একজন নাজমুল হুদা ও একটি ধানের শীষ……

534
বিজ্ঞাপন

রাজনীতিতে সাবেক যোগযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সাম্প্রতিক কর্মকান্ড দোহার-নবাবগঞ্জ সহ সারা দেশে জন্ম দিয়েছে নানা কৌতূহলের।বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সর্বকনিষ্ঠ এই সদস্য, যার রক্তের প্রতিটি স্পন্দনে রয়েছে বিএনপি সেই ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার হুট করে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষনা রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিএনপিতে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে গত ১০ আগষ্ট নতুন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বি এন এফ)গঠন করেন ব্যারিস্টার হুদা। যদিও অতীতে মূল দল থেকে বেড়িয়ে নতুন দল করা অনেক প্রভাবশালী নেতার করুন পরিণতি তার অজানা বা  বোধগম্য নয়, সেটা নয়।তারপরও তার এই সিদ্ধান্ত অনেকে দেখছেন নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক হিসাবে।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি নাজমুল হুদার মতো একজন বিজ্ঞ ও ঝানু রাজনৈতিক নেতার এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত তার কোন কিছু না পাওয়ার বেদনা থেকে নয় বরং অন্য কোন দূরদর্শী লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে।আর পাওয়া না পাওয়ার প্রসঙ্গে যদি বলতে হয়, তবে তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে প্রায় সবই তিনি পেয়েছেন।এরপর ও যদি কিছু বাকি থাকে, চেষ্টা করলে সেটি  অর্জনও অসম্ভব ছিল এমন নয়।তার জন্য নতুন দল করার প্রয়োজনীতা কতটা যৌক্তিক তা আমার বোধগম্য নয়।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দাবীকে সমর্থন করে যদি ধরে নেই, তিনি নতুন দল বি এন এফ-এর মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতি করবেন এবং জাতীয় রাজনীতীতে মাথা উচু করে টিকে থেকে জনগনের পক্ষে কাজ করবেন।কিন্তু বি এন এফ-এর ঘোষনা পরবর্তী কার্যক্রম খুব জোরালোভাবে তার এই দাবীকে ও  সমর্থন করে না।নতুন রাজনৈতিক দল হিসাবে শুধু আত্মপ্রকাশ করে  অনেকটা নীরব দশর্ক হয়ে আছে বি এন এফ। ১০১ জনের কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এখনো তা গঠিত হয় নি। এমনকি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নিজ নির্বাচনি এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জ এ বিএন এফ এর কোন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর ব্যারিস্টার হুদা বলেন, “যেসব ত্যাগী নেতাকর্মী বিগত দিনে বিএনপি থেকে চলে গেছেন, যারা দলে সক্রিয় নন, তাদের এখন সংগঠিত করার চেষ্টা করবো। এটাই আমার নতুন রাজনীতি.”
অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থান গনতন্ত্রের উপর এঁকে দিয়েছে অজানা আতঙ্ক। দূর্নীতি, শেয়ার কেলেংকারী, পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎ ঘাটতি, সন্ত্রাস, গুম হত্যা, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে অভিযুক্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে বদ্ধপরিকর।অন্যদিকে সরকারের নানামুখী চাপ, সাংগঠনিক দুর্বলতায় অনেকটা কোনঠাসা প্রধান বিরোধীদল বিএনপি রাজপথে সরকার বিরোধী কোন দূর্বার আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারছে না।বিভিন্ন মামলার খড়গে জর্জরিত বিএনপির সিনিয়র মহাসচিব তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা দিশেহারা।যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার ইস্যুতে টালমাটাল জামায়াতে ইসলামী বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জোটে আছে অনেকটা কাঠের পুতুলের ভূমিকায়।

এই নড়বড়ে অবস্থায়, আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপির সাংঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়া এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই।তারই অনুসর্গ হিসেবে ইতিমধ্যে বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে আঠারো দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধূরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও দাবি করেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এক প্লাটফর্মে আনা তার একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন সময়ে দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া অভিমানী, ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদেরকে বিএনএফ-এর পতাকা তলে জড়ো করে ভবিষ্যতে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনকি ঐ জোটের নির্বাচনী প্রতিক ধানের শীষ নিয়ে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আগামী নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করবেন না, সেই সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্য এবং তার সামগ্রিক কর্মকান্ড থেকে আমার মনে একটাই প্রশ্ন বার বার ধ্বনিত হয়, তবে কি বিএনএফ এর ব্যানারে বিএনপির ক্ষুব্ধ, অভিমানী নেতা কর্মীদের ঐক্যবব্ধ করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সংগঠিত করার বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা?

                                                                                                         লেখক- রুদ্র-প্রতাপ সিংহ

Comments

comments