মুন্সীগঞ্জে সরিষা ক্ষেতে চলছে মধু চাষ

488

হলুদে হলুদে সৌন্দর্যের সমারোহ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর। শ্রীনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বিস্তৃত দিগন্ত মাঠ জুড়ে আবাদ হয়েছে সরিষা চাষ। আর এ সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে মধুচাষিরা আসতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে সরিষা থেকে মৌমাছির সাহায্যে বাংলাদেশের বিখ্যাত মধু সংগ্রহকারী মধুমতি মৌচাষ প্রকল্পের সদস্যরা এসেছেন। তারা সারা বছরই দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মধু সংগ্রহ করেন। সরিষা থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কারণে ২০ ভাগ সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় মধু সংগ্রহের পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা বীরতারা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে মধু চাষিরা আসছেন। গত কয়েকদিন আগে সাতগাঁও গ্রামে মধু সংগ্রহে এসেছেন মধুমতি মৌচাষ প্রকল্পের সদস্যরা। তারা গত বছর সাতগাঁওয়ের সরিষার জমি থেকে ২ টন মধু সংগ্রহ করেন। এসেছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে মোহাম্মদ আলী মধুচাষ প্রকল্পের সদস্যরাও। মধুচাষিরা জানালেন, তারা সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহের জন্য চাকের বাক্স ফেলে রাখেন। সেই বাক্সে ১০-১৫টি পর্যন্ত মোম দিয়ে চাকের ফ্রেম রাখা হয়। বাক্সে একটি রানি মৌমাছি রাখা হয়। রানি মৌমাছির কারণে সরিষা ক্ষেতের পাশে চাকের বাক্স যেখানেই রাখা হোক না কেন ওই বাক্সে মৌমাছিরা আসতে থাকে। চাকের বাক্সের মধ্যখানের নিচে ছিদ্র করে রাখা হয়। সে পথ দিয়ে মৌমাছিরা আসা-যাওয়া করতে থাকে। সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের পর মৌমাছিরা চাকের বাক্সে আসে। সরিষা ফুল থেকে মৌমাছিরা নেকটার (পাতলা আবরণ) চাকের বাক্সে নিয়ে আসে। মৌমাছির তাপ ও বাতাসের মাধ্যমে ৬-৭ দিন পর তা গাঢ় হয়ে মধুতে পরিণত হয়। এরপর মধুচাষিরা চাকের বাক্স খুলে চাকের ফ্রেম থেকে মেশিনের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করেন। এবার সরিষায় ফুল ভালো ধরেছে। ফুল বাড়ার কারণে মধুও বেশি পাওয়ার আশা করছেন তারা। যতদিন পর্যন্ত সরিষায় ফুল থাকবে-ততদিন পর্যন্ত তারা সাতগাঁও থেকে মধু সংগ্রহ করবেন বলে মধুচাষিরা জানালেন।

অন্য খবর  কেরাণীগঞ্জে গাড়ী চাপায় যুবক নিহত

মোহাম্মদ আলী মধুচাষ প্রকল্পের কর্মচারী আবদুল আলিম ডালিম জানালেন, সরিষা ফুলে পরাগায়ন ঘটে। এতে সরিষায় ফলন বৃদ্ধি পায়। জমিতে মধু সংগ্রহ করায় সরিষা চাষিদের কোনো টাকা দিতে হয় না। মধুমতি মৌচাষ প্রকল্পের পরিচালক মো. পাবেল হোসেন জানালেন, তারা বংশ পরম্পরায় মধু উৎপাদন করে আসছেন। তারা সারা বছরই মধু সংগ্রহ করে থাকেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। বিদেশি প্রজাতির মৌমাছি আসায় সরিষা ক্ষেতে ভালো মধু পাওয়া যাচ্ছে। তারা জমিতে ৪শ’ টাকা কেজি দরে মধু বিক্রি করছেন।মতি মধু মৌচাষ প্রকল্পের কর্মচারীরা জানালেন, তারা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের সাতগাঁও গ্রামে ২ মাস ধরে মধু সংগ্রহ করবেন। এরপর চলে যাবেন শরীয়তপুর জেলায়। সাতগাঁও গ্রাম থেকে তারা কয়েক মণ মধু সংগ্রহও করেছেন। মতি মধু বিএসটিআইয়ের অনুমতি রয়েছে এবং জাতীয়ভাবে পুরস্কারও পেয়েছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে শ্রীনগর উপজেলায় ৩শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সাতগাঁও গ্রামর ৮৫ হেক্টর জমিতে এবার সরিষা চাষ হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ কুমার সরকার জানালেন, সরিষার সঙ্গে মধু চাষ করলে সরিষা উৎপাদন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। সঙ্গে সঙ্গে আমরাও বিষমুক্ত মধু পাচ্ছি।

অন্য খবর  শ্রীনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল

Comments

comments