সেই লর্ডসেই পাকিস্তানের কাছে নতজানু ইংল্যান্ড

74
সেই লর্ডসেই পাকিস্তানের কাছে নতজানু ইংল্যান্ড

গ্রীষ্মের শুরুটা ভুলে যাওয়ার মতোই হলো ইংল্যান্ডের। এমনিতে লর্ডস তাদের জন্য খুব পয়া ভেন্যু নয়, দুই বছর আগেই পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ার পর মিসবাহদের সেই ইতিহাস হয়ে যাওয়া পুশ আপ। সেই লর্ডসে এবার চার দিনেই ইংল্যান্ড হেরে গেল পাকিস্তানের কাছে, ৯ উইকেটের হার দিয়েই শুরু হলো দুই টেস্টের সিরিজ।

অথচ আজ সকালে যখন খেলা শুরু হচ্ছে, তখনও কিছুটা জিইয়ে ছিল রোমাঞ্চ। তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের আলোয় আশা দেখাচ্ছিলেন জস বাটলার ও ডম বেস। ১১৫ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত ছিলেন দুজন।  ৪ উইকেট হাতে নিয়ে লিড হয়ে গিয়েছিল ৫৬ রানের। কিন্তু সকালের শুরুটাই ইংল্যান্ডের হলো দুঃস্বপ্নের মতো। মোহাম্মদ আব্বাসের ইনসুইঙ্গার বুঝতে না পেরে এলবিডব্লু হয়ে গেলেন জস বাটলার। রিভিউ নিয়েছিলেন, তাতে লাভ হয়নি। সকালে মাত্র ১ রান যোগ করতেই উইকেট হারাল ইংল্যান্ড, বাটলার ফিরলেন ৬৭ রানে।

এরপরেই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ডের ইনিংস। মার্ক উডকে দারুণ এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানালেন মোহাম্মদ আমির, পরের ওভারেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন আব্বাস। অন্য পাশে বেসের ফিফটি হয়ে গেছে, কিন্তু রান আর খুব বেশি হলো না। ৫৭ রান করে আমিরের দুর্দান্ত একটি বলে ছত্রখান হয়ে গেল তাঁর স্টাম্প। ৬ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারাল ইংল্যান্ড, আরও একটি ব্যাটিং বিপর্যয়ে শেষ হয়ে গেল আশা। পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়াল মাত্র ৬৪ রান।

অন্য খবর  চার দলের সেমিফাইনাল মিশন শুরু বুধবার

সেটা রক্ষা করতে হলে ইংল্যান্ডকে করতে হতো অলৌকিক কিছু। ১২ রানে আজহার আলীকে বোল্ড করে জেমস অ্যান্ডারসন যদি স্বপ্ন একটু দেখিয়েও থাকেন, সেটা ভেঙে গুড়োগুড়ো করে দিয়েছেন হারিস সোহেল ও ইমাম উল হক। ১২.৪ ওভারেই লক্ষ্যটা টপকে গেছেন। ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন ইমাম, ৩২ বলে ৩৯ রান করেছেন সোহেল। তবে দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে আব্বাসই ছিলেন সফলতম বোলার।

ইংল্যান্ড ১৮৪ (কুক ৭০; আব্বাস ৪/২৩ , হাসান ৪/৫১) এবং ২৪২ (রুট ৬৮, বাটলার ৬৭; আমির ৪/৩৬, আব্বাস ৪/৪১)

পাকিস্তান ৩৬৩ (বাবর ৬৮, শফিক ৫৯, শাদাব ৫২, আজহার ৫০; স্টোকস ৩/৭৩, অ্যান্ডারসন ৩/৮২) এবং ৬৬/১

ফলঃ পাকিস্তান ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ আব্বাস

Comments

comments