সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতে তামিলনাডুর কিংবদন্তী ফিল্ম অভিনেতা রজনীকান্ত অবশেষে রাজনীতিতে আসার কথা ঘোষণা করলেন। চেন্নাইতে এদিন তিনি হাজার হাজার সমর্থকের তুমুল

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতে তামিলনাডুর কিংবদন্তী ফিল্ম অভিনেতা রজনীকান্ত অবশেষে রাজনীতিতে আসার কথা ঘোষণা করলেন।

চেন্নাইতে এদিন তিনি হাজার হাজার সমর্থকের তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা জানিয়েছেন। তার এই দল রাজ্যের আগামী নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের সবগুলিতেই লড়বে বলে জানানো হয়েছে।

৬৭ বছর বয়সী এই তামিল সুপারস্টার এদিন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আমার কর্তব্য পালন করব … আমরা সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটাব।”

গত বছরের ডিসেম্বরে তামিলনাডুর তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকে সে রাজ্যের রাজনীতিতে যা চলছে, তা তামিল নাডুকে গোটা দেশের ‘হাসির পাত্র’ করে তুলেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

“এই অবস্থাতে এখনও যদি আমি রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত না নিই, সেই অপরাধবোধ আমাকে সারা জীবন তাড়া করে বেড়াবে”, সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন রজনীকান্ত।

ভারতের শাসক দল বিজেপি – যারা এর আগে তাদের দলে যোগদানের ব্যাপারে রজনীকান্তকে প্রস্তাব দিয়েই রেখেছিল – তারা তার এদিনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন রজনীকান্ত বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে স্বাগত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও গত মাসে চেন্নাই গিয়ে রজনীকান্তের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

অন্য খবর  কর্ণের ছবি থেকে সরে গেলেন সালমান খান

তামিল নাডুর বিজেপি নেতা টি সৌন্দারাজন এদিন রজনীকান্তের ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি যে রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন, বিজেপিও সেই একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে – তাকে আমরা স্বাগত জানাই।”

জয়ললিতার মৃত্যুর পর তামিল নাডুতে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, রজনীকান্তের নতুন দল সেই অভাব পূর্ণ করার চেষ্টা করবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।

গত মাসে তামিল ও হিন্দি সিনেমার আর এক সুপারস্টার কমল হাসানও রাজনীতিতে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এদিন টুইট করে রজনীকান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তামিল নাডুতে চলচ্চিত্র তারকাদের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বরাবরই। তামিল রাজনীতির প্রবাদপুরুষ এমজি রামচন্দ্রন (যিনি এমজিআর নামেই পরিচতি ছিলেন) নিজেও ছিলেন তামিল সিনেমার সুপারস্টার।

গত বেশ কয়েক দশক ধরে যে ডিএমকে ও এআইডিএমকে দলদুটি সে রাজ্যের রাজনীতিতে প্রাধান্য দেখিয়ে আসছে, তার প্রধান – যথাক্রমে করুণানিধি ও প্রয়াত জয়ললিতাও ছিলেন চলচ্চিত্র দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জয়ললিতা এক সময় ছিলেন তামিল সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী। পরে এআইডিএমকে নেত্রী হিসেবে তিনি অন্তত পাঁচবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন।

অন্য খবর  পারিশ্রমিক ছাড়াই মিশা, জয় ও বিপাশার মিউজিক ভিডিও

এই যুগে তামিল সিনেমার নায়কদের মধ্যে রজনীকান্তের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। সমর্থকরা তাকে প্রায় ঈশ্বরের মর্যাদা দিয়ে থাকেন, তাকে ডাকা হয় ‘থালাইভার’ নামে – যার অর্থ হল সব গুরুর গুরু!

এখন রাজনীতিতে নেমে সেই থালাইভার কতটা সফল হতে পারেন এবং তামিল নাডুর রাজনীতির হাল ধরতে পারেন কি না, দেখার বিষয় হবে সেটাই।

Comments

comments