শুধু ছোট্ট সোনামনিরা নয়, বৃদ্ধ বাবা-মাও যেন আদর যত্ন পায়

40
বৃদ্ধ বাবা-মাও যেন আদর যত্ন পায়

বাবা মায়ের কাছে সন্তানের ঋণ কখনো পরিশোধ হবার নয়। আমাদের সবারই উচিত আমৃত্যু বাবা –মায়ের পাশে থাকা, তাদের সেবা যত্ন করা। কিন্তু নির্মম হলেও সত্য, সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যারা তাদের বৃদ্ধ বাবা- মা কে দেখাশুনা করেন না। অসহায় এই  বৃদ্ধ বাবা মা জীবন সায়াহ্নে এসে নিদারুণ কষ্টে বেচে থাকেন। সমাজের এই লজ্জাজনক অধ্যায়কে দূর করতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন নামে একটি আইন পাশ করেছে। যেখানে পিতা-মাতা বৃদ্ধ বয়সে যাতে সন্তান কর্তৃক অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন সে বিষয়ে কিছু বাধ্য-বাধকতার নির্দেশ দিয়েছে। আজ আমরা পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩ নিয়ে কিছু তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরব:

এই আইনে সন্তান বলতে পিতার ঔরসে এবং মাতার গর্ভে জন্ম নেওয়া সক্ষম ও সামর্থ্যবান পুত্র বা কন্যাকে বুঝানো হয়েছে ।

ধারা ৩ উপধারা ১ অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। আইনের ৩ ধারার ২ ও ৩ উপধারা অনুযায়ী একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যকে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করবে এবং তাদের একইসঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করবে। ৩ ধারার ৪ উপধারা অনুযায়ী পিতা বা মাতা অথবা তাদের উভয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করবে না। ৫ উপধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করবে। এই ধারায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিতা-মাতার সাথে নিয়মিত সাক্ষাত করতে  এবং কোন পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করে পৃথকভাবে বসবাস করলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতাকে নিয়মিত প্রদান করার বাধ্যকতা দেয়া হয়েছে।

পিতা বা মাতার অবর্তমানে অর্থাৎ পিতা মাতা মারা গেলে, দাদা-দাদী অথবা নানা-নানি জীবিত থাকলে এই আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী তাদের কে ও ভরণপোষণ দিতে হবে।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড: ৫ ধারার ১ উপধারা অনুযায়ী কোন সন্তান ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান বা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

দন্ড শুধুমাত্র সন্তানের জন্য নয়, এমনকি কোন পুত্র বধূ বা মেয়ের জামাই অথবা অন্য কোন নিকট আত্নিয় যদি পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে সন্তানকে বাধা প্রদান করেন বা ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করেন তাহলে তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ৫ ধারার ১ উপ-ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য পিতা-মাতাকে লিখিত ভাবে আদালতে অভিযোগ করতে হবে।

আমি মনে করি এই আইন প্রনয়ন করাই সমাজের জন্য একটি লজ্জাজনক বিষয়। সেখানে যদি কোন পিতা-মাতা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, সেটা হবে তার সন্তানেরজন্য চরম অপমান ও মানুষ হিসেবে ঐ সন্তানের পরিচয় হারিয়ে ফেলার মত ঘটনা।

লেখক: এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

ছবিসূত্র: pexels.com

Comments

comments