মান্নান খানের হলফ নামা পরিবর্তন: বিপাকে রাজউকের প্লট গ্রহীতারা

188

নিউজ৩৯♦ সাবেক পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের হলফনামা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের ফলে রাজউকের বহু প্লট গ্রহীতা বিপাকে পড়েছেন। ১৯৯৮ সালের আবেদন, প্রসপেক্টাস ও হলফনামা অনুযায়ী যারা রাজউকের প্লট পেয়েছেন, ২০১১ সালে হলফনামা সংশোধনীর ফলে তাদের অনেকের প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। প্রচলিত বিধান ও নিয়মানুযায়ী সংশোধিত হলফনামা পুরনো আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের খামখেয়ালিপনার ফলে তাদের (পুরনো আবেদনকারী) প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।
এদের অনেকেই প্রতিমন্ত্রীর ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করে স্থিতাবস্থার আদেশ নিয়ে এসেছেন। ফলে রাজউককে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের আবেদনপত্র ও প্রসপেক্টাস তৈরির সময় অধিকসংখ্যক মানুষকে আবেদন করার সুযোগ দিতে রাজউক প্রচলিত হলফনামার একটি শর্ত শিথিল করে। শিথিল শর্তটি ছিল, বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীর রাজউকের আওতাধীন এলাকার কোথাও পূর্বতন ডিআইটি বর্তমানে রাজউক অথবা কোনো সরকারি, আধা-সরকারি সংস্থা কর্তৃক কোনো আবাসিক জমি ও বাড়ি বরাদ্দ বা লিজ প্রদান করা হয়নি।
এর ফলে ঢাকায় নিজের নামে জমি বা বাড়ি আছে অথচ রাজউক বা সরকারি কোনো সংস্থা থেকে প্লট নেননি তারাও পূর্বাচলের প্লটের জন্য আবেদন করেন। আবেদনকারীরা এই হলফনামাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন এবং রাজউক যাচাই-বাছাই করে প্লট বরাদ্দ দেয়। এরপর গ্রহীতারা প্লটের মূল্য পরিশোধ করে লিজ দলিল সম্পাদনসহ জমির দখল বুঝে নেন। কিন্তু ২০১১ সালে তৎকালীন পূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে রাজউকের ০৮/২০১১তম বোর্ড সভায় হলফনামা সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী ঢাকায় যাদের ব্যক্তিমালিকানায় জমি ও বাড়ি রয়েছে তাদের রাজউকের প্লট পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
নিয়মানুযায়ী এই সংশোধিত হলফনামা নতুন আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজউক এই সংশোধিত হলফনামা ইতিপূর্বে যারা প্লট পেয়েছেন তাদের জন্যও বাধ্যতামূলক করে। এতে অনেকের প্লট বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে হলফনামা সংশোধনের সুযোগ নিয়ে অন্যায়ভাবে বাতিল হওয়ায় প্লট অন্যদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর ফলে রাজউক নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়ে যায়। গ্রাহকরা বলেছেন, পূর্বাচল প্রকল্পে হলফনামা পরিবর্তন ও প্রয়োগের বিষয়টি আইনসঙ্গত হয়েছে কিনা তা জানার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া যেতে পারে।

অন্য খবর  এনেক্স ভবন থেকে গ্রিক ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

সূত্র: যুগান্তর

Comments

comments