যুবরাজের ধরপাকড়ের নিন্দা করে আটক হওয়া সৌদি প্রিন্স মুক্ত

প্রায় এক বছরের কারাবাস শেষে মুক্তি পেয়েছেন সৌদি প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। ২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার মুক্তি পান তিনি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চালানো ব্যাপক ধরপাকড়ের নিন্দা করে আটক হয়েছিলেন তিনি। প্রিন্স খালেদ বিন তালাল সৌদি ধনকুবের আল ওয়ালিদ বিন তালালের ভাই। ইতোপূর্বে সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করলেও শুক্রবার মুক্তির পর তাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-কুদস আল-আরাবি এ খবর দিয়েছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে কারান্তরীণ ছিলেন প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। যুবরাজের নির্দেশে ওই ধরপাকড়ে গ্রেফতার হওয়া অনেকেই পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মুক্তি পান। তবে অর্থ বিনিময়ে মুক্তির বিষয়টি নাকচ করে দেন প্রিন্স খালেদ। যদি তার ভাই ধনকুবের আল ওয়ালিদ বিন তালালও একই প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন।

ওই সময়ে গ্রেফতার হওয়া অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও প্রিন্স খালেদকে মূলত আটক করা হয় ওই ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের জন্য। বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে রাজপরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ীদের ওপর যুবরাজের ধরপাকড়ের নীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই প্রিন্স খালেদকে মুক্তি দিলো সৌদি কর্তৃপক্ষ। মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়া প্রিন্সের বাবা তালাল বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরবের বর্তমান রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের ভাই। সম্প্রতি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেন তিনি। মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রিয়াদ যান ৭০-এর কোঠায় থাকা এই রাজপুত্র। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাপের মুখে থাকা যুবরাজের ক্ষমতায় লাগাম টানতেই সৌদি ফিরেছেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন যুবরাজ।

অন্য খবর  কাতারের উপর আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৃশ্যত পুত্র প্রিন্স খালেদের মুক্তিতে তালাল বিন আবদুল আজিজের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে অন্যতম তিনি। বাদশাহর ভাই হিসেবে তার অবস্থানের কারণে দেশটিতে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার পর ২০১২ সালে স্বল্প সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই মূলত লন্ডনে বসবাস করেন। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে যুবরাজের ক্ষমতার সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি।

আহমাদ বিন আবদুলআজিজের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মিডলইস্ট আইকে বলেছেন, ‘তিনি এবং রাজপরিবারের অনেকেই বুঝতে পেরেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) বিষাক্ত হয়ে গেছেন। রাজপুত্র এই পরিবর্তনে এখন নিজের ভূমিকা রাখতে চান। তার মানে হলো নতুন কোনও আয়োজনে তিনি নিজেই বড় কোনও ভূমিকা রাখবেন অথবা এমবিএস’র বিকল্প খুঁজে বের করতে সাহায্য করবেন’। ওই সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় নিজের ক্ষতি না হওয়ার নিশ্চয়তা পেয়ে রিয়াদে গেছেন তিনি। এসব দেশের কর্মকর্তারা তাকে পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছেন।

অন্য খবর  বাংলাদেশ থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে পাঁচ এয়ারলাইন্স

মিডলইস্ট আই লিখেছে, রিয়াদ যাওয়ার আগে আহমাদ বিন আবদুলআজিজ লন্ডনে সৌদি রাজপরিবারের অনেক সদস্যের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। যুবরাজের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরবে থাকা রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তিনি। সৌদি আরবে থাকা অন্তত তিন সিনিয়র রাজপুত্র আহমাদের উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীতে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত এসব রাজপুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিডলইস্ট আইকে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আধুনিক সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক বাদশাহ আবদুল আজিজ। তার প্রিয় স্ত্রী ছিলেন হুসা বিন আহমেদ আল সুদাইরি। এই স্ত্রীর সাত সন্তানকে নিয়ে সৌদি ক্ষমতার অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছিল ‘সেভেন সুদাইরি’ নামে প্রভাবশালী বলয়। সিংহাসনের উত্তরাধিকার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। এমনকি তাদের অন্য রাজপুত্রদের নাগালের বাইরে রাখা হতো। বর্তমানে ওই বলয়ভুক্তদের মধ্যে সৌদি বাদশাহ ছাড়া শুধু বেঁচে আছেন আহমাদ বিন আবদুলআজিজ। আর স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে তিনি দেশে ফিরতে না ফিরতেই এক বছরের অন্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্তি পেলেন তার পুত্র প্রিন্স খালেদ। তবে এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপ।

Comments

comments