যে চমকগুলো আসছে এবারের দলবদলে

34
নেইমার

চলছে দলবদলের সময়। উপযুক্ত খেলোয়াড় কেনার মাধ্যমে হোক বা অনুপযুক্ত খেলোয়াড় বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে নিজের দলকে শক্তিশালী করার এটাই সময়। ভালো খেলোয়াড়দের নিয়ে তাই টানাটানি পড়ে গেছে। এবারের দলবদলের বাকি সময়জুড়ে কোন কোন খেলোয়াড় নিয়ে বেশি আলোচনা হবে? কার ক্লাব বদল করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

বার্সেলোনা হন্য হয়ে আক্রমণভাগে মেসি-সুয়ারেজের একজন সঙ্গী খুঁজছে। দরকার একজন সেন্টারব্যাকও। ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদের দরকার একজন মিডফিল্ডার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমস্যা আবার রক্ষণভাগে। পিএসজির ভাগ্য নির্ভর করছে নেইমারের সিদ্ধান্তের ওপর। নেইমার চলে আক্রমণভাগে তাদের দরকার একজন তারকা ফরোয়ার্ড। আর্সেনাল খুঁজছে যোগ্য সেন্টারব্যাক আর উইঙ্গারকে। বায়ার্ন মিউনিখ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আর এসি মিলান পুরো দলটাকেই ঢেলে সাজাতে চাইছে যেন। সব দলেরই কিছু না কিছু ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি মেটানোর জন্যই ক্লাবগুলো চাতকের মতো চেয়ে থাকে দলবদলের এই সময়টার জন্য।

এখনই সেই সময়। মোটামুটি জুন থেকে শুরু হওয়া দলবদলের এই সময়ে ক্লাবগুলো নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নিচ্ছে। ইংলিশ লিগের ক্লাবগুলো এই সুযোগ পাবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ইতালিয়ান সিরি’আর ক্লাবগুলো নতুন খেলোয়াড় কিনতে পারবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। সে হিসাবে স্প্যানিশ লা লিগা, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ফরাসি লিগ ওয়ানের ক্লাবগুলো নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতেই পারে! সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ পর্যন্ত খেলোয়াড় কেনার সুযোগ পাচ্ছে তারা।

দলবদলের বাকি দিনগুলোতে কাদের নিয়ে মেতে থাকবে ক্লাবগুলো? কোন কোন খেলোয়াড়দের দলবদল নিয়ে ক্লাবগুলো বেশি সরব? আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক!

নেইমার

দলবদলের বাজারে নেইমারকে নিয়ে কানাঘুষা হবেই। এটি গত কয়েক মৌসুমের চিরায়ত চিত্র। এবারও দলবদলের সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাঁকে নিয়েই। ব্রাজিলিয়ান তারকা বার্সেলোনায় ফিরতে চাইছেন, পিএসজিও উপযুক্ত প্রস্তাব পেলে তাঁকে ছাড়তে রাজি—এ খবর পুরোনো। ক্লাব ছাড়ার জন্য নেইমার সম্ভাব্য যা কিছু করার, সব করছেন। অনুশীলনে যোগ দিচ্ছেন না, সংবাদমাধ্যমেও নিয়মিতই ক্লাব ছাড়ার কথা বলছেন। কম যান না নেইমারের বাবাও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছেলের ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে যাচ্ছে তিনি। ওদিকে দিন দিন নেইমারের এসব নাটক দেখে বিরক্ত হয়ে গেছে পিএসজিও। ইনিয়ে-বিনিয়ে তারাও নেইমারকে বিক্রি করার আগ্রহ প্রকাশ করে ফেলেছে। ওদিকে খবর বের হয়েছে, ইতালিতে গিয়ে জুভেন্টাসের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফাবিও পারাতিচির সঙ্গে দেখা করে এসেছেন নেইমারের বাবা। ফলে, জুভেন্টাসে যাওয়ার একটা সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে নেইমারের সামনে। এডেন হ্যাজার্ড আর লুকা ইয়োভিচকে দলে আনার পর নেইমারকে কেনার দৌড় থেকে আগে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

নেইমার কোথায় যাবেন? জুভেন্টাস না বার্সেলোনা? দলবদল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নাটক শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না!

পল পগবা

দলবদলের বাজারের সব আকর্ষণ এক নেইমার নিয়ে নিচ্ছেন দেখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবার একটু ঈর্ষা হচ্ছিল যেন! নেইমারের আগে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের তকমা পাওয়া এই মিডফিল্ডারও এবার তাই চলে এসেছেন তাঁর ভাগের ‘নাটক’ নিয়ে!

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বেশ অনেক দিন নাম জড়ানো হলেও অনেক ঘটা করে ২০১৬ সালে দলবদলের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছিলেন পগবা। গত মৌসুমে দলকে কিছু জেতাতে না পারলেও ব্যক্তিগত ফর্ম বিবেচনায় বেশ ভালোই খেলেছিলেন ফ্রেঞ্চ তারকা। কিন্তু মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন, ইউনাইটেডে আর থাকতে চাইছেন না পগবা। এরপরই বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে পগবাকে জড়িয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। সবার আগে শোনা গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের কথা। বিশ্বকাপজয়ী ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডারের প্রতি নতুন গ্যালাকটিকো গড়ার মিশনে থাকা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের আগ্রহের কথা অজানা কিছু নয়। পগবার স্বদেশি জিনেদিন জিদান কোচ হয়ে আসার পর পগবার রিয়ালে যাওয়ার গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছিল জোরেশোরেই।

অন্য খবর  ডর্টমুন্ড জুজু কাটালো জিদানের রিয়াল

তবে এখন পগবার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে গেছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসের নাম। যে জুভেন্টাস থেকে ইউনাইটেডে এসেছিলেন, সেই জুভেন্টাসেই আবার ফিরতে চাইছেন তিনি, দলবদলের বাজারে এমন গুঞ্জন এখন বেশ শক্তিশালী। জুভেন্টাসে থাকতেই পগবার সেরাটা দেখা গিয়েছিল, ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও খেলেছিলেন। এ ছাড়া ডাচ্‌ ডিফেন্ডার ম্যাথিস ডি লিটের মুখপাত্রও মিনো রাইওলা। জুভেন্টাসের সঙ্গে ডি লিটের চুক্তি প্রায় পাকাপাকি হয়ে গেছে। পগবার জুভেন্টাস যাত্রার সম্ভাবনা তাই একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও উপায় নেই।

ফিলিপ কুতিনহো

বার্সেলোনায় সুখে নেই কুতিনহো। দেড় বছর আগে লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় যাওয়া কুতিনহো প্রত্যাশামাফিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। এদিকে বার্সেলোনায় একে একে নতুন খেলোয়াড় আসার কারণে মূল একাদশে আদৌ তাঁর জায়গা হবে কি না, বড় প্রশ্ন। দলে এর মধ্যেই আছেন ওউসমানে ডেম্বেলে, আতোয়াঁ গ্রিজমান, মালকমের মতো তারকারা। চলে আসতে পারেন নেইমারও। এদিকে বার্সাও জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কুতিনহোকে বিক্রি করার জন্য। কিন্তু কুতিনহোকে কেনার জন্য তেমন কেউই আগ্রহী নয়। এদিকে সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে নিজে যে বার্সার খেলোয়াড়, সে পরিচয় মুছে দিয়েছেন কুতিনহো। এটা নিশ্চিত, কুতিনহো নিজেও আর বার্সায় থাকতে চান না। কিন্তু কে নেবে কুতিনহোকে? দেখা যাক!

পাওলো দিবালা

দিবালার কপালটা খারাপই বলতে হবে। জাতীয় দলে তেমন সুযোগ পান না, রোনালদো আসার পর ক্লাবেও ঠিকঠাক সুযোগ পাচ্ছেন না। গত মৌসুমের অনেকটা সময় বেঞ্চেই কাটিয়ে দিয়েছেন। দিবালা জুভেন্টাস ছাড়তে পারেন, এমন গুঞ্জন আজকের নয়। দিবালাকে পাওয়ার জন্য বেশ কিছু দল আগ্রহ দেখিয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইন্টার মিলান, পিএসজি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দিবালা কি আদৌ ক্লাব ছাড়বেন, নাকি জুভেন্টাসের নতুন কোচ মরিজিও সাররির পরিকল্পনায় তাঁর কোনো জায়গা থাকবে, দেখার বিষয় সেটাই।

লিরয় সানে

২০১৭-১৮ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা যুব খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া জার্মান উইঙ্গার লিরয় সানে গত মৌসুমে পেপ গার্দিওলার মূল একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি, সিটির স্কোয়াডে ভালো খেলোয়াড়ের সংখ্যা এতটাই বেশি! বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত সানে এবার তাই নিয়মিত ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা চান, সেটা সিটির হয়ে হোক, বা অন্য কোনো ক্লাবের হয়ে। সানে কে বেচতে যে ম্যানচেস্টার সিটির বিশেষ কোনো সমস্যা নেই, সেটা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে সিটি। অবস্থা বুঝে জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ তাই সানের দিকে হাত বাড়িয়েছে। বায়ার্নের আগ্রহ দেখে সিটি সানের দাম হেঁকেছে ৮০ মিলিয়ন ইউরো। এত দাম দিয়ে সানে কে কেনার ইচ্ছে নেই বায়ার্নের। দাম কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁরা।

অন্য খবর  উৎসবের উপলক্ষ দেবে জাতীয় দল

ব্রুনো ফার্নান্দেস

গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় ৪৭ গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই তারকা। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হওয়ার কারণে গোল করার পাশাপাশি করাতেও পারেন সমানতালে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর পড়েছে স্পোর্টিং লিসবনে খেলা এই তারকার প্রতি। ব্রুনোর প্রতি আগ্রহী প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু ক্লাব, যেমন ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহাম, লিভারপুল। এদিকে সুযোগ বুঝে ফার্নান্দেসের দাম ৬২ মিলিয়ন হেঁকে বসেছে লিসবন।

মাউরো ইকার্দি

ইন্টার মিলানের সঙ্গে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দির টানাপোড়েনের কাহিনি নতুন নয়। যে কারণে গত মৌসুমে ইতালিয়ান লিগের সেরা খেলোয়াড় ও গত দুই মৌসুমে সিরি’আর সেরা গোলদাতা হওয়ার পরেও ইন্টার তাঁকে দলে রাখতে চাইছে না। কোচের সঙ্গে ঝামেলা, মালিকপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা, ইকার্দির স্ত্রীর সঙ্গে ক্লাবের বিভিন্ন বচসার কারণে ইন্টার ইকার্দির ওপর বিরক্ত। নতুন কোচ আন্তোনিও কন্তে এসেই ইকার্দিকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পরিকল্পনায় নেই ইকার্দি। ফলে ইকার্দিকে দলে টানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বেশ কিছু ক্লাব। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জুভেন্টাস, আর্সেনাল, রোমা, পিএসজি। ইকার্দি কোন ক্লাবে যাবেন শেষমেশ, দলবদলের আলোচনার অন্যতম বড় জায়গা জুড়ে থাকবে এটাও।

হ্যারি ম্যাগুইরে

রক্ষণভাগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমস্যা আজকে নতুন নয়। এই সমস্যা মেটানোর জন্য তারা হাত বাড়িয়েছে লেস্টার সিটির ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইরের দিকে। শোনা যাচ্ছে, এই ডিফেন্ডারকে পাওয়ার জন্য ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব পাঠিয়েছে ম্যানচেস্টারের ‘লাল’ দল। কিন্তু লেস্টার চাইছে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড। এদিকে ম্যাগুইরেও ইউনাইটেডে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। ম্যাগুইরেকে দলে আনতে চাইছে ম্যানচেস্টার সিটিও। দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে ঠেকে!

গ্যারেথ বেল

গ্যারেথ বেলকে আর রাখতে চাইছে না রিয়াল মাদ্রিদ, এ কথা কোচ জিনেদিন জিদান স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। কিন্তু বেলের অন্য ক্লাবে যাওয়ার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়েলশ উইঙ্গারের আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক। বেল যে বেতন পান, তা দুই-একটি ক্লাব ছাড়া বিশ্বের আর অন্য কোন ক্লাব দিতে পারবে না। ফলে যেসব দলের উইঙ্গার দরকার, তারাও এই কারণেই বেলের দিকে হাত বাড়াতে পারছে না। বেল যদি নিজের বেতন কমান, তাহলে হয়তো ক্লাব বদল করতে পারবেন তিনি। আর সে ক্ষেত্রে বেলকে নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেলের সাবেক ক্লাব টটেনহাম, ইন্টার মিলান, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চীনের কিছু ক্লাব।

রোমেলু লুকাকু

৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেনা বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর প্রতি কোচ ওলে গুনার সুলশার যে অতটা সন্তুষ্ট নন, সেটা বোঝা গিয়েছিল গত মৌসুমে। এই তারকাকে বিক্রি করে দিতে চাইছে ইউনাইটেড। ওদিকে ইকার্দির জায়গায় ইন্টার মিলানের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে লুকাকুকেই মনে ধরেছে নতুন কোচ আন্তোনিও কন্তের। বিক্রি করে দিতে চাইলেও লুকাকুর জন্য আকাশছোঁয়া দাম চাইছে ইউনাইটেড, এর মধ্যেই ইন্টার মিলান ৫৪ মিলিয়ন পাউন্ডের একটা প্রস্তাব পাঠালেও সেটা বাতিল করে দিয়েছেন সুলশার। দেখা যাক, লুকাকুকে কত দিয়ে বেচতে পারেন তিনি!

Comments

comments