স্পেনের ‘শেষকৃত্যে’ পর্তুগালের উৎসব?

64
স্পেনের ‘শেষকৃত্যে’ পর্তুগালের উৎসব?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বনাম সার্জিও রামোস। বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন বনাম সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু এতকিছুর পরও এখন পর্যন্ত রাশিয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘হাই-ভোল্টেজ’ ম্যাচের উত্তাপটা মাঠের চেয়ে বেশি মাঠের বাইরেই। দু’দিনের মাঝে ‘হুলেন লোপেতেগি ঝড়’ রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ ক্যাম্পকে। বিশ্বকাপের দু’দিন আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরদিনই তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্প্যানিশ ফেডারেশন। এই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই ঘণ্টাখানেকের মাঝেই রিয়ালেরই এক কিংবদন্তী ফার্নান্দো হিয়েরোকে বিশ্বকাপের জন্য কোচের দায়িত্ব দেয় ‘লা রোহা’রা। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট থেকে দু’দিনের মাঝে এতকিছুর পর তাই মূল আসরে স্পেন ঠিক কেমন করবে- সেটা আন্দাজ করাই কঠিন। আর প্রতিপক্ষের ‘গৃহযুদ্ধে’ অন্তত মানসিক দিক দিয়ে হলেও কিছুটা এগিয়ে আছে রোনালদোর দল। দল হিসেবে স্পেন যতই পর্তুগালের চেয়ে ভালো মানের হোক না কেন, সেই হিসাব এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

গতকাল বিশ্বকাপ শুরু হলেও, ‘আসল খেলা’ আসলে আজ।

তাহারা বলেন:

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই গত দু’দিনের ঘটনাচক্র নিয়েই অধিকাংশ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল স্প্যানিশ অধিনায়ক সার্জিও রামোসকে। কিছুটা হতাশ হলেও রামোসের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দরাজ কণ্ঠের নিচে চাপা পড়ে গেছে সেটা, “হ্যাঁ এটা সত্যি যে লোপেতেগির পুরো ব্যাপারটাই বেশ আকস্মিক ছিল। তার শেখানো ট্যাকটিকস, ফর্মেশনেই আমরা এগুচ্ছিলাম এবং আমাদের ফলাফল তার এবং আমাদের পক্ষে কথা বলে। স্বভাবতই দলের অনেকেই হতাশ এবং বিস্মিত এমন সিদ্ধান্তে। মনে হচ্ছে যেন কারো শেষকৃত্য চলছে। যাই হোক, এসব নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে আর মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের মূল লক্ষ্য জয় দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করা। আমার চোখে হিয়েরোই তার (লোপেতেগি) সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি।” অধিনায়কের মতই ম্যাচের দিকেই পুরো নজরটা রাখছেন হিয়েরো, “যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে আমাদের চলবে না। ছেলেদের আমি বলে দিয়েছি যে এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল আমরা এবং আমাদের সামনে বিশ্বজয়ের এক দারুণ সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। সব ভুলে এখন আমাদের গোটা ধ্যান-জ্ঞান ১৫ জুলাই লুঝনিকিতে ফাইনাল খেলা নিয়েই।”

অন্য খবর  হাড্ডিসার মডেলদের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বিল পাস

মাঠের বাইরে ঘটে যাওয়া এতকিছুর কোনোটিই টলাতে পারবে না ২০১০-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের; এমনটা মনে করেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো সান্তোসও, “স্পেন গত ১০ বছর ধরেই একই ঘরানার ফুটবল খেলে আসছে। কোচের পরিবর্তন তাদের খেলায় তেমন প্রভাব ফেলবে না। পুরো ব্যাপারটাই এখন ইতিহাস। কোচের কারণে স্পেন খর্বশক্তির দল হয়ে গেছে, এমন ভুল করতে যাচ্ছি না আমরা।” কোচের সাথে সুর মিলিয়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হোয়াও মুতিনিয়ো, “আমার মনে হয় না স্পেনের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে (কোচের ঘটনা)। তারা এখনও এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। কাল (আজ) বিশ্বকাপের অন্যতম কঠিন মিশনে নামছি আমরা।”

দলের খবর:

গ্রুপপর্বে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে পূর্ণশক্তির স্কোয়াডই পাচ্ছেন সান্তোস। আর স্পেনের একমাত্র সংশয় দানি কারভাহালের খেলা নিয়ে। ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও হয়ত তার জায়গায় তরুণ রাইটব্যাক আলভারো ওদ্রিওজোলাকেই দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তার মূল দায়িত্ব হবে আরেক তরুণ পর্তুগিজ উইঙ্গার গঞ্জালো গুইদেসকে রুখে দেওয়া। বাঁ-প্রান্তে আলবা-বের্নার্দোর লড়াইটাও হবে দেখার মত। আর দু’দলের দুই ‘ডেস্ট্রয়ার’ বুস্কেটস এবং কারভালহোর দক্ষতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছেন রামোস-পেপেরা। ডিয়েগো কস্তা এবং পেপের লড়াইটা সেই রিয়াল-অ্যাটলেটিকোর দিনগুলোর কথাই যেন মনে করিয়ে দেবে আজ। দুজনের একজন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের উত্তাপ বাড়তে পারে আরও।

অন্য খবর  ২০ বছর পর বিশ্বকাপে মরক্কো; তাদের সঙ্গী তিউনিসিয়া

সম্ভাব্য মূল একাদশঃ

পর্তুগাল (৪-১-৪-১): প্যাট্রিসিও; পেরেইরা, পেপে, ফন্ট, গুরেরো; কারভালহো; বের্নার্দো, মুতিনিয়ো, মারিও, গুইদেস; রোনালদো

স্পেন (৪-৩-৩): ডি গেয়া; ওদ্রিওজোলা, পিকে, রামোস, আলবা; বুস্কেটস, ইনিয়েস্তা, থিয়াগো; সিলভা, কস্তা, ইস্কো

সংখ্যায় সংখ্যায়:

আজকের আগে ৩৫ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে স্পেন-পর্তুগাল। স্পেনের জয় ১৩টিতে, পর্তুগাল জিতেছে মাত্র ৬টিতে। ২০১০ সালে এই পর্তুগালকে শেষ ১৬-তে বিদায় করেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়েছিল স্পেন। এবারের বাছাইপর্বের সেরা রক্ষণভাগ রামোস-পিকেদের (১০ ম্যাচে ৩ গোল হজম)। তবে স্প্যানিশদের এই রক্ষণভাগকে ভেদ করতে পর্তুগিজদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রোনালদো। ইউরোপের বাছাইপর্বের সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান ছিল তার (১৫ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট)। আর নিজেদের শেষ ৯ গ্রুপপর্বের ম্যাচে মাত্র ১ বারই হেরেছে পর্তুগিজরা। রোনালদোদের আরও আশা জাগাচ্ছে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে স্পেনের হতাশাজনক রেকর্ড (১২ ম্যাচে ২ জয়, ৩ ড্র, ৭ হার)।

স্পেন বনাম পর্তুগাল; গ্রুপ ‘বি’; সোচি; ১৫ (১৬) জুন, রাত ১২:০০টা; টেন ২/৩

Comments

comments