পদ্মার ইলিশে ডিম বোঝাই

রাজধানীর বাজারগুলোয় আবার উঠেছে ইলিশ। গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ২২ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। তবে, ক্রেতাদের অভিযোগ—বাজারে যেসব ইলিশ এখন পাওয়া যাচ্ছে, তার সব তাজা নয়। বেশিরভাগই আগের ধরা মাছ।
জানা গেছে, ৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ধরা পড়া ইলিশের একটি বড় অংশই রয়ে গেছে অবিক্রিত অবস্থায়। এতদিন সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বাজারে ছেড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সদ্য ধরা ইলিশের সঙ্গে আগের মাছও বিক্রি হচ্ছে। যারা নতুন-পুরনো ইলিশ চেনেন, তারা হয়তো ঠকছেন না। যাচাই-বাছাই করেই কিনছেন। তবে যারা নতুন-পুরনো চেনেন না, তারা ঠকছেন। সদ্য ধরা ইলিশ মনে করে কিনে নিচ্ছেন বাসি ইলিশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর পাড়েরহাটের ইলিশ ব্যবসায়ী মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘সদ্য ধরা ইলিশ চিনতে হলে ইলিশের রঙ দেখতে হবে। মাছের ফুলকা (কান) দেখতে হবে। চোখ দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাজা ইলিশের রঙ হবে চকচকে রুপালি। আর পিঠের কালো অংশ হতে হবে সুরমা রঙের। চোখ থাকবে কালো এবং মাছের ফুলকা থাকবে লাল।’
একই ধরনের মন্তব্য করে বরগুনার পাথরঘাটার ইলিশ ব্যবসায়ী তোবারক হোসেন বলেন, ‘তাজা ইলিশ হবে শক্ত। অনেক সময় তাজা ইলিশ বিক্রেতারা যেভাবে রাখেন, সেখাবেই বাঁকা হয়ে থাকে। এমন ইলিশ দেখলেই বোঝা যাবে, এটি তাজা। অন্যদিকে, তাজা ইলিশের চোখ হবে কালো সুরমা রঙের। ফুলকা থাকবে টকটকে লাল। ইলিশের গায়ে এমন সব চিহ্ন বা লক্ষণ থাকলেই চেনা যাবে তাজা ইলিশ।’
একইভাবে ভোলার তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ ধরা জেলে আশরাফ আলী বলেন, ‘বাসি ইলিশ সব সময় নরম থাকে। হাতে ধরলেই দুপাশ দিয়ে ঝুলে পড়ে।’
রাজধানীর কারওয়ানবাজার, কোনাপাড়া বাজার, শান্তিনগর বাজার, খিলগাও বাজার, নিউমার্কেট কাচাবাজার, মোহম্মদপুর কাচাবাজারের পাশাপাশি রাজধানীর প্রায় পাড়ামহল্লায় ফেরি করে ইলিশ মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। তারা এখন সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এক কেজি সাইজের তাজা ইলিশের মূল্য এখন হাজার টাকার কিছু ওপরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া, এক কেজির নিচে ওজন এমন সাইজের (৭শ থেকে ৮শ গ্রাম) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা দরে। এর নিচে যেকোনও সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়তেও মাছের দাম আগের মতো দামেই বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের মোকামখ্যাত চাঁদপুর, কক্সবাজার, পিরোজুরের পাড়েরহাট, বরগুনার পাথরঘাটা, বরিশাল, ভোলার আড়তগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানেও ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজুরের পাড়েরহাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন আর নৌকা বা ট্রলার ভরে ইলিশ নিয়ে ফিরছেন।’ প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে বলেও তিনি জানান।

অন্য খবর  দোহারসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সময়েও ইলিশ ধরতে বেপরোয়া ছিল জেলেরা

Comments

comments