রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে সহায়ক সরকার চাইবে বিএনপি

    300
    বিএনপি

    নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। তাই রাষ্ট্রপতির অধীনে তিন মাস মেয়াদে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের চায় দলটি। এই তিন মাস প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে থাকার প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি রূপরেখার খসড়া প্রস্তুত করেছে বিএনপি। জানা গেছে, মাস খানেকের মধ্যেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের এই রূপরেখা নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরী করবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

    সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা করছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রূপরেখা দেয়ার পর চলমান রাজনীতিতে একটি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সরকার আলোচনা না চাইলে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সহায়ক সরকারের রূপরেখার খসড়া হয়ে গেছে। বেগম জিয়ার লন্ডন সফরের পর দলের স্থায়ী কমিটিতে তা তুলে ধরা হবে। এরপর রাজধানীতে যে কোন দিন সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

    এদিকে, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ চায় সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত নভেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলেও তিনি বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। তবে এই সহায়ক সরকারের রূপরেখা কী হবে, সে বিষয়ে দেশের মানুষ কিছু জানে না। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। একাধিক রূপরেখা তৈরি করার কথা ভাবছে দলটি। এর বেশকয়েকটি খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। এখন তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। পরে পাঠানো হবে সরকারের কাছে।

    অন্য খবর  সালমান এফ রহমানের হলফ নামায় কি কি আছে।

    এ প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। অন্য নামেও নিরপেক্ষ সরকার হতে পারে। আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেজন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে। নিঃসন্দেহে এটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে।

    একই প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন দেশের জনগণ মেনে নেবে না। এজন্য প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করে হলেও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান হিমালয় পর্বত নয় যে তাকে নড়ানো যাবে না। দেশে ও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। সংবিধান সংশোধনও সংবিধানের বিধান।

    Comments

    comments