পাকিস্তানকে এবার ছাড় দেবে না বিসিবি

252

বাংলাদেশ সফর স্থগিত করার কথা গণমাধ্যমে বললেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিসিবিকে কিছু জানায়নি পিসিবি। বিসিবির দাবি, আইসিসির ভবিষ্যত সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী এটি বাংলাদেশেরই সিরিজ। গতবার ছাড় দেওয়া হলেও এবার পাকিস্তানকে কোনোরকম ছাড় দেবে না বিসিবি।

পূর্নাঙ্গ সফরে আগামী জুলাইয়ে বাংলাদেশের আসার কথা পাকিস্তান দলের। খসড়া সূচি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে পা রাখার সম্ভাব্য তারিখ ৯ জুলাই। তবে বুধবার আচমকাই পিসিবি প্রধান শাহরিয়ার খান ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে জানান, দুই বোর্ডের সমঝোতায়ই সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বিসিবির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া অবশ্য দুই বোর্ডের সম্মতির ব্যাপারে পিসিবি প্রধানের দাবিটা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিসিবি মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলছেন, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে তারা অবাক।

“আমরা সত্যিই বিস্মিত। আমরা এক মাস আগেও জানতাম তারা এখানে সফর করবে। ২০১৫ সালে পর আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল যে পরের দুটি সিরিজ তারা আমাদের এখানে খেলবে। তখন একটা আর্থিক ইস্যু ছিল। বিষয়টি তখন নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। তারা বলেছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকাতেই খেলবে।”

“দুবাইয়ে আইসিসির সভায় পাকিস্তানের সভাপতি ও আমাদের সভাপতির কোন একটা সময়ে সফর নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। তারা চাচ্ছে, বাংলাদেশ দল কমপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি পাকিস্তানে গিয়ে খেলুক। বাকিটা এখানে কন্টিনিউ করবে। কিন্তু আমরা চাচ্ছি না ওখানে গিয়ে খেলতে। এফটিপি অনুযায়ী এটা বাংলাদেশের সিরিজ। ওদের সফর আমাদের প্রাপ্য। সম্পুর্ণ সিরিজটা এখানেই খেলতে চাই।

অন্য খবর  পর্তুগালের বিপক্ষেও জয়ের ধারায় ইংল্যান্ড

এফটিপি অনুযায়ী বাংলাদেশের সিরিজ হলে পাকিস্তান সফরে না এলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে বিসিবির। জালাল ইউনুস জানালেন, পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেই পরবর্তী করণীয় ভাববে বিসিবি।

“আমরা এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোন কিছু পাইনি। এটা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা এখনো অফিসিয়ালি কনফার্মড না। জানালে তখন ভাবব কি করা যায়। এখন পর্যন্ত জানি, তারা এখানেই আসবে। আমরা আমদের সূচিতেই থাকব। আমাদের প্রস্তাবিত সূচি তাদের কাছে দিয়ে দিব।”

সবশেষ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তান। সেবারও সফরের আগে ছিল নানা টানাপোড়েন। পাকিস্তানে খেলতে বাংলাদেশের যাওয়ার দাবিসহ নানা দাবি-দাওয়া ছিল পিসিবির। গুঞ্জণ আছে, বাংলাদেশে আসার বিমান ভাড়াও দাবি করেছিল তারা।

সেবারের সফর টেকনিক্যালি নিজেদের ‘হোম’ সিরিজ দাবি করে শেষ পর্যন্ত বিসিবির কাছ থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার নিয়েছিল পিসিবি। সেটি পাকিস্তানের হোম সিরিজ হলে এবার সিরিজ বাংলাদেশেরই হওয়ার কথা।

এবারও পাকিস্তান সেরকমই কিছু আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা আদায় করার জন্য এরকম টালবাহানা করছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। জালাল ইউনুস জানিয়ে দিলেন, সেসবের সুযোগ নেই এবার। “এখানে কিন্তু টাকা-পয়সার ব্যাপার না। টাকা-পয়সার বিষয়গুলো গতবারই ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার কিছু বলার সুযোগ নেই।”

অন্য খবর  রিয়ালের জাদুঘরে চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি রাখার জায়গা নেই!

এই বিসিবি পরিচালকের শেষ কথাতেই অনেকটা স্পষ্ট বিসিবির অবস্থান। আনুষ্ঠানিকভাবে পিসিবি এখনও কিছু জানায়নি বলে আশা ছাড়ছে না বিসিবি। তবে জানা গেছে, এবার বিসিবি বেশ শক্ত অবস্থানে। পাকিস্তান সফরে না এলে নেই। সিরিজ হবে না। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরও কোনোভাবেই এবার কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

Comments

comments