সালমান, মান্নান, নির্মল, তরুণ না হুদা কে হচ্ছেন ঢাকা-১ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ?

644

নিউজ৩৯ স্পেশালঃ ঢাকা জেলায় মোট সংসদীয় আসন ২০ টি। আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন ১৪ জন। জাতীয় পার্টি ৩ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ১জন ,বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট ( বিএনএফ) ১ জন এবং স্বতন্ত্র ১জন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন এবং জোট শরিকদের ক’টি আসনে ছাড় দিবে এনিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়েছে নানা গুঞ্জণও। বিশেষ করে ঢাকা-১ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেশ কৌতুহলে রয়েছেন।

ঢাকা- ১ আসনে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সকলেই হেভিওয়েট। বিশ্বের শীর্ষ ধনিদের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান পাওয়া সালমান এফ রহমানকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করতে পারে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমূল হুদা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা পদে রয়েছেন সালমান এফ রহমান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক বিমান মন্ত্রী আব্দুল মান্নানকে পরাজিত করে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। ছাত্র ইউনিয়ন ১৬তম কমিটির সভাপতি ছিলেন আব্দুল মান্নান খান । বর্তমানে আব্দুল মান্নান খান আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। এছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত আইনজীবী হিসাবে নিয়মিত আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন, করেছেন দলীয় প্রেস ব্রিফিংও।

১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান। তৃণমূলে জনপ্রিয় এই নেতা পরিচিত দোহারের মাটি ও মানুষের নেতা হিসাবে। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন কি’না তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে বর্তমানে সালমান এফ রহমানের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে নিয়মিতই দেখা যায়।

অন্য খবর  ছবিতে দাউদপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ – সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়। দোহার – নবাবগঞ্জের প্রায় ৬০,০০০ হাজার হিন্দু ভোটে তার রয়েছে একক জনপ্রিয়তা। এছাড়া তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে আওয়ামীলীগ নেত্রি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে, তার প্রতিবাদে প্রথম সরব ছিল স্বেচ্ছাসেবকলীগ। মিছিল থেকে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের কারণে পরবর্তীতে গ্রেফতার হোন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নির্মল গুহ। তিনি দোহারে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগেও তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। দোহার – নবাবগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন দেখভাল অনেকটাই তার হাতে। এছাড়া তিনি ছিলেন আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক । আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন , পনিরুজ্জামান তরুণের আপন বড় ভাই।

এরপর রাজনীতিতে ঘটেছে অনেক ঘটনা-অঘটনা। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমূল হুদা বিএনপি ছেড়ে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছেন। বেশ কিছু ছোট দল নিয়ে জাতীয় জোট – বিএনএ গঠন করেছেন তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবার নাজমূল হুদা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে তার জোটের প্রধান করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

অন্য খবর  নারিশা বাজার সমিতি নির্বাচনঃ ৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

সালমান এফ রহমান এবং নাজমূল হুদা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দীর্ঘদিন দু’জনের মধ্যে খুব বিরোধ ছিল। কয়েকদিন আগে অবশ্য চাচা-ভাতিজার বিরোধ মিটে যাওয়ার আভাষ মিলেছে। একই মঞ্চে বসে সভা করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় দাবি করেন, চাচা – ভাতিজার বিরোধ মিটে গেছে।

ঢাকা-১ আসনে বর্তমান এমপি জাপার অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী তিনি। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন সালমা ইসলাম। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে রয়েছেন তিনি। এখন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বিএনএ জোটের প্রধান হলে জাতীয় পার্টি’র আনুকূল্য কে পাবেন – সালমা ইসলাম না ব্যাঃ হুদা? সে ব্যাপারেও রয়েছে কৌতূহল।

নাকি কখনো পরাজিত না হওয়া, পরপর ৩ বার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী  ব্যাঃ হুদাই হবেন জোটগত ভাবে মহাজোটের প্রার্থী?

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলীও রয়েছেন আলোচনায়। ২০০১ সালে তৎকালীন ঢাকা- ২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন নুর আলী। বর্তমানে তিনি ঢাকা-১ আসনের ভোটার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত, এখন সময় ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের উপর নির্ভর করছে সংসদীয় আসন ১৭৪, ঢাকা-১ দোহার-নবাবগঞ্জে কে হবেন মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

Comments

comments