বিএনএফ সরকারের, বিএনপির না অদৃশ্যের

370

ফ্রিল্যান্সার♦ বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দল আসলে কোন পক্ষের হয়ে কাজ করছে তা নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে। এরা কি নিজেদের দল সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে না অদৃশ্য কোন শক্তির ইশারায় কাজ করছে দলটি।
জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ন ওয়ান ইলেভেন এর সময়ে তথাকথিত বাঘ মার্কা পিডিপি বা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কল্যান পার্টির মতো গজে ওঠা কাগুজে রাজনৈতিক দলের মতো বিএনএফ সৃষ্টি হয়েছে। এর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সুদৃঢ় রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও নতুন দল তৈরী বা রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত করার নজির রয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সঙ্কটের সুযোগে গড়ে ওঠা বিতর্কিত রাজনৈতিক দল গঠনের ক্ষেত্রেও এসকল নেতাদের  সম্পৃক্ততা ছিলো বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে ঐ সময়ে যাদের তত্বাবধায়নে এসকল রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছিলো এবারও তাদেরই সম্পৃক্তা, সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনএফ রাজনৈতিক দল হিসেবে অবির্ভূত হচ্ছে। আর তাদের গোপন ইন্ধনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনএফ তালিকাভূক্তি হতে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে দেশব্যাপী এ সংগঠনের কোন কার্যক্রম না থাকলেও ইতিমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে অস্বস্তি তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির রাজনৈতিক লোগো, জিয়াউর রহমানের ছবি এবং জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিকে ব্যবহার করে শুর“তেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কয়েকদফা নির্বাচন কমিশনের নিকট অভিযোগ করে বিএনএফকে নিবন্ধন না দেয়ার অনুরোধ করেছেন। তবে বিএনপির আপত্তির মধ্যেও যে কোন সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনএফ নিবন্ধিত হতে পারে বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, নিবন্ধনের পূর্ব শর্তানুযায়ী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিএনএফের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে দু’এক জায়গায় অফিসের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও তাদের কোনো কার্যক্রম  পাওয়া যায়নি। কোথাও বাসায় আবার কোথাও দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দলের সাইনবোর্ড। এর আগে অদৃশ্য শক্তির কারনে নির্বাচন কমিশন বিএনএফকে নিবন্ধিত করার জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যালয় স্থাপনের ১৫ দিনের সময় সূযোগ প্রদান করেন। এরপরও ২১ জুলাই মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে নেমে ইসির কর্মকর্তারা বেশিরভাগ জেলা-উপজেলায় দলের অস্তিত্ব ও কার্যক্রম খুঁজে পায়নি।
এদিকে বিএনপির অনেক সাবেক ও বর্তমান নেতা বিএনএফ এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এমন অনেক গুজব ছড়ানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে সকল রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তাদের মধ্যেকার এক নেতা বলেন এটা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং গুজব। কারণ হিসেবে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনএফ রাজনৈতিক দলে যে সকল কথিত নেতা রয়েছে তাদের পরিচয় কি। জাতীয় জীবনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কথাও তিনি বলেন। এছাড়া তাদের নেতৃত্বে নিজের সম্পৃক্ততার কথা একেবারেই উড়িয়ে দিলেন।
জানা গেছে, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কখনোই জিয়াউর রহমানের রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও এখন জিয়ার আদর্শের কথা বলেই বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ১৯৭২ সালের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি পিকিংপন্থিছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ’র ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এর পর ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ভাসানী ন্যাপের সেকেটোরী জেনারেল ছিলেন। এরপর তিনি ওয়ান ইলেভেন কর্তৃক সৃষ্ট কল্যাণ পার্টির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়েন তিনি। এরপর রাজনৈতিক বেকারত্ব ঘুচানোর জন্য নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি মরহুম জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ভর করে ২০১১ সালের নভেম্বরে বিএনএফ পূনর্গঠন করেন। ভোটের রাজনীতিতে তিনি কখনো জাতীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।
বিএনএফ এর কো চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা জাহানারো বেগম তার রাজনৈতিক জীবনের শুর“তে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীত্ব পেলেও ২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের এলডিপিতে যোগদান করে দেশব্যাপী সাড়া ফেলেন। এরপর  তিনি ২০১২ সালে এলডিপি ত্যাগ করে বিএনএফ যোগদান করেন।
সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল আরিফ মাঈনুদ্দিন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে ১৯৭৯ নির্বাচনে চট্টগ্রামে একটি আসন থেকে প্রতিদন্দিতা করে জয়লাভ করেন এবং জিয়ার মন্ত্রীসভায় জায়গা পান। এরপর তিনি আর কখনো জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ২০০৬ সালের কর্নেল অলির এলডিপিতে যোগদান করেও তিনি এখন বিএনএফ এর সাথে রেয়েছেন।
বিএনএফ গঠনের শুরুতে বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি এখন আর এ সংগঠনের সাথে নেই। এক আলাপচারীতায় ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেন, যাদের প্ররোচনায় এবং পরিকল্পনায় তিনি বিএনএফ সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়েছিলেন তাদের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি এ সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

অন্য খবর  পশ্চিমবঙ্গে কুমারী সাজলেন এক মুসলিম কন্যা

Comments

comments