

এনডিটিভি খবরে বলা হয়েছে, প্রাদনিয়া মান্ধারি মুম্বাইয়ের একটি কলেজে সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার ক্লাস শেষে ট্রেনে বিরভলির নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সময় বাঁচাতে পথেই কানদিভলি নামের এক স্টেশনে ট্রেন বদলানোর জন্য নেমে পড়েন তিনি।

প্রাদনিয়া বলেন, ‘আমি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আরেকটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় ওই মাতাল লোকটি আমার কাছে আসে এবং আমাকে অভদ্রভাবে স্পর্শ করে। আমি তাঁকে এড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু লোকটি আমাকে জাপটে ধরে ফেলে। এতে আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হতভম্ব হয়ে পড়ি। এর পরই আমি তাঁকে ব্যাগ দিয়ে পেটাতে শুরু করি।’

ওই সাহসী নারী আরও বলেন, ‘লোকটিও আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁর শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং আমি বুঝতে পারি, সে মাতাল।’

ওই উত্ত্যক্তকারীকে যখন মান্ধারি পেটাচ্ছিলেন, তখন কেউই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

‘কানদিভলি স্টেশনে বরাবরই ভিড় থাকে। ঘটনার সময় অনেক নারী-পুরুষ দেখছিল যে, মাদকাসক্ত লোকটি আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কেউই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি কেউ এসে জিজ্ঞেসও করেনি যে, এখানে কী হচ্ছে।’ ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন প্রাদনিয়া। তিনি বলেন ‘লোকটি অত্যন্ত নোংরা ছিল, ফলে তাঁকে স্পর্শ করাও কঠিন ছিল। আমি তাঁর চুলে ধরে পাশে রেলওয়ে পুলিশের ফাঁড়িতে টেনে নিয়ে যাই। লোকটি তাঁকে এভাবে টেনে না নিতে এবং সে নিজেই যাবে বলছিল। কিন্তু আমি তাঁকে ছাড়িনি এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে তুলে দেই।’

বরিভলি রেলওয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাঁভান নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেছি। সে মাদকাসক্ত এবং ঘটনার সময়ও মাতাল ছিল। তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে নেওয়া হবে।

প্রাদনিয়া বলেন, ‘আমি পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি ওই ব্যক্তিকে এমন শিক্ষা দিতে বলেছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো নারীর সঙ্গে এমন আচরণ না করতে পারে। এবারের নারী দিবসেও আমি এক উত্ত্যক্তকারীকে ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে পালিয়ে যায়।’ তিনি বলেন, অনেক অভিভাবকই মনে করেন পুলিশের কাছে গেলে, তাদের মেয়েরই বদনাম হয়। এটি ঠিক নয়। নারীদের এমন ঘটনায় উচ্চকণ্ঠ হওয়া উচিত এবং এ ধরনের লোকদের শিক্ষা দেওয়া উচিত। নারীরা কোনো পণ্য নয় যে, যখন যার ইচ্ছা স্পর্শ করবে।

Comments

comments