সিঙ্গাপুরে পৌঁছালেন ট্রাম্প-কিম

38
কিম-ট্রাম্প বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উন। রবিবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান সিঙ্গাপুরের পায়া লেবার বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটিতে পৌঁছান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে দুই নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকের কথা রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনজি সেভেন সম্মেলনে যোগদান শেষে কানাডা থেকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছালে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং জানিয়েছেন, ট্রাম্প-কিম বৈঠক আয়োজনের জন্য তার দেশ দুই কোটি ডলার খরচ করছে। এ বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিঙ্গাপুরের ভাবমূর্তি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। কেননা এর মধ্য দিয়ে দুনিয়াজুড়ে সিঙ্গাপুরের ব্যাপক প্রচার হচ্ছে। ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে সামনে রেখে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লী সেইন লুং এসব কথা বলেন।

আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরের সান্টোস দ্বীপে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হবেন কিম ও ট্রাম্প। অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এবং সুবিধাজনক স্থান বিবেচনায় বৈঠকের স্থান হিসেবে সিঙ্গাপুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরে একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রয়েছে।

অন্য খবর  ভারতে পরীক্ষায় প্রেমপত্র লেখায় ১০ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

রবিবার (১০ জুন) সকালে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী সেন্টোসায় মোতায়েনকৃত সিঙ্গাপুর আর্মড ফোর্সেস-এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদর দফতরে হোম টিম কমান্ডও পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন। সে সময় ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক আয়োজনের জন্য সিঙ্গাপুর দুই কোটি ডলার খরচ করছে বলে নিশ্চিত করেন লি। এতো পরিমাণ অর্থ খরচ নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় খরচ করছি এবং এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখছি। আমাদের গভীর আগ্রহ থেকেই এটি করা হচ্ছে।’

লি সেইন বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমাদের দেশকেই বৈঠক আয়োজনের স্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, আমরা নিজ থেকে তাদের ডাকিনি। এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, তাদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক কী….এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থান কেমন।’

লি মনে করেন সিঙ্গাপুরের দৃষ্টিকোণ থেকে বৈঠক হওয়াটাই জরুরি এবং আঞ্চলিত স্থিতিশীলতা রক্ষায় এর থেকে ইতিবাচক ফলাফল আসাটাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘যখন দুই পক্ষ আমাদেরকে বৈঠকের আয়োজক হতে বললো, তখন আমরা না করতে পারলাম না। আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে এবং আমরা তা পারবো। এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। এখানে আমাদের কিছু সম্পদ বিনিয়োগ করতে হয়েছে, কিন্তু আমরা ভালো করতে পারবো।’

অন্য খবর  'ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে কোনও অর্থ দেবে না মেক্সিকো'

ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে লি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ভালো কাজ কেবল আলাদা আলাদা নয়, বরং একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেও কাজ করছে তারা। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা প্রস্তুত।’

মঙ্গলবার ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের খবর সংগ্রহে প্রায় তিন হাজার সাংবাদিক সিঙ্গাপুরে উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Comments

comments