প্রধান হিসাবে নির্বাচিত নির্দলীয় ফজলুল আজিমকে বিবেচনা করুন – ব্যাঃ হুদা

443

তিনি বলেন, জাতির আশা আকাংখার প্রতিফলনে গণভবনের নৈশভোজ পরবর্তী আলোচনার সূত্রপাত ঘটাবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এটা প্রায় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীও সে আহবানে সাড়া দিবেন।

এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব দুটিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংলাপের যে সুবাতাস বইছে তার বাস্তব রুপ হয়তো দুই এক দিনের মধ্যেই দেখা যাবে।

নাজমুল হুদা বলেন, দুই নেত্রীর এক টেবিলে বসার এই ঐতিহাসিক মূহুর্তটি যে জাতির কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ন ও তাৎপর্যপূর্ন তা নতুন করে ব্যাখ্যার কোন অবকাশ রাখে না। দেশ ও জাতির স্বার্থে উভয় নেত্রীই তাদের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং তাদের পারস্পরিক উপলব্দি যে, আলোচনাই সংকটের সমাধান খুজে পেতে সাহায্য করবে এ অনুভূতিকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং উভয় নেত্রীকেই এ জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই  একটি সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন মন্ত্রীসভা গঠনের এবং এই লক্ষ্যে বিরোধী দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে। এমনকি মাননীয় বিরোধী দলের নেত্রীকে তার মনোনীত ব্যক্তিদের নামও পাঠাতে বলেছেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রী পরিষদের প্রধান কে হবেন তা উচ্চারন করেন নি।

অন্য দিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বিগত দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্য থেকে দশজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের রুপরেখা দিয়েছেন এবং এর প্রধান কে হবেন তার ও একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে সংবিধানে হাত দেওয়া যাবে না । মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্পষ্ট কথা তার প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

অন্য খবর  শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মমতার আমন্ত্রণ: শেখ হাসিনার না

নাজমুল হুদা বলেন, দুই নেত্রীর এই প্রস্তাব নিয়ে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে তার সমাধান খুজতে আমাদের সংবিধানটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখলাম সংবিধান সংশোধন না করেই উভয় নেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভবঃ

১।   সংবিধানের ৫৬ (১) ও ৫৬ (২) অনুচ্ছেদের অনুসরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মহামান্য প্রেসিডেন্ট ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করবেন যার মধ্যে ৯০ জন হবেন সংসদ সদস্য আর বাকী দশ জন হবেন সংসদ সদস্য নন এমন যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। অত্যন্ত উদার ভাবে এই মন্ত্রীপরিষদে উভয় জোটের সংসদ সদস্যদের অন্তভূক্ত করা যাবে।

২।    সংসদ সদস্য নন এমন দশ ব্যক্তির নাম সম সংখ্যায় দুই নেত্রীর পরামর্শ ক্রমেই মন্ত্রিপরিষদের অন্তভূক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী মন্ত্রী নিযোগ করা সম্ভব যদি ঐ সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

৩।    নির্বাচনকালীন এই মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসাবে সর্বদলীয়ভাবে গ্রহন যোগ্য হাতিয়া থেকে নির্বাচিত নির্দলীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জনাব ফজলুল আজিমকে বিবেচনায় ও অনুমানে সংবিধানের ৫৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসরনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।

অন্য খবর  জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করেছে সোয়াট

৪।    নিয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যে সংবিধানের ৫৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুসরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব ফজলুল আজিমের পরামর্শক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দেবেন।

৫।    সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানের ৫৭ (১) (খ) উপ অনুচ্ছেদ মতে নব নিযুক্ত স্বতন্ত্র প্রধানমন্ত্রীর পদ শুন্য হবে।

৬।    সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানের ৫৮ (১) (খ) মতে সংসদ সদস্য নহেন এমন মন্ত্রী ছাড়া অন্যান্য সব মন্ত্রীদের পদ শুন্য হবে।

৭।    সংবিধানের ৫৮ (১) (খ) দফা মতেই মন্ত্রীপরিষদের সংসদ সদস্য নহেন এমন উপরোক্ত দশ জন মন্ত্রী তাদের স্ব স্ব পদে বহাল থাকবেন।

৮।    মহামান্য রাষ্ট্রপতি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কালীন সময়ের জন্য মাননীয় স্বতন্ত্র প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলবেন এবং অন্য ১০ জন মন্ত্রীর সমন্বয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করবেন। স্বতন্ত্র প্রধানমন্ত্রী  মন্ত্রীপরিষদের ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে নির্বাচন কালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব বন্টন করবেন।

৯।    নির্বাচন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে এই অন্তবর্তী কালীন সরকারের মেয়াদের অবসান হবে।

নাজমুল হুদা বলেন, দুই নেত্রীর এক টেবিলের আলোচনার জন্য এই রইলো আমার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব যার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কোন প্রয়োজন হবে না।

Comments

comments