যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু বিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান নিরপেক্ষ

17

ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমাদের বিরোধ নতুন কিছু নয়। যদিও ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ বিশ্বশক্তির সঙ্গে সই হওয়া চুক্তির মধ্য দিয়ে সংকট নিরসনের আশা করা হয়েছিল। সম্প্রতি পরমাণু প্রশ্নে ফের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান নিরপেক্ষ বলে জানাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তৃতীয় কোনও পক্ষের বিরোধে পক্ষ হবে না বাংলাদেশ।’
পরমাণু চুক্তি সইয়ের পর ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই তিনি ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এরপর ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশকেও তাদের সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে জাতিসংঘের অনুমোদন রয়েছে এমন বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ঢাকা পক্ষ হবে, অন্যথায় নয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালে জাতিসংঘ অনুমোদন দিয়েছিল বলে বাংলাদেশ ইরাক-কুয়েত বিরোধে শামিল হয়েছিল, কিন্তু ২০০৩ সালে ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধে জড়ায়নি।’
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ৬ জাতির চুক্তি হওয়ার পরে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিরোধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি বলে তিনি জানান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের কারণে দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মোটেই না। গত জানুয়ারিতে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ জুলাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। ইরানের অনুরোধে এটি পেছানো হয়েছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। গত মে মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফর করেছেন বলে তিনি জানান।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের কাছ থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনুরোধ পেয়ে থাকি, কিন্তু আমাদের অবস্থান জাতীয় স্বার্থ ও নীতির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়।’
এটি কূটনীতিতে খুবই স্বাভাবিক বিষয় এবং বাংলাদেশও তার স্বার্থের জন্য বিভিন্ন দেশকে অনুরোধ করে থাকে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন দেশকে অনুরোধ করে থাকি এবং এটি অনেক সময়ে মিয়ানমারের পক্ষে নাও যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কার সঙ্গে কী যুদ্ধ, কার সঙ্গে মনোমালিন্য— এটা দেখা আমার দায়িত্ব না। আমার দায়িত্ব কে আমার দেশের উন্নয়নে আমাকে সহযোগিতা করছে, কে অবদান রাখছে এবং কার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে।’

অন্য খবর  ফিলিস্তিনি নার্সকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ

Comments

comments