লেবাননের নির্বাচনে জয়ের পথে হিজবুল্লাহ ও মিত্ররা

64
লেবানন নির্বাচন

নয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জিততে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহ ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে দলটি। যদিও সংবিধান অনুযায়ী শিয়া ধর্মালম্বী হওয়ার কারণে তারা সরকার গঠন করতে পারবে না। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিবিদদের বরাতে নির্বাচনের এই অনানুষ্ঠানিক ফলাফলের খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়েছে, রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২৮ আসনের সংসদে হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্ররা মিলে অন্তত ৬৭ আসন পেতে যাচ্ছে। সোমবার সকালে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০১২ সাল থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের মিত্রদের হয়ে লড়াই করতে নিজেদের যোদ্ধা পাঠিয়েছে গোষ্ঠীটি। ২০০৯ সালে লেবাননে সবশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চার বছরের ব্যবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিবেশী সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতা ও দেশটির নির্বাচনি আইনে সংস্কারের কারণে এতদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দেশটির অনন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী শীর্ষ তিন পদ প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকেন।

অন্য খবর  লেবাননে হামাস নেতাকে হত্যার চেষ্টা মোসাদের

লেবাননে হিজবুল্লাহ’র অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ঘটনাটি বৈরুত হয়ে ইরাক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির প্রমাণ। হিজবুল্লাহকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাবদ্ধ করেছে।

অনানুষ্ঠানিক ফল অনুসারে, পশ্চিমা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি সুন্নি নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন। ১২৮ আসনের সংসদে তিনি আসন হারালেও তিনিই সরকার গঠন করবেন। কারণ দেশটির সংবিধান অনুযায়ী লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে একজন সুন্নি হতে হবে। নতুন সরকারেও আগের মতোই সব প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বন্টনে সময় লাগতে পারে।

হিজবুল্লাহর মিত্রদের মধ্যে রয়েছে সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরিহর নেতৃত্বাধীন শিয়া আমল মুভমেন্ট, প্রেসিডেন্ট মিশের আয়ুনের প্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টিয়ান ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট। এছাড়া সুন্নি মতালম্বী কয়েকটি দলকেও সমর্থন দিয়েছে হিজবুল্লাহরা। তাদের সমর্থিত সুন্নিরা বৈরুত, ত্রিপোলি ও সিডনে ভালো ফলাফল করেছে। অথচ এসব এলাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাদ হারির দল ফিউচার মুভমেন্টের শক্ত অবস্থান ছিল।

তবে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বালবেক-হেরমালের দুটি আসনে হেরেছে হিজবুল্লাহ সমর্থকরা। এর একটি জিতেছে লেবানিজ ফোর্স আরেকটিতে হারিরির ফিউচার মুভমেন্ট।

অন্য খবর  ফিলিস্তিনিদের আত্মত্যাগ নয়া ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চপেটাঘাত: হিজবুল্লাহ মহাসচিব

হিজবুল্লাহর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ীদের মধ্যে রয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শিয়া ধর্মাবলম্বী সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জামিল আল সায়িদ।

এবারে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪৯.২ শতাংশ। নয় বছর আগের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল ৫৪ শতাংশ ভোটার।

রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে হিজবুল্লাহ বিরোধি খ্রিস্টান রাজনৈতিক দলও নির্বাচনে বেশ ভালো ফলাফল করেছে। গত সংসদে আট আসন থাকলেও এবারে তারা প্রায় দ্বিগুণ ১৫টি আসন লাভ করতে যাচ্ছে।

Comments

comments