সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের ৪ দফা কর্মপন্থা

20
সুষ্ঠু নির্বাচন

আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ৪ দফা কর্মপন্থা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ও তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চার দফা কর্মপন্থা তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগেই চার দফা কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন। কর্মপন্থাগুলোর মধ্যে আছে:

১. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই সংসদ সদস্যরা নিষ্ক্রিয় হবে। নিজ এলাকায় গিয়ে তাঁরা এমপি হিসেবে কোনো সুযোগ সুবিধা পাবেন না। ব্রিটেনে নির্বাচনের সময় এমপিদের এমন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা হয়। ভারতেও একই রীতি মানা হয়। নির্বাচনের সময় এমপি হিসেবে কোনো কাজ করতে পারবেন না সংসদ সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের কমিটি, ত্রাণ কমিটিসহ বিভিন্ন ধরনের কমিটি থেকে আপনাআপনিই তাঁরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন। এমপিদের কোনো ক্ষমতাই থাকবে না। এমপিরা হবেন পুরোপুরি ক্ষমতাশূন্য।

২. নির্বাচকালীন সরকার কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না। তাঁরা শুধুমাত্র রুটিন কাজ করবে। যে কাজগুলো না করলেই নয়, শুধু সেই কাজই করবে নির্বাচনকালীন সরকার। এই সময়ের মধ্যে কোনো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো মন্ত্রী যুক্ত থাকতে পারবেন না। কোনো মন্ত্রী চাইলে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাঁরা মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এক্ষেত্রে তাঁরা শুধুমাত্র একজন প্রার্থী হিসেবেই তাঁদের দেখা হবে।

অন্য খবর  দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

৩. প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও একাধিক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো প্রটোকল বা সুযোগ সুবিধা তিনি পাবেন না। এই সময় যে প্রশাসন থাকবে সেটি থাকবে সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে কোনো নিয়োগ, বদলি বা স্থানান্তর ইত্যাদি নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ ছাড়া করা যাবে না।

৪. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ড. গওহর রিজভী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে তাঁরা যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) নীতিমালার আলোকে যেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁরা যেভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চায় ঠিক সেভাবেই যেন সুযোগ করে দেওয়া হয়।

ড. গওহর রিজভী বলেছেন, নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করল বা কোন দল অংশগ্রহণ করল না সেটি মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হলো যেসব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, সেসব রাজনৈতিক দলের সুযোগ সুবিধা অবাধ হচ্ছে কিনা, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে কিনা এবং নির্বাচনে জনগণের যে ভোটাধিকার প্রয়োগ তা কোনোরকম চাপ ছাড়াই হচ্ছে কিনা সেটি দেখা। আর এই শর্তগুলো পূরণ হলেই মনে করা হবে নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।

অন্য খবর  ছেলেমেয়েদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে;অ্যাডঃ সালমা ইসলাম এমপি

Comments

comments