শ্রীদেবী

বলিউডের প্রথম সুপারস্টার নায়িকা শ্রীদেবীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, বরং তাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছিল বলে এবার দাবি করলেন দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসিপি বেদ ভূষণ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কাউকে চাইলেই বাথটাবের পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া যায় এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া হত্যাও করা যায়। শ্রীদেবীকেও সেভাবে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছিল।’

সাক্ষাৎকারে বেদ আরো বলেন, ‘দুবাইয়ের আইন ব্যবস্থার প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে তারা শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছিল তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেদিন শ্রীদেবীর সঙ্গে ঠিক কি ঘটেছিল আমরা সেটা জানতে চাই। এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। আমরা আবারও দুবাই যাবো এবং সবকিছু পুনরায় তদন্ত করব।’

এর আগে গত মার্চে শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে দিল্লি কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন পরিচালক সুনীল সিং। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ৫.৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একজন মানুষ ৫.১ ফুট লম্বা বাথটাবে ডুবে কীভাবে মারা যাবেন? তাছাড়া মৃত্যু নিয়ে হোটেল কর্মচারীরা যে তথ্য দিয়েছিলেন তার উল্টোটা প্রচার করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। কিন্তু দিল্লির হাইকোর্ট সে সময় পরিচালক সুনীলের মামলা খারিজ করে দেয়।

অন্য খবর  দাম্পত্য জীবনের ইতি টানছেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া

এর পরেই সুনীল ভারতের শীর্ষ আদালতের দারস্থ হন। কিন্তু গত ১৩ মে, শুক্রবার শীর্ষ আদালতও সুনীলের মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়, ‘শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করবে না।’ এমন রায়ের সপ্তাহ না যেতেই নতুন দাবি ও অভিযোগ নিয়ে হাজির হলেন দিল্লির অবসারপ্রপ্ত এসিপি বেদ ভূষণ। এবার তার এই অভিযোগ ও দাবি কতটা ধোপে টেকে সেটাই দেখার।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা নাগাদ দুবাইয়ের জুমেইরা এমিরেটস হোটেলের ২২০১ নং রুমের বাথরুমে বাথটাবের পানিতে দম আটকে মারা যান নায়িকা শ্রীদেবী। ভাইয়ের ছেলে মোহিত মারওয়ারের বিয়েতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্বামী বনি কাপুর ও ছোট মেয়ে খুশি কাপুর।

সে সময় ফরেনসিক রিপোর্টে প্রথমে বলা হয়েছিল, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাথটাবের পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। কিন্তু পরে আরেকটি ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়, দুর্ঘটনাবশত বাথটাবের পানিতে পড়ে দম আটকে মৃত্যু হযেছে নায়িকার। এই মৃত্যু নিয়ে তখন অনেক নাটক হয়। সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে তিন দিন পরে নায়িকার মরদেহ ভারতে এনে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লের সেবাসমাজ শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

অন্য খবর  অবশেষে ভাঙ্গতে যাচ্ছে উইল স্মিথ-জাডা পিঙ্কেটের দাম্পত্য জীবন

Comments

comments