কাতারে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের চরম দুরাবস্থা

155

নিউজ৩৯ ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা কাজ করা সত্ত্বেও তুচ্ছ কারণেই নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীরা। নিয়মিত বেতনভাতা না পাওয়া, যৌন হয়রানিসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব বিষয়ে দূতাবাস থেকেও মিলছে না কোনো সহযোগিতা। সবমিলিয়ে চরম দুরাবস্থায় দিন কাটছে তাদের।

ভয়াবহ নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেতে অনেক বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় কারাবরণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় কারাবরণকারী বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি, যার মধ্যে অন্তত ১৭ জন কাতারের কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।

অনেকের অভিযোগ, ঠিকমত বেতন, চিকিৎসা, খাবার পাওয়া যায় না এখানে। এসব অভিযোগ জানানোর জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করা হয় না। এমনকি সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাই শেষ পর্যন্ত অনেকে পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে চাকরির প্রলোভনে অবৈধভাবে আসা অনেক নারীরাই এখন বিভিন্নভাবে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কাতারের আবু হামুর, মাইজার, রাইহান, নাজমা, মাতার কাদিম, মদিনা মোরাসহ সব এলাকায় প্রায় চার শতাধিক বাংলাদেশি নারী আছেন যারা বাধ্য হয়ে এখন যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে মিসর, লেবানন, ভারত, ফিলিপিন, ইথুপিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়ার আরো নারীও আছেন। তারা অনেকেই গৃহকর্তা কিংবা ঘরের অন্য সদস্য দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে এ ব্যবসায় নেমেছেন বলে জানা যায়।

বাসা, হাসপাতাল, বিউটিপার্লার, ছোটদের দেখাশোনার ভিসার নাম করে ট্রাভেল এজেন্সি আর আদম পাচারকারীরা নারীদের জিম্মি করে ফেলেছে। নানা কৌশলে কেড়ে নিচ্ছে মাসিক বেতন ও সতীত্ব। অধিকাংশ নারী দালালদের কাছেও চরম নির্যাতনের স্বীকার। হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো কষ্টার্জিত টাকা অনেক সময় গায়েবও করে দেয় দালালচক্রগুলো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাতারে কর্মরত বাংলাদেশি নারীদের ৮০ শতাংশ নারী ঠিকমত বেতন, খাবার, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। ১৫ শতাংশ বাসাবাড়ির কর্তা কিংবা দালালদের দ্বারা যৌনহয়রানির স্বীকার। বাকি ৫ শতাংশ নারী অধিক পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পাঁচ থেকে ছয় বছরেও দেশে ফিরতে পারছেন না। তাছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে অভিযোগ করলে মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের নম্বরে বেশ করেকবার ফোন করা হলেও দূতাবাসের কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৯টি দেশে কমপক্ষে ৩ লাখ বাংলাদেশি নারী শ্রমিক কর্মরত আছেন।

Comments

comments