৩১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করতে চায় ইউজিসি

57

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়ায় ৩১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায় সংস্থাটি। এর মধ্যে আছে দেশের  প্রথমসারির অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় রয়েছে ব্র্যাক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, ইউনির্ভাসিটি অব ডেভেলপমন্টে অল্টারনেট, আশা’র মতো বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র উচ্চপর্যায়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, সরাসরি ইউজিসি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করবে। চলতি মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়-১) বেগম জিন্নাত রেহেনা এক চিঠিতে ইউজিসিকে এ সংক্রান্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী সাময়িক সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর সংক্রান্ত কমটির সুপারশি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরীবিক্ষণ ও তদারকি করার জন্য মঞ্জুরি কমিশনকে অনুরোধ করা হলো। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস ইস্যুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যৌথভাবে গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা ইউজিসিকে দেয়া হলো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, নির্ধারিত সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে এখন থেকে আমরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। এ সংত্রুান্ত ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ওপর অর্পিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি এবার তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবো। অবকাঠামোসহ সবকিছু হওয়ার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়াসহ যৌক্তিক কারণ দেখিয়েছেন তাদের বিষয়টি সহনীয়ভাবে দেখা হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি যাদের নেই বা ইচ্ছে নেই তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

অন্য খবর  ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু : বাড়াবাড়ি না করার হুঁশিয়ারি

জানা গেছে, আগামী জানুয়ারির মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক, প্রশাসনিক সব কার্যক্রম স্থানান্তর করতে না পারলে ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে সরজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেউ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হলেও নানা কারণে একাডেমিক কার্যক্রম স্থানান্তর করছে না। এরমধ্যে গ্রীন ইউনিভাসিটি পূর্বাচলে, আশা ইউনির্ভাটির তুরাগের ধউর এলাকায়, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি তেজগাঁও এলাকায়, ইউনাইটডে ইন্টারন্যাশনাল ইউনভাসিটি বাড্ডার সাঁতারকূলে, পিপল্‌স ইউনিভার্সিটি নরসিংদীর শিবপুরে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সাভারের বিরুলিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলেপমেন্ট অল্টারনেটিভ গাজীপুরের কুমারখাদার কাউলতিয়া, রয়েল ইউনিভার্সিটি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি টাঙ্গাইলে সাগরদিঘীর ধলাপাড়ায় জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেছে। এদের মধ্যে অনেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না। ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটি সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে সব কার্যক্রম স্থানান্তর করবে বলে জানিয়েছে জনসংযোগ বিভাগ।  সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি নির্ধারিত জমির চেয়ে কম জমিতে হাটখোলায় পরচালিত হচ্ছে। আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে নির্ধারিত জমি ক্রয় করতে না পারলে আগামী বছর ১লা জুলাই থেকে নতুন শিক্ষার্থী বন্ধ থাকবে।  রাজধানীর রাজারবাগের মোমিনবাগে অবস্থিত দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ। তারা কম জমিতে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে জমির শর্ত পূরণ না হলে ১লা জুলাই থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে। রংপুরের পুণ্ড্রু ইউনিভার্সিটি আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে ১লা জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে। এছাড়াও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং ইবাইসে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। পরস্পরের রিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান। তাই এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে ব্যাপারে কিছু বলেনি কমিটি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপুরি না যাওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সায়েন্সেস, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে হরেকৃষ্ণ কুসুম কলি বিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী

জানা গেছে, ইউজিসি’র সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের শর্ত জুড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হবে। এদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় বাড়ালেও তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

ইউজিসি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখনো ৩৯টি পুরোপুরিভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। তবে কেউ কেউ আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জমি কিনেছে। পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাত্র ১২টি। ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ওই আইন প্রণয়নের আগে দেশে ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করে। আইন পাস হলে ওই বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন মন্ত্রণালয় ‘রেড অ্যালার্ট জারি’ করে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় দেয়। মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়, ১৪ সালে তৃতীয় আর ১৫ সালের জুনে চতুর্থ দফায় সময় দেয়। চতুর্থ দফার মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

Comments

comments