দোহার পৌরসভা বাজেট: উন্নয়ন খাতে সর্বাধিক আয় ও ব্যয়

812

মাসুম পারভেজ রবিন ♦

গত মঙ্গলবার দোহার পৌরসভার ২০১১-২০১২ অর্থবছরের ১৭৬,১৮৮,২৮৯.৮৬ টাকার বাজেট ঘোষিত হয়, গত ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৮১,৯১৪,২৭৮.৮৬ টাকার। বাজেটে উন্নয়ন খাত সমূহ হতে সবচে’ বেশি আয় আসবে, এবং উন্নয়ন খাতেই সবচে’ বেশি ব্যয় হবে। এরপর রয়েছে রাজস্বখাত, রাজস্ব খাতে আয় ২০১০-১১ অর্থ বছরের সংশোধিত আয় বাজেট হতে ১০,১৪৮,৮১৩.০০ টকা বেশি।। গত অর্থবছর থেকে পানি সরবরাহ খাতটি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

আয়ের খাত

আয়ের খাতপ্রস্তাবিত আয়প্রারম্ভিক জেরমোট
রাজস্ব খাত ৩৩,২৭২,৫০০.০০২৮৫,৩৬৮.৪৫৩৩,৫৫৭,৮৬৮.৪৫
পানি সরবরাহ খাত১০,১০৭,০০০.০০১০০,০০০.০০১০,২০৭,০০০.০০
উন্নয়ন খাত১১১,৬০০,০০০.০০২০,৮২৩,৪২১.৪১১৩২,৪২৩,৪২১.৪১
মোট আয়১৫৪,৯৭৯,৫০০.০০২১,২০৮,৭৮৯.৮৬১৭৬,১৮৮,২৮৯.৮৬

 

বিস্তারিত আয়ের খাত

 

১. কর সমূহ                                           ২১,৭৮৫,০০০.০০

২. রেইট                                               ৬০০,০০০.০০

৩. ইজারা ও অন্যান্য                              ৫,৯১২,৫০০.০০

৪. স্বেচ্ছা অনুদান                                    ৫০০,০০০.০০

৫. উন্নয়ন খাত ব্যতিত সরকারী অনুদান     ২৫০,০০০.০০

৬. সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী       ১৩,০০০,০০০.০০

৭. রাজস্ব উদ্বৃত্ত                                       ৭,৫০০,০০০.০০

৮. জামানত                                           ১০,০০০,০০০.০০

৯. পানি সরবরাহ খাত                            ১০,১০৭,০০০.০০

১০. বিবিধ প্রকল্প                                   ৮০,৮৫০,০০০.০০

১১. অন্যান্য                                        ৪,৪৭৫,০০০.০০

আয়ের বড় অংশটি আসবে বিভিন্ন প্রকল্প হতে যা উন্নয়ন খাতের অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্প সমূহের মধ্যে আছে হাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পৌর ভবন নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্প, দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রকল্প, বিএমডিএফ–উপ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এরপর কর হতে আসবে সর্বাধিক আয় যা মোট আয়ের ১৫ শতাংশ। অন্যান্য আয়ের মধ্যে রয়েছে ফিস বাবদ আয়, স্মরণীকার বিজ্ঞাপন হতে আয়, ব্যাংক হতে প্রাপ্ত মুনাফা। অন্যান্য আয় মোট আয়ের ৩ শতাংশ।

 

অন্য খবর  একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করেছেঃ সালমান এফ রহমান

ব্যয়ের খাত

ব্যয়ের খাতপ্রস্তাবিত ব্যয়সমাপনিস্থিতিমোট
রাজস্ব খাত৩২,৮২৫,০০০.০০৭৩২,৮৬৮.৪৫

৩৩,৫৫৭,৮৬৮.৪৫

পানি সরবরাহ খাত৯,২০৭,০০০.০০১,০০০,০০০.০০১০,২০৭,০০০.০০
উন্নয়ন খাত১২৩,০৫০,০০০.০০৯,৩৭৩,৪২১.৪১১৩২,৪২৩,৪২১.৪১
মোট ব্যয়১৬৫,০৮২,০০০.০০২১,২০৮,৭৮৯.৮৬১৭৬,১৮৮,২৮৯.৮৬

উন্নয়ন খাত হল ব্যয়ের সবচে বড় খাত যা মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ। উন্নয়ন খাতে আয় হল মোট আয়ের ৭২ শতাংশ, এতে দেখা যাচ্ছে এই খাতে আয়ে চেয়ে ব্যয় ৩ শতাংশ বেশি। এই খাতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প সমূহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খরচ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন খরচ হবে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও রাজস্ব তহবিল হতে।

 

 

বিস্তারিত ব্যয়ের খাত

১. সাধারণ সংস্থাপন                                      ১৩৭৮৫০০০.০০

২. শিক্ষা ব্যয়                                                ২৫০০০.০০

৩. স্বাস্থ্য ও পয়ঃ প্রণালী                                 ১১১০০০০.০০

৪. কর আদায় খরচ                                         ৫০০০০.০০

৫. বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ                  ৩০,০০০.০০

৬. সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান           ২১০,০০০.০০

৭. অবকাঠামো                                              ২১,২০০,০০০.০০

৮. বিবিধ প্রকল্প ব্যয়                                      ৯১,৮০০,০০০.০০

৯. জামানত                                                 ১০,০০০,০০০.০০

১০. পানি সরবরাহ খাত                                   ৯,২০৭,০০০.০০

১১. অন্যান্য                                                 ১,৬৬৫,০০০.০০

অন্যান্য ব্যয় সমূহের মধ্যে আছে ভূমি উন্নয়ন কর, অডিট খরচ, জাতীয় দিবস উদযাপন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরী ত্রাণ. অন্যান্য, স্মরণীকা প্রকাশনা, রাজস্ব উদ্বৃত্ত উন্নয়ন হিসাবে স্থানান্তরিত অর্থ ও ব্যাংক কমিশন ও চার্জ সমূহ।

রাজস্ব খাতে উপ-মোট আয় গত দুই অর্থ বছরে প্রতি বছর বেড়েছে এক কোটি টকা করে। এই খাতে পৌরসভার আয় ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী বছর শেষে রাজস্ব খাতে উদ্বৃত্ত আয থাকবে ৭৩২,৮৬৮.৪৫ টাকা। প্রারম্ভিক জের বাদ দিলে উন্নয়ন খাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় কিছুটা বেশি। পানি সরবরাহ খাতে পৌরসভার আয় ১০,২০৭,০০০.০০ টাকা, এবং ব্যয় ৯,২০৭,০০০.০০ টাকা, এ খাতে উদ্বৃত্ত থাকবে ১,০০০,০০০.০০ টাকা। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট ও গত দুটি বাজেটে দেখা যাচ্ছে যে পৌরসভার আর্থিক কর্মকাণ্ড ধারাবিহক ভাবে প্রায় দ্বিগুন হারে বাড়ছে। চলতি বাজেটে পৌরসভা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যেমন, কিচেন মার্কেট চালু, বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এখন এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নই দেখার বিষয়।

 

অন্য খবর  বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ১০০ টি অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে- আমেরিকায় সালমান এফ রহমান এমপি

নিউজ ৩৯

Comments

comments