পাঁচ বছর আগে ২৯তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েও চাকরি না পাওয়া কুমিল্লার সেই আব্দুল আউয়াল অবশেষে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার তাকে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্যবিভ্রাট/প্রশাসনিক কারণে আব্দুল আউয়ালের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-০০০৮৭৩) ফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। আদালতের গত ১০ জানুয়ারির আদেশ অনুযায়ী প্রার্থীর স্থগিত ফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এখন বিসিএস ফরমের সঙ্গে দেওয়া আউয়ালের তথ্য-উপাত্ত ও সনদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে তাকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে। ‘মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ঘোষণা ও যথাযথ এজেন্সি কর্তৃক প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যাচাইয়ের পর সরকার কর্তৃক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলেও সেখানে আব্দুল আউয়ালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল না। পরবর্তী সময়ে পিএসসির বার্ষিক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে যেসব নাম এসেছে তার মধ্যে আউয়ালের নাম ছিল সবার ওপরে, যা প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।

অন্য খবর  গণভবনে ইফতার পার্টিতে নাজমুল হুদা

ওই তথ্যের সূত্র ধরেই এগিয়ে যান আউয়াল, খোঁজ নেন পিএসসিতে। অবশ্য তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রথম হওয়ার মতো নয়, তার বিরুদ্ধে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে পিএসসি কোনো তদন্ত না করেই ২৯তম বিসিএস থেকে আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা করে। যদিও অসাবধানতাবশত বার্ষিক প্রতিবেদনে তার নামটি চলে আসে। এ নিয়ে ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

পরে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আউয়ালকে নিয়োগের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতে রিট করে আউয়াল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ফরমে ভুল করে নিজ জেলা কুমিল্লার স্থলে বান্দরবান ঘর ভরাট করেন। ফরম পূরণের দিন নিজের বোন মারা যাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত এই ভুল হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এখন পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেন, বিসিএসের ফলে তার রোল না থাকলেও বার্ষিক প্রতিবেদন দেখে জানতে পারেন পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তখন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। পরে হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ তাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্য খবর  ‘৯৪ সালের পর এমন বন্যা আর দেখি নি’

Comments

comments