আজ শুরু আইপিএল; শুরু হচ্ছে চায়ের দোকানের জুয়া

165
আজ শুরু আইপিএল; শুরু হচ্ছে চায়ের দোকানের জুয়া

আজ শুরু হচ্ছে সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় টি-২০ ক্রিকেটের আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ। সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে আইপিএল মানেই আলাদা রোমাঞ্চে ভরপুর এক বিনোদন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই টুর্নামেন্ট এখন আর শুধু বিনোদনের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গরে উঠেছে ভ্রাম্যমান জুয়ার আসর। যার থেকে বাদ নেই দোহার-নবাবগঞ্জও। দোহার-নবাবগঞ্জের চায়ের দোকানগুলোতেই বসতে শুরু করবে জুয়ার জমজমাট আড্ডা। সারা দিনের উপার্জন করা টাকাটা হয়তো জুয়ার টেবিলেই উড়ে যাবে, বাসার স্ত্রী বা বাচ্চাদের হয়তো নাখেয়েই পার করতে হবে আরেকটি রাত।

ক্রীড়ামোদীদের মাঝে আইপিএল যে ভাবে এসেছিল তা আজ সেই স্থানে নেই। এর জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে শখের বসের বাজী আজ পরিনত হয়েছে অনানুষ্ঠানিক জুয়াতে। আর এই জুয়া গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে রুপ নিয়েছে মহামারিতে। আইপিএল কেন্দ্র করে শখের বসের জুয়া এখন আর আইপিএলে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এই জুয়া কম বেশি সারা বছরই হচ্ছে। তবে আইপিএলকে কেন্দ্র করে আবার নতুন করে জেগে উঠে এই জুয়া।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের ১১তম আসর। আজ থেকে দোহারের শতকরা প্রায় ৮০% চায়ের দোকান বা হোতেল পরিনত হবে অস্থায়ী জুয়ার আড্ডায়। আর এই জুয়ায় অংশ গ্রহন করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারন কর্মজীবি, জেলে, ছাত্র ও দোকানদাররা। ফলে অনেক সময় কিছু বাড়তি লাভের আশায় সারাদিনের পুরো মুজুরীটাই তারা হারিয়ে আসছে জুয়ার টেবিলে।

অন্য খবর  দোহার-নবাবগঞ্জের দশ বছর আগের কিছু ছবি

দোহারের প্রায় প্রতিটি বড় বাজারের চায়ের দোকানগুলো এক একটা জুয়ার আড্ডা। খেলা শুরুর টস থেকে শুরু করে খুঁটিনাটি প্রতিটি জিনিস নিয়েই হচ্ছে বাজির নামে জুয়া। কিছু কিছু চায়ের দোকান তো একধাপ এগিয়ে এসে নিজেরাই দায়িত্ব নেয় জুয়ার টাকার ভাগ বাটোয়ারা ও নিরাপত্তার। সেখান থেকে তারাও নিয়ে নিচ্ছে জুয়ার টাকার একটা ভাগ। ফলে একদিকে দোকানে যেমন চা বিক্রির থেকে লাভ হচ্ছে তার থেকে বেশি লাভ আসছে জুয়ার এই কমিশন থেকে।

কিছু কিছু জুয়ারির দেয়া তথ্য মতে দোহার-নবাবগঞ্জে সবচেয়ে হাই রেটে জুয়া খেলা হয় দোহার পৌরসভার বৌবাজারে। মাঝে মাঝে বাজির টাকা লাখের কাছে পৌছে যায় বলে জানায় তারা।

এছাড়া নবাবগঞ্জের কলাকোপা ও আগলা বাজারেও উচ্চ স্টকে আইপিএল কেন্দ্রিক জুয়ার কথা জানা যায়।

প্রশাসনের এই ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও তারা অসহায় হয়ে পড়েছে বিভিন্ন কারনে। বেশিরভাগ সময় তারা অভিযান চালালেও তথ্য ও প্রমানের অভাবে তারা নিতে পারছে না কোন ব্যবস্থা। তারা প্রশাসনের ব্যবস্থার চেয়ে তারা সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করার উপর বেশি জোর আরপ করেন। তাদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশি অভিযানে এরা স্বীকার করে না বা প্রমান পাওয়া যায় না যে এখানে জুয়া খেলা হচ্ছে। ফলে চাইলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তাই সামাজিক সচেতনতার কোন বিকল্প এখানে নেই। সেটা ছাড়া এটা দূর করা যাবে না। তারা জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতাই এর হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে। আর সামাজিক সচেতন করার জন্য মসজিদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখানে আছে। প্রতিটি মসজিদের জুম্মার খুতবায় এটা আলোচনা করলেই এই সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা সমাজের বিশিষ্ট জনদের।

অন্য খবর  জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ সম্রাটকে সাময়িকভাবে বহিস্কার

Comments

comments