জাগ্রত দোহার-নবাবগঞ্জ

168

আছিফুর রহমান♦ যে জাগরণের সূচনা আজ থেকে দুই মাস আগে হয়েছিল দিনে দিনে জনসাধারণের সম্পৃক্ততায় তা পরিণত হয়েছে গণ-মানুষের দাবিতে। পদ্মার কড়াল গ্রাসে আজ অস্তিত্ব হারানোর মুখে দোহার নবাবগঞ্জের সিংহভাগ মানুষ। ধীরে ধীরে দোহার নবাবগঞ্জকে গ্রাস করতে চলছে পদ্মা। কিন্তু দেশের ২য় বৃহত্তম রেমিট্যান্স প্রদানকারী এই উপজেলার মানুষের মনে বেদনা থাকলেও ছিলোনা কোন লক্ষ্য।

অসহায়ের মতো নিজেদের ভিটা মাটি হারানোর দৃশ্য দেখেই মতো আক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তখন এই দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার কিছু তরুন স্বপ্ন দেখলো কিছু করার, এই ভিটাহারা, মাটি হারা সাধারন মানুষকে এক করে কিছু করার। দোহারের অন্যতম ফেসবুক গ্রুপ “দোহারের আড্ডা” থেকে এই চিন্তার শুরু, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, দোহারকে বাচাতে আমাদের একটি বাঁধ দরকার, সেই লক্ষে দোহারের অনলাইন কমিউনিটিকে এক করার লক্ষে এক ইভেন্ট খোলা হয়, সেখান থেকেই আজ বাঁধের দাবিতে উদ্দিপ্ত দোহারের আন্দলনের জন্ম।

সেদিনের ডাকে জয়পাড়া পাইলট স্কুলের মাঠে হাজির হয়েছিল ৬৪ জন উদ্দীপ্ত তরুণ, সেখান থেকেই শুরু দোহার বাঁচানোর এই আন্দোলন। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে তারুন্যের অংশ গ্রহন, বেড়েছে জন সমর্থন। সেই ৬৪ জন আজ পরিনত হয়েছে দুইটি উপজেলার মানুষের মুখপাত্রে।

দোহার নবাবগঞ্জের হাজারো মতের মানুষকে নিয়ে আসতে পেরেছে একটি প্লাটফর্মে। সবাই আজ সোচ্চার হয়েছে বাঁধের দাবিতে।  যেই দাবিতে আজ একই প্লাটফর্মে এসেছে একই স্কুল কলেজের ছাত্র-শিক্ষক। হাতে হাত রেখে তৈরি করেছে মানব বন্ধন, কলেজের ম্যাডামের সাথে দোহার–নবাবগঞ্জের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো কলেজের ছাত্রীরা দোহার নবাবগঞ্জের অন্যতম প্রাণের দাবি পদ্মা বাঁধের জন্য নেমে এসেছিল রাস্তায়।

ব্যাংকের কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। আজ বাঁধের দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ, এখন দরকার সরকারের সুদৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি। সময় এখন ঐক্যবদ্ধ থাকার। আর এই একতাই সৃষ্টি করতে পারে দোহার নবাবগঞ্জে সচেতনতার। 

Comments

comments