মানিকগঞ্জে মুক্তিপণ নিয়েও হত্যা

40

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের কলেজছাত্র রাসেল নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর গত শনিবার উপজেলারই একটি গ্রামে তাঁর হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া গেছে। অথচ এর আগে অপহরণকারীরা দুই দফায় মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

এ ঘটনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৪) সদস্যরা রাসেলের বন্ধু ইমরানকে আটক করেছেন বলে একটি সূত্র জানালেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিঙ্গাইর থানা পুলিশ জানায়, সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের আনছার আলীর ছেলে রাসেল সাভার লিজেন্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। গত ২৬ নভেম্বর বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার বিন্না ডাঙ্গি গ্রামে অবস্থিত ওয়েস্ট টাউন নামের একটি আবাসন প্রকল্পের ভেতরে স্থানীয় শিশুরা খেলতে গিয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখে বড়দের জানায়। পরে সিঙ্গাইর থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাসেলকে বাড়ি থেকে তাঁর বন্ধু ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর গ্রামের আকমল মোল্লার ছেলে ইমরান ডেকে নিয়ে যায়। রাতে রাসেল বাড়ি না ফেরায় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পান।

অন্য খবর  হাসপাতালে ভর্তি কাদের সিদ্দিকী

পরদিন ইমরানের সঙ্গে রাসেলের পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে সে রাসেলের বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করে। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রাসেলকে না পেয়ে তাঁর বাবা আনছার আলী ঘটনার দুদিন পর সিঙ্গাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি তখন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানকেও (র‌্যাব-৪) জানানো হয়।
রাসেলের আত্মীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান জানান, নিখোঁজের কয়েক দিন পর রাসেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে একটি চক্র তাঁর বাবার নম্বরে একটি এসএমএস পাঠায়। তাতে বলা হয়, রাসেলকে অপহরণ করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ না দিলে তাঁকে হত্যা করা হবে। ওই চক্রের দাবি অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় ৩৫ হাজার টাকাও পাঠানো হয়। এরপর তারা আরো টাকা দাবি করে। এরই মধ্যে রাসেলের লাশ পাওয়া গেল।

সিঙ্গাইর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় রাসেলের বাবা আনছার আলী তাঁর ছেলের বন্ধু ইমরানসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে রাসেলের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে। তা ছাড়া লাশটি রাসেলের বলে পরিবার বললেও নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

অন্য খবর  ৩৫ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ইমরানের মামা রহিম বলেন, রাসেল হত্যার ঘটনায় ইমরানকে র‌্যাব আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে কোথা থেকে আটক করা হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Comments

comments