ভারতে ফিরলো অভিনন্দন বর্তমান

45
অভিনন্দন বর্তমান

পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়ে অবশেষে ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তান শুক্রবার ওয়াগা সীমান্তে তাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। গোটা ভারত তার অপেক্ষায় ছিল। সীমান্তেও তাকে স্বাগত জানাতে ব্যানার আর ফুলের মালা নিয়ে জড়ো হয় কয়েকশ’ মানুষ। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফিরে এলেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ সীমান্তে দেখা গেছে সেই দৃশ্য। ফিরে এসেই অভিনন্দন বলেছেন, “দেশে ফেরত এসে ভাল লাগছে।” তাকে এখন বিমানে করে রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।

এর আগে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দিতে শুক্রবার সকালে ইসলামাবাদ থেকে সড়কপথে তাকে লাহোরে নিয়ে যায়। সেখান থেকেই তাকে নেওয়া হয় ওয়াগা-আতারি সীমান্তে। বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে করে ওয়াগায় পৌঁছানোর পর অভিনন্দনের ডাক্তারি পরীক্ষা করে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলেকে আনতে ওয়াগা সীমান্তে সকালেই পৌঁছান অভিনন্দনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এস বর্তমান এবং মা শোভা বর্তমান। ভারতীয় বিমান এবং সেনা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও সীমান্তে পৌঁছান। অভিনন্দনের দেশে ফেরাকে ঘিরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয় সেখানে।

ভারতের মাটিতে পা রাখার পরই উইং কমান্ডার অভিনন্দনের উদ্দেশে টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘অভিনন্দন বর্তমান ভারতের গর্ব,’ বলেন তিনি।

এর আগেও অভিনন্দনের প্রশংসায় মোদী বলেছিলেন, “প্রত্যেক ভারতীয়ের গর্ব করা উচিত যে বাহাদুর উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন তামিলনাড়ুর ছেলে।”

অন্য খবর  নওয়াজের দ্বিগুণ আসন পেয়েছেন ইমরান

অভিনন্দনের সাহসিকতাকে স্যালুট”, বলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালও। ওদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লিখেছেন, ‘স্বাগত অভিনন্দন বর্তমান’।

অভিনন্দন গত বুধবার পাকিস্তানে ধরা পড়েন:

পাকিস্তান বুধবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করার পর বিমানটির উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে আটক করে। অভিনন্দনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে পাকিস্তানের আইএসপিআর। এরপর ভারত সরকার এক বিবৃতিতে তাকে দ্রুত এবং নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রথমে জানায়, অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দিলে যদি সংঘাত এড়ানো যায় তাহলে তারা তাকে ফেরত দেবে। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও শান্তির বার্তা দিতে পাইলটকে শুক্রবারেই মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

দেশে ফিরে এলেও পরীক্ষায় পড়তে পারেন অভিনন্দন:

পুরনো মিগ-২১ নিয়ে অত্যাধুনিক পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬কে তাড়া করে সেদেশে ঢুকে পড়ে বীরত্ব দেখানোর জন্য প্রশংসার পাত্র অভিনন্দন। কিন্তু শত্রুদেশের হেফাজত থেকে ফেরার কারণে এখন জেরার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে।

তিনি কেমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন তার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা। বলেছেন, ওয়াগা সীমান্ত থেকেই বাড়ি ফিরতে পারবেন না অভিনন্দন। বরং সেখান থেকে তাকে নেওয়া হবে বিমান বাহিনীর গোয়েন্দাদের কাছে।

বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে। তার শরীরে আড়িপাতার কোনো কোনও চিপ বসানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। মনোবিদের কাছেও নেওয়া হবে অভিনন্দনকে।

পাকিস্তানে পা রাখা থেকে ওয়াগা সীমান্ত পার হওয়া পর্যন্ত প্রতি মুহুর্তের সবিস্তার বর্ণনা গোয়েন্দাদেরকে দিতে হবে অভিনন্দনকে। তার সঙ্গে থাকা কোন কোন নথি তিনি নষ্ট করতে পেরেছেন এবং কী কী নথি পাক সেনাদের হাতে পৌঁছেছে তারও তালিকা তৈরি করা হবে।

অন্য খবর  সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

পাক সেনাবাহিনী সম্পর্কে অভিনন্দন যা বলেছেন:

পাকিস্তান টিভিতে প্রচারিত বক্তব্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বলতে শোনা গেছে কীভাবে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে পাকিস্তানি সেনারা তাকে উদ্ধার করেছে সেকথা।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তার সঙ্গে ভাল আচরণ করেছে উল্লেখ করে অভিনন্দন বলেছেন, শান্তির সুযোগ আছে বলেই তিনি মনে করেন।

একইসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন অভিনন্দন। বলেন, তারা সবসময় বাড়িয়ে বলে এবং হানিকারক বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে।

‘হিরো’ ইমরান, ‘ভিলেন’ মোদী:

একটি মাত্র সিদ্ধান্ততেই নাটকীয় মোড় নিয়েছে কাশ্মীর ইস্যু। অভিনন্দনকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে যেন রাতারাতি ‘হিরো’ হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। স্যোশাল মিডিয়ায় অনেকেই তার প্রসংশা করছেন। ইমরানকে ‘প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন অনেকে। অন্যদিকে নানা প্রশ্ন আর সমালোচনা ঝড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবস্থা হয়েছে ভিলেনের মতোই।

গত কয়েকদিনে যে যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা চলেছে আর এ নিয়ে মানুষের যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে তা ভারতে লোকসভা ভোটের আগে মোদীর ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জনসমর্থন বাড়ারই লক্ষণ বলে মনে করা হচ্ছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেভাবে ভিন্ন মোড় নিল তাতে নিজ দেশেই মোদীকে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে।

ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টায় আসন্ন নির্বাচনে ভোট বাগাতে যুদ্ধের রাজনীতির অভিযোগ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

Comments

comments