সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে: শেখ হাসিনা

22
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আমার দুই ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। আমার ১০ বছরের ছোট ভাই, বড় হয়ে সে কী করতে চায়- এ প্রশ্নের জবাবে বলত, সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে। তাই সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে এ বাহিনীর উন্নয়ন করা আমাদের কর্তব্য।”

আজ (রোববার) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন সেনানিবাসে ২৭ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে সেনাবাহিনী।

তিনি বলেন, “সেনা সদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমরা সেনাবাহিনী প্যারা কমান্ডো ইউনিট চালু করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “ সেনাসদস্যদের জন্য দুপুরে রুটির পরিবর্তে ভাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সেনাবাহিনীর কাছে তাদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছিলেন, আমাদের দুপুরে রুটি দেয়া হয়, আমরা ভাত খেতে চাই। ওই সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। আমি কথা দিয়েছিলাম- তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমি ভাত খাব না। আমি ভাত খাইনি। তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করার পর আমি তাদের সঙ্গে বসে দুপুরের ভাত খেয়েছি।”

অন্য খবর  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা নেই : শেখ হাসিনা 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৯৬ সালে মেয়েদের সেনা ও বিমানবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা করি। নারী পাইলট সংযোজন করে নতুন যুগের সূচনা করি। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্র করে দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সেনা সদস্যের জন্য ২ লাখ টাকার দুস্থ ভাতা ৬ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এলপিআর এর মেয়াদ ছয় মাসের বদলে এক বছর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর জেসিও পদকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণির করা হয়েছে। সার্জেন্টকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “যখনই প্রয়োজন হবে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে। এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অতীতের মতো সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিতে দেশের সুনাম বহির্বিশ্বে বেড়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, চুক্তি হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো কিছু করছে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Comments

comments