সিরাজদিখানে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হুণ্ডি ব্যবসায়ী লাপাত্তা

515

সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের নাইসিং গ্রামের মতিন সৈয়াল-এর ছেলে মামুন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে হুণ্ডি ব্যবসার নামে ২ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করে আছে। হুণ্ডি ব্যবসা ছাড়াও ৩০/৩২ জনের নিকট হতে ১ লক্ষ করে টাকা নিয়ে আফ্রিকার ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ তৈরি করে দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সমস্ত ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে অনেকে বাংলাদেশে এসে পুনরায় দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশনে ধরা খেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রতারক মামুন ও তার বাবা মতিন সৈয়ালের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর কথা বলে দীর্ঘদিন যাবত্ আদম ব্যবসার নামে টাকা আত্মসাত্ করারও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা যায় মামুন। সে আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এর কিছুদিন পর সে ওখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিকট হতে দক্ষিণ আফ্রিকান মুদ্রা নিয়ে দেশে পৌঁছে দিতো অর্থাত্ অবৈধ হুণ্ডির ব্যবসা করতো। আর এই কাজে বাংলাদেশে  মানুষের বাড়িতে টাকা পৌঁছে দিতো তার বাবা মতিন সৈয়াল। গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে মামুন বাংলাদেশিদের কাছ হতে দেশে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে এসে গাঁঢাকা দেয়। ভুক্তভোগী টঙ্গীবাড়ী উপজেলার লাখারং গ্রামের সুমন জানান, মামুন আমার কাছ থেকে ১০ মাস আগে বাংলাদেশের ১৬ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ দক্ষিণ আফ্রিকান মুদ্রা নেয়। আমি আমার টাকা ফেরত চাইলে সে দেই দিচ্ছি বলে আমার সাথে প্রতারণা করে আসছে। সে আরো জানায়, মামুন আমার বন্ধু শাহাদাত্-এর নিকট হতে দেশে পাঠানোর কথা বলে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আসে। সে টাকাও সে এখোনো পরিশোধ করেনি। সুমন আরো জানান, মামুন দেশে আশার পূর্ব মুহূর্তে অনেক বাংলাদেশির কাছ থেকে দেশে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ২ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, মামুন একটি পাকিস্তানি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে এ হুণ্ডি ব্যবসা করতো। এদিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার চাঠাতি পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামকে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর কথা বলে তার কাছ হতে ৬ লক্ষ টাকা নেয় মামুন। প্রায় ১ বছর পূর্বে উক্ত টাকা নিলেও শফিককে দক্ষিণ আফ্রিকা নেয়নি সে। এখন টাকা ফেরত চাইলে সে শফিকের নিকট হতে কোন টাকা নেয়নি বলে জানাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মজিবুর জানান, আমি দক্ষিণ আফ্রিকা থাকার সময় মামুন আফ্রিকান নাগরিকত্ব সনদপত্র তৈরি করে দেয়ার নামে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে একটি ভুয়া কাগজ তৈরি করে দেয়। আমি দেশে এসে পুনরায় দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ারপোর্টে পৌঁছালে সেখানকার ইমেগ্রেশন কাগজ চেক করে আমাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। আমি সেখানে ৪টি দোকান রেখে এসেছি। আজ ৮ মাস যাবত্ দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। একই ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মামুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে

অন্য খবর  নবাবগঞ্জ'র লিয়াকত লাকী আবারো শিল্পকলা’র মহাপরিচালক

Comments

comments