রোহিঙ্গা গণকবরের খবর অস্বীকার মিয়ানমারের

12
রোহিঙ্গা গণকবরের খবর অস্বীকার মিয়ানমারের

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস-এপির প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিয়ানমার। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভিডিও আলামত ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এপির প্রতিবেদনে দাবি করা হয় হত্যাকাণ্ডের শিকার অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে ওই ৫টি গণকবরে। মিয়ানমার বলছে প্রতিবেদনটির ব্যাপারে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, এটি ‘ভুল’। যাকে গণকবর বলা হচ্ছে, সেখানে ১৯ ‘সন্ত্রাসী’কে যথাযথভাবে কবর দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাখাইনের গু দার পাইনের একই এলাকার ওই পাঁচ গণকবরে চার শতাধিক মানুষের মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২৪ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নতুন গণকবরের সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এপি। নিপীড়নের অভিযোগকারীদের কেউ কেউ নিজেদের দাবির পক্ষে সময়-চিহ্নিত ভিডিও সরবরাহ করেছে। পরে নির্দিষ্ট ওই অঞ্চলে গিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলেও প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকায় ব্যর্থ হয় এপি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারিত ওই গ্রামগুলোর স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করে তারা। সংগৃহীত ছবির সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যায়। সবমিলে গণকবরের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় তারা।

অন্য খবর  কৃষক পরিবার থেকে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি

মিয়ানমার সরকার ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলছে,  গু দার পাইনে তাদের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল একটি অনুসন্ধান চালিয়েছেন। গ্রাম ও কমিউনিটির নেতারা তাদের জানিয়েছেন, এপির প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, সেখানে ‘তেমন কিছু ঘটেনি’।

ওই বিবৃতির দাবি, শুদ্ধি অভিযানের সময় ওই গ্রামে হামলার কবলে পড়ে সেনাবাহিনী। সে সময় সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এতে ১৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়। ’১৯ সন্ত্রাসীর মৃত্যুর পর তাদের যথাযথভাবে কবর দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার মানবাধিকার হরণের কোনও অভিযোগ অস্বীকার করবে না। অভিযোগ পেলেই অনুসন্ধান চালাবে। কোথাও মানবাধিকার হরণের আলামত পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, প্রতিবেদনটি ‘ভুল’।

অন্য খবর  রোহিঙ্গা নারী কারাগারে,এক বাংলাদেশি রিমান্ডে

Comments

comments