সালমান এফ রহমান; দোহারের রাজনীতিতে নতুন ধারার প্রবর্তক

4074

সালমান এফ রহমান, দোহারের মানুষের মাঝে ধুমকেতুর মতো উপস্থিতি ২০০১ সালের জাতীয়  নির্বাচনে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশের অন্যতম একটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠির প্রধান হিসাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দোহারে তার আগমন ঘটেছিল এক উজ্জ্বল ধ্রুব তারার মতো। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান দোহারে এসেই স্থাপন করেছিলেন উন্নয়নের ও প্রগতিশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দোহারে আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েল বিনামূল্যে বিতরণ ছিল তার স্বাস্থ্যসেবায় ও সচেতনতায় অনন্য দৃষ্টান্ত। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে আধুনিক শিক্ষা উপকরন বিতরণ, ভবন নির্মাণ, অর্থ সহায়তা করে তিনি দোহারের মানুষের জীবন তথা রাজনৈতিক জীবন ধারাকেই চেঞ্জ করে দিয়েছিলেন ২০০১ সালে। পৌছে গিয়েছিলেন গণ মানুষের কাতারে। কিন্তু ২০০১ এর  নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি ব্যার্থ হন; সে স্বপ্ন পূরণ করতে।

মূলত আধুনিক দোহারের অন্যতম ভিত্তি তিনিই স্থাপন করে গিয়েছিলেন ২০০১ সালে ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। দোহারে মানুষের কাছে তিনি আস্থা অর্জন করেছিলেন এভাবেই যে, দোহারকে তিনি আসলে কিছু দিতে এসছেন কিছু নিতে আসননি। জাতীয় পর্যায়ে তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যাই থাকুক তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মানুষকে দোহারে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, তাতীদের জন্য তাঁত বোর্ড সচল করাসহ টেক্সটাইল মিলের। আর এভাবেই দোহারের রাজনীতিতে বিএনপি তথা নাজমুল হুদার জন্য তিনি হয়েছিলেন প্রধান প্রতিপক্ষ তথা সংসদীয় আসন ১৭৪, ঢাকা-১ এ আসন হারাবার আশঙ্কার কারণ।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দোহার উপজেলা বিএনপি’র সাথে। এক হয় আওয়ামীলীগ। সালমান আসায় অনেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, দোহার উপজেলার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তি যোগ দেন আওয়ামীলীগে। কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে বিএনপি। কিন্তু নাজমুল হুদা ও বিএনপি’র জোয়ারে সে নির্বাচনে তিনি প্রায় ২৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান ভাতিজা ব্যাঃ নাজমুল হুদার কাছে। অবশ্য আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ সে নির্বাচনে সালমানকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকে। যেটি তার নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ বলেও তিনি নিজে মানেন।

অন্য খবর  কুকুরের দুধ পান করছে বিড়াল

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক রকম দোহারে অবাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলেন সালমান এফ রহমান। দোহারে প্রবেশ নিয়ে তিনি বার বার বাধার সম্মুখীন হয়েছেন,  বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরকে নিয়ে দোহারে প্রবেশ করতে গিয়ে হয়েছেন হামলার শিকার। আর সে সময় বেক্সিমকো গ্রুপও অতিক্রম করে ব্যবসায়িকভাবে সবচেয়ে ক্রান্তিকাল।

২০০৬ সালে শেষ বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে এসেছিলেন দোহারে। তারপর সেনা সমর্থিত মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সাথে তিনিও আটক হন সেনা সমর্থিত সরকারের হাতে। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ছাড়া পান জেল থেকে। কিছু দিন ব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ও রাজনীতি থেকে দূরে থাকায়; দূরে ছিলেন দোহার থেকেও।

কিন্তু টানা ২য় বারের মতো ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে আবির্ভূত হন সালমান এফ রহমান। মনোনীত হন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা প্যানেলে। শেখ হাসিনার বেসরকারী বিনোয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ পান এই ব্যবসায়ী।

ফলে রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামীলীগে সক্রিয় না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই শেখ কামালের বন্ধু – সালমান এফ রহমান পরিনত হন বাংলাদেশে সরকারের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী এক ব্যক্তিতে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে তাকে প্রায়ই দেখা যেত রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে।

কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন  বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। ফলে ক্ষমতায় থেকেও দোহার উপজেলায় ক্ষমতার বাইরে চলে যায় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দোহারে জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করে আওয়ামী লীগের বড় একটা অংশ। ফলে ঢাকা ১ আসন হারায় আওয়ামী লীগ।  আগের মতোই দ্বীধা বিভক্ত আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলে উপজেলা পরিষদও।

অন্য খবর  পুলিশ যদি দোহার নবাবগঞ্জের কাউকে হয়রানি করে, সেক্ষেত্রে আমি জিরো টলারেন্সঃ সালমান এফ রহমান

২০১৫ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ব্যাঃ নাজমুল হুদার ছোট ভাই কামরুল হুদা। ফলে শুন্য হয় দোহার উপজেলা চেয়ারম্যানের আসন।  এসময় হঠাৎ  করে উদয় হন ২০০৭ সালে শেষ বারের মতো দোহারের মাটিতে পা রাখা, দোহারের সাধারন মানুষের প্রিয় মুখ সালমান এফ রহমান।  ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দোহারে এসে প্রার্থী ঘোষনা করেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেক্সমকো গ্রুপের মিডিয়া জি এম আলমগীর হোসেনকে। একই সাথে দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেণ্টের (DNSM) মাধ্যমে উচ্চারিত দোহারবাসীর কাংখিত পদ্মা বাধের কথাও তিনি ঘোষণা দেন।

তিনি আসাতে একই মঞ্চে এক হয়ে হাত তুলে দাড়ান সালমান এফ রহমান, আব্দুল মান্নান খান, মাহবুবুর রহমানসহ আলমগীর হোসেন। এভাবেই দোহারের আওয়ামীলীগকে এক করে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি। মান্নান গ্রুপ-মাহবুব গ্রুপকে ভেঙ্গে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগকে করলেন ঐক্যবদ্ধ। যা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসাবে এখনও চলমান। এভাবেই আওয়ামীলীগও স্বপ্ন দেখে হারানো উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাবার।

সালমান দিতে আসে, নিতে নয়। সালমান ঐক্যবদ্ধ করে, দ্বিধাবিভক্ত নয়। সালমান উন্নয়ন করে টেকসই, লোক দেখানো নয়। এমনি গুঞ্জনে এখন মুখরিত দোহার। দোহার সারাবাংলাদেশে মডেল উপজেলা হবে, পদ্মা পাড়ের এই জনপদে হবে কাংখিত উন্নয়ন এটাই দোহারবাসীর সালমান এফ রহমানের নিকট প্রত্যাশা।

Comments

comments