মেয়ের বিয়ের পরদিন পরকীয়ার বলি মা, নবাবগঞ্জ থানাহাজতে ঘাতকের আত্মহত্যা

2930

নিউজ৩৯ প্রতিনিধি: শ্রীনগরে মেয়ের বিয়ের পরদিনই মায়ের পরকীয়ায় বলি হয়ে খুন হয়েছেন। এদিকে মংগলবার সন্দেহভাজন ঘাতক নবাবগঞ্জ থানাহেফাজতে আত্মহত্যা করেছে। জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের ঢালী বাড়ী এলাকায় মালয়েশিয়া প্রবাসী ইয়াকুব ঢালীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩২) নিখোঁজ হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেতলা খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার একটি বাঁশের ঝোপ থেকে রাজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজিয়া বেগমের পরকীয়া প্রেমিক আবুল মিস্ত্রির ছেলে মামুন (২৮)কে সোমবার বিকালে আটক করা হয়। ওই দিন রাতেই সে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়ার পরপরই থানাহাজতে পরনের লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে রাজিয়া বেগমের স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করে। এর আগে শুক্রবার দিন রাজিয়া বেগেমর মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রবাসী ইয়াকুব ঢালী তার বসতবাড়ি থেকে একটু দূরে হাঁসাড়া-আলমপুর সড়কের পাশে নতুন বাড়ি করেন। প্রায় ৪ বছর আগে বাড়িটি অটোরিকশার গ্যারেজ হিসাবে ভাড়া নেন ওই এলাকার জামাতা আবুল মিস্ত্রি (৫৫)। ইয়াকুবের স্ত্রী রাজিয়া বেগম প্রায়ই সেই বাড়িতে গোসল করতে যেত। এই সুযোগে আবুল মিস্ত্রি কৌশলে রাজিয়া বেগমের গোসলের চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় এবং তার সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে। বেশ কয়েকদিন আগে আবুল মিস্ত্রির ছেলে মামুনের হাতে তার বাবার মোবাইলটি পড়লে সে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত রাজিয়া বেগম ও তার বাবার অনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও দেখতে পায়। এটাকে কাজে লাগিয়ে মামুন রাজিয়া বেগমের মেয়ে সুমাইয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। এটা নিয়ে আবুল মিস্ত্রির সাথে তার স্ত্রী ও ছেলের হাতাহাতি হলে আবুল মিস্ত্রি ১১ দিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
রাজিয়া বেগম শনিবার সন্ধ্যায় তাদের নতুন বাড়িতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। গোসলখানায় ভেজা কাপড় পড়ে থাকতে দেখে অনেকেই ধারণা করেন সে আবুল মিস্ত্রির হাত ধরে পালিয়ে গেছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন একই সময় সেখানে মামুনের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তাকে খোঁজ করতে থাকে। কিন্তু মামুন তার ফোন কল রিসিভ না করায় সে কোথায় আছে তা জানা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামুন তার অটোরিকশা নিয়ে এলাকায় ফিরলে এলাকাবাসী তাকে ঘিরে ধরে। এসময় মামুনের সারা শরীর ও মোবাইল ফোনটি ভেজা ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে টহল পুলিশ উপস্থিত হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর এসে মামুনকে রক্ষা করে। সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজিয়ার লাশের ছবির খবর প্রচার হলে মামুন ও তার পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এসময় লস্করপুর এলাকার আব্দুল মামুনকে ধরিয়ে দেয়ায় রাজিয়ার পরিবারের লোকজনের ওপর চড়াও হয়। সোমবার রাত আটটার দিকে নবাবগঞ্জ থানার এসআই আঃ জলিল মামুনকে শ্রীনগর থানা থেকে নিয়ে যায়। তিনি জানান, রাতে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সে থানা হাজতের টয়লেটে গিয়ে পরনের লুঙ্গি খুলে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ প্রাপ্তির ঘটনাস্থল বিবেচনায় বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার মাদক ব্যবসায়ী ছেলেকে কারাদণ্ড

Comments

comments