বেসরকারি স্কুল-কলেজ কমিটির সভাপতি পদে এমপি নয়: হাইকোর্ট

710
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

বাংলাদেশের সকল বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পরিষদে স্থানীয় এমপির সভাপতি পদে মনোনীত হওয়ার বিধান বাতিল করে হাই কোর্ট  এক রায় ঘোষণা করেছে। হাইকোর্টের রায়ে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কমিটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে করে নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদকে দায়িত্ব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১ জুন এই রায় দেয়, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ  রোববার প্রকাশিত হয়েছে।

এ রায়ের আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সব আইন ৬০ দিনের মধ্যে সংশোধন করতে শিক্ষা সচিব, আইন সচিব ও ঢাকা বোর্ডেকে  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ ওই রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়ে  জানিয়েছেন, এ রায়ে হাই কোর্ট ১২ দফা নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ পরিচালনার জন্য গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর “বিশেষ কমিটি” গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ চলতি বছর এই রিট আবেদনটি করেন। তিনি তার যুক্তিতে উল্লেখ করেন,  বিধান অনুসারে এডহক কমিটির মেয়াদ ছয় মাস। অথচ ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ এ পর্যন্ত চার বার এডহক ও দুই বার বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

অন্য খবর  ছয় মাস স্থগিত খালেদার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কার্যক্রম

ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্ট রুল দেয়। রুলে ওই কমিটি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এরপর ২০০৯ সালের মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা এর ৫ ও ৫০ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক আবেদন করেন ইউনুছ আলী আকন্দ।

সম্পূরক ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ৬ এপ্রিল আরেকটি রুল দেয় হাই কোর্ট। এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১ জুন বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়।

হাই কোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষ ৮ জুন চেম্বার আদালতে গেলে চেম্বার বিচারপতি স্থগিতাদেশ না দিয়ে বিষয়টি শুনানির জন্য ১২ জুন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। কিন্তু বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারকের বেঞ্চ ১২ জুন “নো অর্ডার” ঘোষণা করলে হাই কোর্টের রায়ই বহাল থেকে যায়।

Comments

comments