মহাসমারোহে সুপার হিরোদের শেষ খেলা!

97
অ্যাভেঞ্জার্স

বলুন তো, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এ মার্ভেল দুনিয়ার ক’জন সুপার হিরো আছেন? ছবিটি দেখার আগে এই খবর জানার কথা নয় আপনার-আমার। কিন্তু যারা এতে অভিনয় করেছেন, সেই নামিদামি তারকাদের কাছেও নেই এর উত্তর! শুধু এটুকু জানাজানি হয়েছে, এর আগে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সুপার হিরোর সম্মিলন ঘটেনি কখনও।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মার্ভেল কমিকস ভক্তদের জন্য আয়োজিত বিশেষ এক আয়োজনে স্বয়ং ছবিটির পাত্রপাত্রীরাই সুপার হিরোর সংখ্যা জানাতে গিয়ে হিমশিম খেলেন। ডক্টর স্ট্রেঞ্জ চরিত্রের অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ যেমন বললেন, ‘আমার কোনও ধারণা নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক।’

‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবির রাজ্য ওয়াকান্ডার প্রিন্সেস শুরি বুদ্ধিমতী হলে কী হবে, এ চরিত্রের অভিনেত্রী লেটিসিয়া রাইটও ঠিকঠাক বলতে পারেননি সুপার হিরোর সংখ্যা। তার উত্তর ছিল, ‘শুনেছি ৬৪ জন।’ উইন্টার সোলজার চরিত্রের অভিনেতা সেবাস্তিয়ান স্তানের অনুমান, ‘সম্ভবত ৩০ থেকে ৪০ জন সুপার হিরো আছে এ ছবিতে।’ ভিশনরূপী পল বেটানির উত্তর, ‘আমাকে বলা হয়েছে ৩২ জন সুপার হিরো আছে।’ থরের ভূমিকায় অভিনয় করা ক্রিস হেমসওর্থের ধারণা, সুপার হিরোর সংখ্যাটা হবে ৭৬।

ছবিটিতে আরও থাকছে আয়রনম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, হাল্ক, স্পাইডারম্যান, ব্ল্যাক উইডো, ব্ল্যাক প্যান্থার, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি বাহিনী। মোদ্দাকথা, মার্ভেল কমিকসের প্রায় সব অতিমানবের একত্র হয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এ। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন দুই ভাই জো রুশো ও অ্যান্থনি রুশো। তারা এর আগে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ সিরিজের দুটি ছবি পরিচালনা করেন। রুশো ভাইয়েরা আশ্বাস দিয়েছেন ‘এ ছবিতে অনেক সুপার হিরোকে পাবেন। পোস্টারে গুনে দেখলাম ২৪ জন। কিন্তু আমাদের গোনায় ভুল হয়েছে সম্ভবত। আবার গুনতে হবে!’

কেন কেউ জানেন না? উত্তরটা জানলে অদ্ভুত লাগতে পারে। ছবিটির সব অভিনেতা-অভিনেত্রীকে গল্প কিংবা কাহিনি না জানাতে গোপনীয়তার শপথ করানো হয়েছিল। তবুও বেশিরভাগ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে শুধু তাদের অংশের চিত্রনাট্য দেওয়া হয়েছে। যারা পুরো চিত্রনাট্য পেয়েছিলেন পরে দেখা গেছে তা নকল! কোনও কোনোদিন এমনও হয়েছে, তারা সেটে যাওয়ার আগে জানতেন না কোন দৃশ্যের শুটিং হবে। স্পাইডারম্যান চরিত্রের অভিনেতা টম হল্যান্ডকে তো চিত্রনাট্যের কোনও অংশই দেওয়া হয়নি। কারণ, ‘স্পাইডারম্যান: হোমকামিং’ (২০১৭) ছবির বেশ কিছু বিষয় মুক্তির আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ অভিনেতা। তাছাড়া নিজেই স্বীকার করেছেন, পেটে কথা রাখতে পারেন না তিনি।

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবির প্লট যেভাবেই হোক গোপন রাখতে লোক পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুটিংয়ে গোপনীয়তাই ছিল নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোর একাধিক সংস্করণ শুটিং করা হয়। একইভাবে শেষ দিকের দৃশ্যগুলোর কাজ হয়েছে একাধিক। ২০১৭ সালের ১ মে যুক্তরাজ্যের ডারহ্যাম ক্যাথেড্রালে ছবিটির শুটিং শুরু হয়। সেখানে ছিল কড়া নিরাপত্তা। ক্যাথেড্রালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মার্ভেলের আর কোনও ছবির ক্ষেত্রে এমন গোপনীয়তা ছিল না।

কাহিনির ছিটেফোঁটাও যেন কেউ জানতে না পারে, সেজন্য নেওয়া হয়েছিল এমন ব্যবস্থা। বিশেষ করে নির্মাতাদের চাওয়া ছিল—কোন সুপার হিরোর মৃত্যু হবে তা ফাঁস হওয়া চলবে না কোনোভাবেই। এমনিতে জল্পনা চলছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবিতে নিভে যাবে আয়রনম্যানের ভাগ্য। আসলেই তার ভাগ্যে কী আছে? তার কী সত্যিই মৃত্যু হবে? ১০ বছর আগে তাকে দিয়েই তো শুরু হয়েছিল মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স। কিন্তু এ চরিত্রের অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র নিজেই জানেন না ছবিটির শেষটা কীভাবে হয়েছে। সিঙ্গাপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘মার্ভেল আমাকে এটাও বলেনি কীভাবে শেষ হচ্ছে ছবিটি।’

গত ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হওয়ার আগে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কেউই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ পুরোটা দেখার সুযোগ পাননি। তবে সাংবাদিকদের পুরো ছবি দেখানো হয়নি। তারা কেবল কিছু অংশ দেখতে পেরেছেন। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্লটের মুহূর্তগুলো গোপনই রাখা হয়েছে। এর আগে অনলাইনে ছাড়া হয়েছে কেবল ছোট ছোট ক্লিপ। এসব টিজার ও পোস্টার এখন সবার মুখে মুখে। সবাই অতি উৎসাহ নিয়ে ছবিটির অপেক্ষায়। সুপার হিরো ও সুপার ভিলেনের মধ্যকার শেষ খেলায় কোন চরিত্র মারা যাবে তা নিয়েই মূলত জল্পনা বেশি।

অন্য খবর  দিতির অবস্থা আশঙ্কাজনক

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর পরিচালক দুই ভাই অ্যান্থনি ও জো রুশো এক বার্তায় সমালোচকদের বলেছেন, ‘ছবি দেখে অন্যদের গল্প আর ক্লাইম্যাক্স বলে মজাটা নষ্ট করে দেবেন না। আপনার বেলায়ও সিনেমা হলে যাওয়ার আগে এটি মজা ভেস্তে যাওয়ার মতো মনে হতে পারে।’

রুশো ভাইদের জন্য আশার কথা, সমালোচকরা ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের কাছ থেকে ফাইভ স্টার পেয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। এক সমালোচকের মন্তব্য, এটি পুরোপুরি বিনোদনমূলক শোডাউন। ভ্যারাইটি এই ছবি প্রসঙ্গে বলছে, মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ছবি! ফাইভ স্টার রিভিউতে ডেইলি মিরর পত্রিকার ক্রিস হানিসেটের মন্তব্য, পরিচালনার মুন্সিয়ানা দেখে চমকে যাবে ভক্তরা। টুইটারে অনেক ভক্তের দাবি, এটাই মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের সেরা ছবি। বিশেষ করে এর শেষ এক মিনিট হৃদয়ছোঁয়া।

গত এক দশকে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের যে ১৮টি ছবি মুক্তি পেয়েছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর মাধ্যমে এর চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে। আগের ছবিগুলোর কাহিনি এবার মিলবে একই মোহনায়। এজন্যই ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহলের মাত্রা একটু বেশি। ২০১২ সালের ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ ও ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’-এর সিক্যুয়াল বলা হচ্ছে নতুন কিস্তিকে। এবারের গল্পে যেসব নুড়িপাথর কব্জা করতে মরিয়া হবে থানোস, সেগুলোকে ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ (২০১৪) ছবিতে ইনফিনিটি স্টোনস অর্থাৎ অনন্ত রত্ন হিসেবে উল্লেখ করেছিল কালেক্টর (বেনিসিও দেল তোরো) চরিত্রটি। এগুলো হলো স্পেস, রিয়েলিটি, পাওয়ার, মাইন্ড, টাইম ও সৌল স্টোনস। আকারে ছোট হলেও এগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা কল্পনাতীত। এ কারণেই থানোস নিজের হাতের দস্তানায় বসাতে চায় এসব পাথর।

সুপারভিলেনের সঙ্গে লড়তেই মূলত মার্ভেল দুনিয়ার প্রায় সব সুপার হিরোকে জোট বাঁধতে হয়েছে। পৃথিবীকে যেভাবেই হোক বাঁচাতে হবে ভয়ঙ্কর এই শত্রুর হাত থেকে। তার কারণেই মার্ভেল কমিকসের জনপ্রিয় প্রায় সব অতিমানব একসঙ্গে অভিযানে নামছে। তাদের প্রতিপক্ষ থানোস হলো কম্পিউটারে বানানো একটি চরিত্র। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন হলিউড অভিনেতা জশ ব্রোলিন।

স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করা টম হল্যান্ড বলেছেন, ‘সর্বগ্রাসী ভিলেন থানোস খুব মজার চরিত্র। কারণ, তার লক্ষ্য পৃথিবীকে ধ্বংস করে পৃথিবীকে রক্ষা করা! এটা এমন কিছু যা আমরা আগে কখনও দেখিনি। এ ছবির বেশিরভাগই তার চোখ দিয়ে দেখা।’ প্রযোজক কেভিন ফিজ নিজের বর্ণনায় বলেন, ‘মার্ভেলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিশাল, বলিষ্ঠ ও মন্দ ভিলেন হলো থানোস।’

এক ছবিতে সুপার হিরোদের মহাসমারোহ, তাই বক্স অফিসে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৫ সালে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের আয় করে যে রেকর্ড গড়েছিল, তা ভেঙে দিতে পারে সুপার হিরোদের জোট। এর আয় সাড়ে ২৫ কোটি ডলার হবে বলে তাদের ধারণা। আয়রনম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, স্পাইডারম্যান, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি বাহিনী একফ্রেমে এলে বিশাল ধুন্ধুমার কিছু ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্টের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজের ছবিগুলোর ব্যাপক সাফল্যই এ ছবির প্রতি সবার আশা-আকাঙ্ক্ষা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৮ কোটি ডলার আয় করেছে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স। এবার শেষ খেলায় ভেঙে যেতে পারে অতীতের সব রেকর্ড। ছবিটি দেখতে সারা বিশ্বের ভক্তরা যে হুমড়ি খেয়ে পড়বে তা বোঝা যাচ্ছে বেশ ভালোভাবে।

অন্য খবর  রাজনীতিতে এলেন তামিল সুপারস্টার রজনীকান্ত

ইতোমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রির পুরনো সব রেকর্ড মাত্র ছয় ঘণ্টায় ভেঙে দিয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। অনলাইনে টিকিট বিক্রির মার্কিন ওয়েবসাইট ফ্যানড্যানগো জানিয়েছে, মার্ভেলের সবশেষ ব্লকবাস্টার ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর চেয়ে দ্বিগুণ অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে এবার। আগাম টিকিট বিক্রি থেকে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ঘরে তুলেছিল ২০ কোটি ডলারের বেশি। সবার আগে আছে ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘অ্যাভেঞ্জার্স’(২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার)। এর মোট আয় হয়েছিল দেড়শ’ কোটি ডলার।

শুধু তাই নয়, নতুন ছবির অগ্রিম টিকিট বিক্রি ছাড়িয়ে গেছে মার্ভেলের আগের সাত ছবি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘থর: র্যা গনারক’, ‘স্পাইডারম্যান: হোমকামিং’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি, ভলিউম. টু’, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ ও ‘অ্যান্ট-ম্যান’-এর সম্মিলিত আয়কে। আর কোনও সুপার হিরো ছবির এই রেকর্ড নেই। নতুন ছবিটির জন্য দর্শকরাও যে মুখিয়ে আছেন তা ভালোই বোঝা যাচ্ছে। হলিউডে গত এক দশকের সবচেয়ে আলোচিত ছবি বলে কথা। কমিক বই অবলম্বনে সুপার হিরো ভক্তদের জন্য সর্বকালের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ছবি বলা হচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’কে।

আর মাত্র একদিন পরেই সব জল্পনা ও অপেক্ষার অবসান ঘটবে। তারপরেই রুপালি পর্দায় আসবে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সুপার হিরো ছবি। ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিও মোশন পিকচার্সের পরিবেশনায় শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) মুক্তি পাবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে ছবিটি।

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবির ১০ টুকিটাকি

১. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ হলো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ১৯তম ছবি।

২. ছবিটির ব্যাপ্তি ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। মার্ভেলের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ছবি। এর বাজেট ৪০ কোটি ডলার।

৩. এবারই প্রথম গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি বাহিনীর সঙ্গে অ্যাভেঞ্জার্স সদস্যদের সাক্ষাৎ হবে।

৪. মার্ভেল স্টুডিওস জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ৬৪টি মূল চরিত্র আছে এ ছবিতে। তবে তারা সবাই সুপার হিরো কিনা তা পরিষ্কার নয়।

৫. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এ দেখা যাবে দুনিয়ার বাঘা বাঘা তারকাকে। তাদের মধ্যে ওপরে উল্লেখ করা অভিনেতারা ছাড়াও আছেন— ক্রিস ইভান্স, মার্ক রাফেলো, স্কারলেট জোহানসন, জেরেমি রেনার, স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, ক্রিস প্রাট, জোয়ি স্যালডানা, ডেভ বাউটিস্টা, ব্র্যাডলি কুপার, ভিন ডিজেল, ডন শিডল, অ্যান্থনি ম্যাকি, এলিজাবেথ ওলসেন, টম হল্যান্ড, পল রুড, টম হিডলস্টন, চ্যাডউইক বোসম্যান।

৬. এ ছবির মাধ্যমে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র আয়রনম্যান চরিত্রে ও ক্রিস ইভান্স ক্যাপ্টেন আমেরিকার ভূমিকায় নবমবারের মতো অভিনয় করলেন। এর আগে কেবল হিউ জ্যাকম্যান ‘এক্স-মেন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির উলভারিন চরিত্রে নয়বার পর্দায় এসেছেন। এজন্য রবার্ট ডাউনির ১০ বছর, ইভান্সের সাত বছর ও জ্যাকম্যানের লেগেছে ১৭ বছর।

৭. মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের দ্বিতীয় কোনও ছবির নামে ‘ওয়ার’ শব্দটি ব্যবহার হলো। আগের ছবিটি ছিল ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’। সেটিও পরিচালনা করেন রুশো ভ্রাতৃদ্বয়।

৮. মুক্তির আগেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছবির তালিকায় দুই নম্বরে আছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। এর সামনে কেবল ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’। ওই ছবিতেও মার্ভেলের বেশ কয়েকজন সুপার হিরোকে দেখা গেছে এক ফ্রেমে।

৯. ইউটিউবে এর ট্রেলার প্রকাশের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেখা হয়েছে ২৩ কোটি বার। এর আগে পৃথিবীর কোনও ছবির ট্রেলার এত কম সময়ে এতবার দেখা হয়নি। কম সময়ে সর্বকালের সবচেয়ে বেশিবার দেখা ট্রেলারের রেকর্ড ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবির দখলে।

১০. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ছবির মধ্য দিয়ে শুরু হলো ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজের বিদায়ের দামামা। আগামী বছরের এপ্রিলে মুক্তি পাবে অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের আরেকটি পর্ব। তবে এর নাম চূড়ান্ত হয়নি এখনও।

Comments

comments