সৌদি থেকে ফেরত আসা নারীর সংখ্যা বাড়ছে

43
সৌদি আরব

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরত আসা নারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গত রোববার রাতে ফিরেছেন ২৯ নারী। এ পর্যন্ত মোট কত নারী দেশে ফিরলেন, সে তথ্য সরকারের কাছে নেই।

এনজিও ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত তিন বছরে (রোববার পর্যন্ত) সংখ্যাটি প্রায় পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার খণ্ডিত তথ্য এবং ব্র্যাকের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে গত ৩ জুন, রোববার পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় তিন শ নারী ফেরত এলেন।

গৃহকর্মী হিসেবে নারীদের সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য দুই দেশের চুক্তি আছে। যাওয়ার আগে সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আছে। তবে নির্যাতনের শিকার ফেরত আসা নারীদের নিয়ে সরকারের কোনো কার্যক্রম নেই।

রোববার রাত ১০টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কথা হয় সৌদি ফেরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে। চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তাঁরা। আজ ফেরত এসেছেন পলিথিনে ভরা কয়েকটি ছেঁড়া কাপড় নিয়ে। একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছবি, ভিডিও কইরা কী করবেন? পারলে অন্য নারীদের সৌদি যাওয়া ঠেকান। সৌদিতে আটকা পড়ছে যে নারীরা তাদের দেশে আননের ব্যবস্থা করেন।’ এই নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, রিয়াদের সফর জেলে থাকা আরও প্রায় ৫৯ নারী দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

অন্য খবর  ইয়েমেনের স্নাইপারের গুলিতে নিহত ১৯ সৌদি সেনা

 নারীদের প্রায় বেশির ভাগই স্বজনদের ফিরে আসার খবর দিতে পারেননি। ফলে বিমানবন্দরে ২৯ নারীর কোনো স্বজনের উপস্থিতি ছিল না। অনেকের বাড়িতে যাওয়ার টাকা নেই, আবার অনেকের হাতে মুঠোফোন নেই বলে কোনো স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

অনেক নারী জানেন না, কোন এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি গিয়েছিলেন। শুধু দালালের নাম জানেন। খাবার না দেওয়া, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পারলে ২০ ঘণ্টাই কাজ করানো, বেতন চাইলে মারধর করা, বাথরুমে আটকে রাখা, বাড়িতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়াসহ অসংখ্য নির্যাতনের কথা বলছিলেন একেকজন। যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি শিকার না করলেও আকারে-ইঙ্গিতে অনেকেই সে ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানালেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে যে নারীদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তাঁদের ব্র্যাকের একটি সেন্টারে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আর যাঁদের যাওয়ার জন্য হাতে টাকা নেই, সেই নারীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে কেউ ফিরলে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কয়েক দিন বেশি সময় আশ্রয় লাগলে অভিবাসন নিয়ে কর্মরত ওকাবের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।

অন্য খবর  সৌদি আরবে সিনেমা হলের প্রথম ছবি ব্ল্যাক প্যানথার

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ফেরত আসা নারীদের নিয়ে সরকারের কোনো কার্যক্রম নেই। ফেরত আসা নারীদের অনেককে পরিবার নিতে চাইছে না। সমাজে জায়গা হচ্ছে না। এই নারীদের জন্য জরুরি সহায়তা, সমাজে পুনর্বাসন এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার কোনো উদ্যোগ সরকার এ পর্যন্ত হাতে নেয়নি। অথচ ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ, এ পর্যন্ত গত তিন বছরে প্রায় পাঁচ হাজার নারী ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়টিতে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও ফেরত আসা নারীদের বিষয়ে করণীয় কি হতে পারে, তা নির্ধারণের জন্য স্টেকহোল্ডার মিটিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Comments

comments