স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মরিনহোর হাসি কেড়ে নিলেন বার্কলি

৬ বছরের অপেক্ষাটা ঘুচল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, হোসে মরিনহোরও হাসিমুখে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ছাড়া হল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। মাঠ ছাড়ার সময় অবশ্য চেলসি সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে তিন আঙুল উঁচিয়ে মরিনহো মনে করিয়ে দিয়েছেন নিজের কীর্তির কথা। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি মার্শিয়ালের জোড়া গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। ৬ মিনিট ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষমুহুর্তে মরিনহোর হাসি কেড়ে নেন রস বার্কলি।

শেষ মুহুর্তের গোলে হার এড়িয়ে চেলসি তাই থেকে গেছে অপরাজিতই। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শেষের উল্লাসের সঙ্গে অবশ্য দৃষ্টিকটু একটা বিবাদও হয়ে গেছে একবার। বার্কলির গোলের পর মরিনহোকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা বলেছিলেন চেলসির ডাগ আউটের কেউ। তাকে শাসাতে গিয়েই নিজের সিট থেকে উঠে যান মরিনহো। পরে মাঠের নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় মেটে বিবাদ। কিন্তু ডাগআউটে ঝামেলা পরে ছড়িয়ে পরে মাঠের খেলাতেও। অবশ্য খেলার খুব বেশি সময় আর বাকি না থাকায় ঝামেলা আর বাড়েনি। তার আগ পর্যন্ত স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুই দলের খেলায়ই শিহরণ ছড়িয়েছে।

প্রথমার্ধে ঘরের মাঠে দাপট দেখিয়েছে মরিসিও সারির চেলসি। এডেন হ্যাজার্ড, উইলিয়ানরাই বল পায়ে রেখে খেলছিলেন বেশি, আক্রমণভাগকে ভরসা যুগিয়ে যাচ্ছিল চেলসির মিডফিল্ডও। সেই তুলনায় অবশ্য নিশ্চিত গোলের সুযোগ অল্পই তৈরি করতে পেরেছিল চেলসি। কিন্তু এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ায় খুব বেশি হতাশ হওয়ারও কারণ ছিল না তাদের। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে চেলসির করা প্রথম গোলটা অবশ্য ইউনাইটেড হজম করেছে নিজেদের ভুলেই। অ্যান্টনিও রুডিগারকে ডিবক্সের ভেতর মার্ক করেননি কেউই।  হেডে গোল করে তিনিই প্রথমার্ধে এগিয়ে দিয়েছিলেন চেলসিকে। বিরতিতে যাওয়ার সময়ও টানেলের পথ ধরে পল পগবা আর ভিক্টর লিন্ডেলফের মধ্যে তর্কটা চলছিল, রুডিগারের গোলে ভুলটা আসলে কে করেছে? সেখান থেকে শিক্ষাটা ভালোভাবে নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধে ফেরে দুর্দান্ত ইউনাইটেড।

অন্য খবর  সালাহর কাঁধে চড়ে ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে মিশর

গড়পড়তা চেহারাটা পালটে দ্বিতীয়ার্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রেখেছিল মরিনহোর দল। ম্যাচশেষে মরিনহো বলেছেন, তার দলই ভালো ফুটবল খেলেছে। মরিনহোর কথার যৌক্তিকতা দিচ্ছে দ্বিতীয়ার্ধটাই। ৫৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরে ইউনাইটেড, হুয়ান মাতার বাঁ পায়ের শট ঠেকিয়ে চেলসি গোলরক্ষক প্রাথমিক বিপদ দূর করেছিলেন। কিন্তু জটলা থেকে বল পেয়ে পান অ্যান্থনি মার্শিয়াল। দারুণ ফিনিশে কেপাকে পরাস্ত করে রেড ডেভিলদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড।

এরপর অবশ্য ডেভিড লুইজ ভালো একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন সেট পিস থেকে। ৬৫ মিনিটে তিনিও প্রায় ফাঁকাতেই পেয়েছিলেন বলটা, কিন্তু ৭ গজ দূর থেকে করা লুইজের হেড অল্পের জন্য চলে যায় বারপোস্টের বাইরে দিয়ে। মিনিট পাঁচেক পর ডেভিড ডি গিয়াও বাধা হয়ে দাঁড়ান চেলসির জন্য। এনগোলো কান্তের গোলমুখী শট ঝাঁপিয়ে পড়ে একহাতে শেভ করেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক।

৭২ মিনিটে আবারও মার্শিয়াল ম্যাজিক। লেফট উইং থেকে মাতা সূচনা করেছিলেন আক্রমণটা। এরপর পাস দেন মার্কোস র‍্যাশফোর্ডকে। তিনি আরেক পাসে ডিবক্সের ভেতরই খুঁজে পান মার্শিয়ালকে। ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে গোল করে ইউনাইটেডকে এরপর থেকেই জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন তিনি। ২০১৫ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে সময়ের হিসাব করলে এখন ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। আর দুই ম্যাচে তিন গোল করে নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাওয়ার দাবিটা আরও জোরালো করলেন মার্শিয়াল।

অন্য খবর  পর্তুগালে বিবর্ণ ইতালি

কিন্তু জয়ের নায়কটা হতে হতেও হওয়া হয়নি তার। শেষদিকে মোরাতার বদলি হয়ে নামা অলিভিয়ের জিরু ৯২ মিনিটে পেদ্রোর থ্রু পাস ধরে চেলসিকে সমতায় ফেরাতে চেয়েছিলেন, লিন্ডেলফ সেটা হতে দেননি। কিন্তু ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়টা একটু বেশিই লম্বা হয়ে গেল ইউনাইটেডের জন্য। শেষদিকে চেলসির চাপে আর লিডটাও তাই ধরে রাখা হয়নি মরিনহোর দলের। সেটপিস থেকে লুইজের হেড লাগে বারপোস্টে, এরপর রুডিগার আবার হেড করেছিলেন  ফিরতি বলে, ডি গিয়ার অতিমানবীয় সেভ- কোনোকিছুই আর রক্ষা করতে পারল না ইউনাইটেডকে। তৃতীয় চেষ্টায় বার্কলি ইউনাইটেডের জালে বল ঢুকিয়ে ইউনাইটেডের জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

Comments

comments